হরোস্কোপ
লেখক-সন্দীপ
হরোস্কোপে বিশ্বাসি আমি, চিএ দেখে রই,
রাহু নাকি তুঙ্গে আমার, ভয়ে ভেবে রই।
সারা শরীর কাঁপছে আমার, কাঁপছে আমার মন,
কোন আংটি পড়বো এবার! নাকি পড়বো কোনো কবচ!
জীবন আমার নুইয়ে গেছে, মন গেছে শশ্মানে,
শীতল হাওয়া বইছে মনে, গরম লাগে বাইরে।
এবার হঠাৎ করে পিছন থেকে ধমক এলো, পড়তে এবার বয়।
না পড়লে হবি ফেল,লাগবে বেশি ভয় ।
শোনা মাএ এসব কথা মনে এলো রাগ, পড়তে বসে কি হবে বাবা; জীবনে আসবে বাঁধা।
হবে না গো বিয়ে বাবা, না পাবো গো কোনো পাএী,
চিরকুমার হয়ে থেকে যাবো, আর খাবো শুধু চাটনি।
পিছন থেকে এবার এেলো বজ্র মুঠো প্রহার , গেলাম আমি উল্টে পড়ে,উল্টে গেলো মাথা।
না পড়লে খাবি মার, পাবি না কোনো চাকরি,
চাকরি না পেলে হবে না গো বিয়ে হবে, সেটাই হবে কালরাএি।
পড়লি এতো জ্ঞানের পড়া, নাম্বারও পেলি এতো,
শিক্ষা তোমায় এটাই কি শেখালো? ইলিটারেট এর মতো!
শোন বাবা মন দিয়ে তবে, নাও তুমি কৃষ্ণের নাম,
পাশে যখন কৃষ্ণ আছে, তখন কিসের এত ডরা।
বলো শুধু রাধে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ গৌরহরিবোল,
ফাড়া তোমার কেটে যাবে, বাজবে সানাই বাজনা।
শুক্র ঘোরে নিঃশব্দে, প্লুটো ঘোরে ভন ভন,
ওদের কোন দোষ নেই বেটা , তবে পেটের কেন এত অনশন।
নিজের ভাগ্য নিজেই লিখবে , কারন মাথার উপর আছে ইশ্বর,
ওসব গুনিন টুনিন চলবে না আর, চলবে না কোন হরোস্কোপ।
গুনিন নিজেই অল্প জানে, স্বল্প তার জ্ঞান,
অতি লোভে তাতি নষ্ট, সব পয়সা শেষ।
জগৎ এ তুমি কি বা দেখলে,কতই তোমার পরিধি,
পড়ো, খাও, রহো মস্ত এটাই হবে উপলব্ধি।
হঠাৎ আমার কি যে হলো, কমে গেলো ভয়,
কইলাম রাধে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ রাধে
বলো গৌরহরিবোল।
শ্যামের বাঁশি বাজল এবার, ভয় গেলো উবে,
মাথার মধ্যে এেলো চেতনা, ভয় গেলো নিভে ।
কিন্তু তবুও বলবো, রেখো অল্প বিশ্বাস,
না হলে চলবে না গো ওদেরও সংসার।
পেটের দায়ে এসব করে,করে না কোন সংকোচ,
একটি বার হাত দেখিও, বলে দিবে যে ভবিষ্যৎ।