Mayador - 7 in Bengali Love Stories by Rayhana Yasmin Ray books and stories PDF | মায়াডোর - পর্ব 7

Featured Books
Categories
Share

মায়াডোর - পর্ব 7

রাত বাড়লে শহর নিঝুম হয়, কিন্তু মনের ভেতরের কোলাহল কি কমে। মেহুল সারারাত বেলকেনিতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়েই কাটিয়ে দিয়েছে। আকাশের কোনে ম্লান চাঁদ টা ওর একাকিত্বের সাক্ষী হয়ে রইলো।ভোরের হালকা আলো যখন ওর ফ্যাকাসে মুখে পড়লো, তখন ওর চোখের কোনে শুকিয়ে যাওয়া পানির দাগ। ওর মনে বারবার একটা প্রশ্নই বিষাক্ত সাপের মতো ফণা
 তুলছে— "আদি ভাইয়া যদি অন্য কাউকেই ভালোবাসে, তবে আমার ওপর কেন এতো অধিকার দেখায়? কেন আমাকে নিয়ে সবসময় এতো সিরিয়াস থাকে? কেন এই মিথ্যে মায়ার বাঁধনে আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়েছে? 
কাল রাতে আদ্রিয়ান কতবার দরজায় কড়া নেড়েছিল। ওর সেই গম্ভীর স্বর— " মাইরা দরজা খোল। খাবার নিয়ে এসেছি।" মেহুল খোলেনি! শুধু আদ্রিয়ান নয় ফুফু ও আংকেলও এসেছিলেন। কিন্তু মেহুলের সেই এক কথা— "খিদে নেই।" আসলে পেটের খিদে তো মনের যন্ত্রণার কাছে নস্যি।
সকালে বাড়িতে এক বিষন্ন বিদায়ের সুর। মেহুলের পরিবার আর আদ্রিয়ানের ফুফুরা যে যার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলেন। মেহুল যান্ত্রিক ভাবে সবাইকে বিদায় দিয়ে আবার নিজের ঘরে খিল আঁটলো। এর মাঝে আদ্রিয়ান বারবার চেষ্টা করেছে ওর সাথে কথা বলার, কিন্তু মেহুল বারবারই ওকে এড়িযে গেছে। আদ্রিয়ানের অস্থিরতা তখন আকাশচুম্বি। ও কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না, মেহুলের হঠাৎ বদলে যাওয়ায় উৎস কোথায়। একদিকে মেহুলের পাথুরে মৌনতা, আর একদিকে সেই বহু সখের নূপুর জোড়া— যা ও আলাদা করে রেখেছিলো মেহুলকে নিজে হাতে পড়াবে বলে— সেটাও এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না। আদ্রিয়ান প্রথমে ভেবেছিলো মেহুলই হয়তো দুষ্টামি করে করে ওটা নিয়েছে, কিন্তু কাল থেকে মেহুল তো ওর ঘরের ছায়াও মাড়ায়নি। এক অজানা আশঙ্কায় আদ্রিয়ানের বুঁকের ভেতরটা শিশির করে উঠছিলো।
দুপুরে খাবার টেবিলে এক অদ্ভুদ নিস্তব্ধতা। মেহুলের ঠিক সামনেই বসেছে আদ্রিয়ান। মেহুল একবারও তাকাচ্ছে না, ভাতের থালার দিকে তাকিয়ে যান্ত্রিক ভাবে নাড়াচাড়া করছে। আদ্রিয়ানের গলা দিয়ে খাবার নামছে না; মেহুলার এই ম্লান মুখ দেখে ওর কলিজায় টান পড়ছে। কাল থেকে আদ্রিয়ানও মেহুলের মতো কিছু খাইনি। নিশিতা চৌধুরী চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন—
" কি রে মেহুল, শরীর খারাপ? কাল থেকে কেমন চুপচাপ হয়ে গেছিস, ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া করছিস না।"
মেহুল মাথা না তুলেই খুব নিচু স্বরে উত্তর দিলো— " না ফুফুফু শরীর ঠিক আছে।"
ঠিক তখনই আফতাব চৌধুরী গুরু গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন— " মেহুল মা, তোর যা যা প্রয়োজনীয় জিনিস আছে সব গুছিয়ে নিবি।"
মেহুল কোনো পাল্টা প্রশ্ন করলো না, শুধু ছোট্ট করে বললো— " ঠিক আছে আংকেল।" 
আদ্রিয়ান আর স্থির থাকতে পারলো না। ওর ভেতরে একটা অজানা ভয় কাজ করছে। ও অস্থির হয়ে জিজ্ঞাসা করলো— "কেন? ও কোথায় যাবে?"
আফতাব চৌধুরী হাসি মুখে বললেন— "শুধু ও নয়, আমরাও সবাই যাচ্ছি। তোর ফুফুর বাড়ি, আজ বিকেলেই। কাল অনেক করে বলেছিলো। আজও বলে গেছে। তাই ভাবলাম সবাই মিলে কদিনের জন্য ঘুরে আসি।"
আদ্রিয়ান যেন এতোক্ষনে একটা স্বস্থির নিঃশাস ফেললো।
কিন্তু মেহুল এবার মাথা তুললো। ওর চোখে এক অদ্ভুদ জেদ। ও আংকেলের দিকে তাকিয়ে বললো— " বলছি আংকেল, আমি শিলিগুড়ি থেকে কদিনের জন্য ঘুরে আসি না। তোমরা যাও না রাবেয়া ফুফুর বাড়ি, আমি না হয় ওই বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।"
মেহুলের কথা শুনে নিশিতা চৌধুরীর কপালে ভাজ পড়লো। তিনি কিছুটা গম্ভীর হয়ে বললেন— " কেন মেহুল? তোর হঠাৎ আবার ওই বাড়ি যাওয়ার শখ জাগলো কেন?" 
মেহুল অত্যন্ত নরম স্বরে বললো— অনেক বছর তো যাওয়া হয়নি ওই বাড়ি।তাই বললাম।"
আদ্রিয়ান শুধু নিঃশব্দে দেখছে, ওর শুধু মনে হচ্ছে ওর বুঁকের ভেতর থেকে যেন খুব মূল্যবান জিনিসটা সরে যাচ্ছে।
আফতাব চৌধুরী ধমক দিয়ে বললেন— "পরে যাবি, এখন আমাদের সাথে চল। পরে আমি তোকে নিজে দিয়ে আসবো। মেহুল আর কথা বাড়ালো না, শুধু মাথানিচু করে বললো— " ঠিক আছে।"
খাওয়া শেষ করে ও নিঃশব্দে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলো।আদ্রিয়ান ওর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইলো। মনে হলো আজ সে যেন কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলেছে।

বিকেলের পড়ন্ত রোদে ফুফুর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে সবাই তৈরী। সবাই নিচে নেমে এসেছে, শুধু মেহুলের দেখা নেই। কিছুক্ষন পরে মেহুলও নিচে নেমে এলো, ওর পরনে একটা কালো রঙের সালোয়ার কামিজ আর সাদা রঙের হিজাব এছাড়া আর কোনো সাজগোজ নেই একদম সাধারণ। ও সোজা গাড়ির পেছনের সিটে গিয়ে বসে পড়লো। যে মেয়েটা সবসময় সামনে বসবে বলে ঝগড়া বাধিয়ে দেয়, সেই মেয়ে আজ টু শব্দটিও করলো না। কি কারণ? আফতাব চৌধুরী সামনে বসবেন বলে নাকি ও আদ্রিয়ানের পাশে বসতে চাই না।
সামনে বসেছেন আফতাব চৌধুরী, আর পেছনে মেহুল, আরাধ্যা আর নিশিতা চৌধুরী। আর ড্রাইভিং সিটে আদ্রিয়ান। সন্ধ্যার আবছা অন্ধকারে ওরা পৌঁছালো বর্ধমানে। গাড়িটা যখন কার্জন গেট পেরিয়ে খোসবাগানের দিকে ঢুকলো, মেহুলের মনে হলো ও কোনো এক পুরোনো রাজকীয় উপন্যাসের পাতায় ঢুকে পড়েছে। চারপাশের বড় বড় গাছ আর বনেদি বাড়িগুলো যেন এক একটা রহস্য বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু মেহুলের মুখে কোনো বিস্ময় নেই, শুধু একরাশ দীর্ঘশ্বাস।
ফুফুর বাড়ির কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুললো সারা। ওর মুখে চওড়া হাসি। মেহুল ভেতরে পা রাখতেই ওর চোখ গেলো সারার পায়ের দিকে। মহুর্তেই ওর রক্ত হীম হয়ে গেলো। আদ্রিয়ানের আলাদা করে রাখা সেই নুপুরটি এখন সারার পায়ে ঝকঝক করছে। মেহুলের সন্দেহ এবার বিশ্বাসে বদলে গেলো। ওর ইচ্ছা করছিলো চিৎকার করে কাঁদতে, কিন্তু ও শুধু ঠোঁট কামড়ে নিজেকে সালালো। শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে ও সোজা ওপরে চলে গেলো। ওকে থাকতে দেওয়া হলো সারার ঘরেই।
আদ্রিয়ান নিজের রুমে গিয়ে ক্লান্তিতে চোখ বুঝছিলো। ঠিক তখনই সারা আদিখ্যেতা করে আদ্রিয়ানের জন্য তোয়ালে নিয়ে এসে, ওকে ডাক দিলো— "ভাইয়া আসবো।"
 "আয়"। আদ্রিয়ানের স্বরে রাজ্যের বিরক্তি।
"ভাইয়া এই নাও টাওয়াল।" 
"ওখানে রেখে দে।" আদ্রিয়ান ওর দিকে না তাকিয়েই বললো।
সারা যখন চলে যাচ্ছিলো, আদ্রিয়ানের চোখ হঠাৎ ওর পায়ের দিকে গেলো। নূপুরের সেই পরিচিত চিকচিক দেখে আদ্রিয়ান গর্জে উঠলো— "এই দাঁড়া।"
সারা থমকে গেলো। আদ্রিয়ান চোখ রাঙিয়ে বললো— "তুই এই নূপুর কোথায় পেলি?"

সারা আমতা আমতা করে বললো— " ইয়ে মানে ভাইয়া...!"
"চুপ...! তোর সাহস হয় কি করে, বিনা অনুমতিতে আমার রুমে ঢুকে না বলে এই নুপুরের হাত দেওয়ার।" 
সারা ঠোঁট উল্টে বললো— " আমি ভাবলাম তুমি আমার জন্যই এনেছো।"
আদ্রিয়ান এবার কিছুটা ধমকের সুরেই বললো— তুই ভাবলেই তো আর হবে না। খোল এটা, এক্ষনি খোল।"
সারা এবার কিছুটা ভয়ে ভয়েই বললো— থাক না ভাইয়া, আমি এটা পড়ি না।"
আদ্রিয়ান এবার চিবিয়ে চিবিয়ে বললো— "আমি তোকে খুলতে বলেছি সারা।"
শেষে উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে সারা নুপুরটা খুললো। নূপুরটা খোলার সাথে সাথেই আদ্রিয়ান এক ঝটকায় ওর কাছ থেকে নিয়ে, ছিঁড়ে ফেলে দিলো। আদ্রিয়ান আবারও গর্জে উঠলো— "এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেন এখানে, যা এখান থেকে।"
সারা ঘর থেকে বের হতেই আদ্রিয়ান নিজের মাথার চুল টানতে শুরু করলো। ওর আর বুঝতে বাকি রইলো না, মেহুল কেন কাল থেকে ওকে এড়িয়ে চলছে।

ফ্রেস হয়ে নিচে নেমেই আদ্রিয়ান দেখলো মেহুল একাই বসে আছে, ওর চোখে এক অদ্ভুত শুন্যতা। আদ্রিয়ান গিয়ে মেহুলের ঠিক গা ঘেঁষেই বসল। মেহুল বিদ্যুৎবেগে উঠতে গেলে আদ্রিয়ান শক্ত করে ওর হাত ধরে ওকে আবারও সোফায় বসিয়ে দিলো। আদ্রিয়ান অত্যন্ত নরম আর ব্যাকুল সুরে মেহুলকে বললো—
 "তোর সাথে আমার কথা আছে।"
মেহুল ওর দিকে না তাকিয়েই বড়োফশীতল গলায় উত্তর দিলো—
"আমার তোমার সাথে কোনো কথা নেই।"
বলেই এক হেঁচকা টানে হাত ছাড়িয়ে গটগট করে সিঁড়ি দিয়ে উপরে চলে গেলো।
মেহুলের চলে যাওয়ার পথের দিকে বিষণ্ণ চোখে তাকিয়ে রইল আদ্রিয়ান। বুকের ভেতরটা তপ্ত মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করছে। ও মনে মনে ভাবল, আর না! অনেক হয়েছে। এই মৌনতা ভাঙতে না পারলে মেহুল ওর থেকে যোজন যোজন দূরে সরে যাবে। এই দূরত্ব আর বাড়ানো যাবে না। কিছু একটা করতেই হবে, আজই, এখনই।

আদ্রিয়ানও পা বাড়াল ওপরের তলার দিকে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ওর হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি নিজের কানেই শুনতে পাচ্ছিল ও। ওপরতলায় করিডোর ধরে এগোলে প্রথমে আদ্রিয়ানের ঘর, তারপর সারার ঘর—যেখানে এখন মেহুল থাকছে। আদ্রিয়ান দ্রুত পায়ে মেহুলকে পাশ কাটিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে গেল। মেহুল যখন আনমনে ওর ঘরের দরজাটা পার হতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এক জোড়া শক্তিশালী হাত ওকে হেঁচকা টানে ঘরের ভেতরে টেনে নিল। মেহুল আর্তনাদ করার আগেই আদ্রিয়ানের এক হাতের তালু ওর মুখ চেপে ধরল, আর অন্য হাতে ও ঝটপট দরজার ছিটকিনিটা তুলে দিল।

মেহুলকে দেয়ালের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল আদ্রিয়ান। ওর চোখের মণি দুটো রাগে আর যন্ত্রণায় জ্বলছে। ও দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করল, "তোর সমস্যাটা কী মাইরা? কাল থেকে কেন আমায় এভাবে ইগনোর করছিস তুই?"

মেহুল এবার তেজি ভঙ্গিতে আদ্রিয়ানের হাত সরিয়ে দিয়ে ঝাঁঝালো গলায় বলল, "তোমার সমস্যা কী ? কেন আমাকে এভাবে বিরক্ত করছো ? থাকতে দাও না আমায় আমার মতো!"

আদ্রিয়ান ওর গলার স্বর কিছুটা নামিয়ে ধরা গলায় বলল, "দেখ মাইরা, তুই যেটা ভাবছিস সেটা একদম সত্যি নয়! তুই ভুল বুঝছিস আমায়।"

"কী ভুল বুঝছি আমি? যা দেখেছি তা-ও কি মিথ্যে?" মেহুলের কণ্ঠে তখন কান্নার সুর মেশানো তাচ্ছিল্য।

"আমি সারার জন্য ওই নূপুর কিনিনি, বিশ্বাস কর আমায়!" আদ্রিয়ানের কণ্ঠে এক অদ্ভুত আর্তি।

মেহুল এবার অবজ্ঞার হাসি হেসে বলল, "তবে কার জন্য কিনেছিলে? ওর জন্য যদি না-ই কিনবে, তবে ওটা সারার পায়ে গেল কী করে?"

আদ্রিয়ান মেহুলের চোখের একদম গভীরে তাকিয়ে ধীর স্থির গলায় বলল, "আমি ওটা তোর জন্য কিনেছিলাম মাইরা। ইচ্ছে ছিল তোকে নিজে হাতে পরি......!!" 

আদ্রিয়ান কথাটি আর সম্পূর্ণ করলো না। মেহুলের দুচোখে তখন রাজ্যের বিস্ময়। ও অস্ফুট স্বরে বলল, "তাহলে ওটা ওর কাছে গেল কী ভা....!!

মেহুলকে কথা শেষ করার সুযোগ দিল না আদ্রিয়ান। ওর ভেতরের জমানো সবটুকু আবেগ, না বলা ভালোবাসা আর মেহুলকে হারানোর ভয় এক নিমেষে বিস্ফোরণ ঘটাল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আদ্রিয়ান ওর মাথাটা দুহাতে আগলে নিয়ে ওর কম্পিত ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। মুহূর্তের জন্য থমকে গেল পৃথিবীর আহ্নিক গতি। মেহুল পুরো স্তব্ধ, যেন পাথরের কোনো প্রতিমা। ওর চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে এল, শরীরের শিরায় শিরায় এক অজানা বিদ্যুৎ খেলে গেল। ও যেন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে; শুধু আদ্রিয়ানের হৃদস্পন্দনের শব্দটা ওর কানে হাতুড়ির মতো বাজছে।

কিছুক্ষণ পর যখন আদ্রিয়ান আলতো করে ওকে ছেড়ে দিল, মেহুল যান্ত্রিকভাবে নিজের হাত দুটো মুখে চেপে ধরল। ওর চোখের দৃষ্টি এখন দিকভ্রান্ত, একদম কেবলার মতো চেয়ে আছে আদ্রিয়ানের দিকে। ওর এই বিমূঢ় অবস্থা দেখে আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টুমিভরা হাসি ফুটে উঠল। ও কোমরে হাত দিয়ে মুখ টিপে হাসতে হাসতে মেহুলের বিহ্বলতা উপভোগ করতে লাগল।

মেহুল এবার ঘোর কাটিয়ে মুখ থেকে হাত সরিয়ে ফিসফিস করে বলল, "তুমি এটা কী করলে ?" বলতে বলতেই ওর দুচোখ বেয়ে অবাধ্য জল গড়িয়ে পড়ল। ও ডুকরে কেঁদে উঠল।

আদ্রিয়ান এবার তড়িঘড়ি করে মেহুলের মুখ চেপে ধরল, "চুপ! একদম চুপ! তোকে এই জন্যই আমি ছিঁচকাঁদুনে বলি। এখন কাঁদিস না, কেউ শুনে ফেললে অনর্থ হবে। যা এখন এখান থেকে, এই অবস্থায় কেউ তোকে আমার রুমে দেখে ফেললে খারাপ ভাববে।"

আদ্রিয়ান দ্রুত হাতে দরজা খুলে দিয়ে ইশারায় বলল, "জলদি যা!"

মেহুল আর একটি শব্দও উচ্চারণ করল না। ভেজা চোখে, এলোমেলো পায়ে ও ঘর থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরের দিকে প্রায় ছুটে চলে গেল। আদ্রিয়ান বারান্দায় এসে দাঁড়াল। রাতের শীতল বাতাস ওর উত্তপ্ত কপালে এসে লাগল। ও নিজের অবাধ্য চুলে হাত চালিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। ও নিজেও যেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না, ঘোরের মাথায় ও এটা কী করে ফেলল! কিন্তু ওর মনের এক কোণে এক বিজাতীয় আনন্দ হচ্ছে—অবশেষে মেহুলের সেই কঠিন মৌনতাটা ও ভাঙতে পেরেছে।

---

আদ্রিয়ান তো মেহুলের ঠোঁট থেকে কথা কেড়ে নিল, কিন্তু মেহুল কি পারবে নিজের হৃৎপিণ্ডের অবাধ্য ধুকপুকানি সামলাতে? আর নূপুর ছেঁড়ার এই আগুন কি সারা সহজে নিভতে দেবে?

সম্প্রীতি পাঠকমহল Follow না করলে পরের পর্ব Miss করবেন...!! 
আমি ঠিক করেছি যে, যেই পাঠক বা পাঠিকা আমাকে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় Follow করবে আমি ওই তিন বেক্তিকে  Follow Back দেবো....!! 🎀