তুমি কি আমার দুঃখের ছায়া?
**************************
তুমি কি সেই সন্ধ্যার নরম আলো,
যেখানে দিনের ক্লান্তি এসে থেমে যায়?
নাকি তুমি সেই নীরবতার শব্দ,
যা একা ঘরে বসে বুক ভরে শোনা যায়?
তুমি কি আমার চোখের কোণে জমে থাকা
অপ্রকাশিত কথাগুলোর ভিড়?
যেগুলো বলতে চেয়েও বলা হয় না কখনো,
শুধু চুপচাপ থেকে যায় অদৃশ্য নীলচে দাগ হয়ে।
তুমি কি সেই রাত,
যে রাত গভীর হলে আরও একা লাগে?
যেখানে প্রতিটা নিঃশ্বাসে তোমার নাম আসে,
তবুও তোমাকে ছোঁয়া যায় না কোনোভাবে।
তুমি কি আমার স্বপ্নের ভিতরে লুকিয়ে থাকা
অচেনা কোনো মানুষ?
যে কাছে এলেই সবকিছু ভেঙে যায়,
তবুও তাকে হারাতে মন চায় না একটুও।
তুমি কি সেই ফোনের ওপারের কণ্ঠ,
যা শুনলেই বুকটা হালকা লাগে?
নাকি তুমি সেই অজানা নীরবতা,
যেখানে কথার থেকেও বেশি কিছু বলা থাকে?
তুমি কি সেই বৃষ্টিভেজা জানালার কাচ,
যেখানে আঙুল দিয়ে তোমার নাম লিখি?
আর একটু পরেই মুছে যায় সব—
যেন তুমি ছিলে, আবার ছিলে না কখনোই।
তুমি কি আমার ভেতরের শূন্যতা,
যা ধীরে ধীরে আমাকে গ্রাস করে?
নাকি তুমি সেই অদ্ভুত শান্তি,
যা কষ্টের মাঝেও আমাকে বাঁচিয়ে রাখে?
তুমি কি সেই দরজাটা,
যা কখনো পুরো খুলে না—
শুধু অল্প একটু ফাঁক দিয়ে
আশার আলো দেখিয়ে আবার বন্ধ হয়ে যায়?
তুমি কি আমার অপূর্ণ গল্পের শেষ লাইন,
যেটা লিখতে গিয়ে বারবার থেমে যাই?
নাকি তুমি সেই প্রশ্ন,
যার উত্তর আমি খুঁজে পাই না কোনোদিনই?
তুমি কি আমার দীর্ঘ প্রতীক্ষার নাম?
নাকি তুমি সেই অপেক্ষা,
যার শেষ নেই—
তবুও আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করি।
তুমি কি আমার বুকের ভেতরে জমে থাকা
নীরব চিৎকার?
যা কেউ শোনে না,
শুধু আমি নিজেই অনুভব করি।
তুমি কি সেই অদ্ভুত অনুভূতি,
যা ব্যথা দিয়েও ভালো লাগে?
নাকি তুমি সেই ভুল,
যা জানি ভুল—তবুও ছাড়তে পারি না?
তুমি কি আমার সব হারানোর পরেও
থেকে যাওয়া শেষ স্মৃতি?
নাকি তুমি সেই মানুষ,
যে কোনোদিনই পুরোটা আমার ছিল না?
তুমি কি আমার—
নাকি আমি শুধু তোমার কল্পনায় বেঁচে আছি?
তুমি কি সত্যিই আছো,
নাকি তুমি শুধু আমার একাকীত্বের সৃষ্টি?