হিন্দু ধর্ম: এক স্বয়ম্ভূ জীবনশৈলী
-------------------------------------------
হিন্দু ধর্ম কোনো রিলিজিয়ন নয়,
কোনো নামমাত্র আচার নয়,
এটা মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির শাশ্বত
সম্পর্কেরই আরেক নাম।
এ ধর্ম জন্মেছে ভোরের প্রথম আলো থেকে,
সন্ধ্যার ঘুঘুর ডাক থেকে,
পৃথিবীর মাটির গন্ধ থেকে,
বটগাছের ছায়া থেকে,
তুলসী পাতার তাজা সুবাস থেকে।
তাই এর কোনো ফাউন্ডার নেই।
কারণ প্রকৃতিকে সৃষ্টি করতে যেমন
মানুষের প্রয়োজন হয় না,
তেমনি হিন্দু ধর্মকেও গড়তে প্রয়োজন হয়নি
কোনো একক ব্যক্তির।
সে নিজেই জেগেছে মানুষের হৃদয়ে,
নিজেই বিস্তার লাভ করেছে
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে।
এই ধর্মের নেই কোনো একক গ্রন্থ।
বেদ আছে, উপনিষদ আছে,
পুরাণ আছে, গীতা আছে—
সব মিলিয়ে তারা হলো
অসীম আকাশের অসংখ্য তারার মতই ।
যুগে যুগে নতুন আলো জ্বলে ওঠে,
কোনো আলোই নিভে যায় না,
কারণ সত্য কখনোই নিভে যেতে পারে না।
গীতা বলেছে— "সম্ভবামি যুগে যুগে।"
তাই হিন্দু ধর্মের প্রাণশক্তি হলো অভিযোজন।
সে শিখেছে নৃসিংহের গর্জন থেকে,
শিখেছে বুদ্ধের করুণা থেকে,
শিখেছে কম্পিউটারের লজিক থেকে,
শিখবে এআই-এর জ্ঞান থেকেও।
যুগ বদলেছে, কিন্তু হিন্দু ধর্মের শিকড়
রয়ে গেছে একই—
প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা।
"বসুধৈব কুটুম্বকম" শুধু কোনো মন্ত্র নয়,
এটা এক বিশ্বাস, এক অঙ্গীকার।
এ পৃথিবীই পরিবার,
তাই পাথরও তুচ্ছ নয়,
এক ফোঁটা জলও অমূল্য।
তাই বৃক্ষকে প্রণাম, নদীকে পূজা,
তাই তুলসীর পাতায় দেবতাকে আহ্বান।
হিন্দু ধর্ম একমাত্র এমন এক ধর্ম
যার কোনো মা-বাবা নেই।
কারণ সে নিজেই নিজের জন্মদাতা,
নিজেই নিজের সন্তান।
সে বারবার ভেঙে যায়,
আবার নতুন রূপে জেগে ওঠে।
কখনো রামায়ণের অগ্নিপরীক্ষায়,
কখনো মহাভারতের কুরুক্ষেত্রে,
কখনো বৈষ্ণবের কীর্তনে,
কখনো বৈদান্তিকের ধ্যানমগ্ন নীরবতায়।
এ ধর্ম থেমে থাকে না,
এটা সেই নদীর মতই—
যা পাহাড় থেকে ছুটে এসে
শত শত গ্রাম-শহর ছুঁয়ে সমুদ্রে মিশে যায়।
যুগে যুগে, কালে কালে,
হিন্দু ধর্ম বয়ে চলে—
মানুষের অন্তরে,
প্রকৃতির শ্বাসে,
সত্যের অনন্ত দীপশিখায়।
হিন্দু ধর্ম কোনো নিয়মের বেড়াজাল নয়।
এ এক অবিরাম যাত্রা,
অসীমের পথে,
প্রকৃতির সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে,
যুগে যুগে, অনন্তকাল।