Mayador - 6 in Bengali Love Stories by Rayhana Yasmin Ray books and stories PDF | মায়াডোর - পর্ব 6

Featured Books
Categories
Share

মায়াডোর - পর্ব 6



আজ সকাল থেকেই চৌধুরী বাড়িতে একটা সাজ সাজ রব।আজ মেহুলের আব্বু, সৎ মা ও মেহুলের সৎ বোন রেনভী আজই এ বাড়ি আসার কথা। ঠিক সেই সময় দরজায় কলিং বেলের শব্দ হলো। মেহুল তখন ড্রয়িংরুমেই বসে ছিল, ফুফুর কথায় বাধ্য হয়ে, দরজাটা খুললো।তখনই শুরু হলো আসল নাটক। দরজা খোলার সাথে সাথেই তহিদা বেগম যেন মেহুলকে দেখে আবেগে ফেটে পড়লেন। মেহুল কিছু বুঝে ওঠার আগেই তহিদা দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধড়লেন। মেহুলকে জড়িয়ে ধরে তিনি ডুকরে কেঁদে উঠলেন।মেহুলের সারা মুখে আর কপালে বারবার চুমু খেয়ে বলতে লাগলেন— " কত বছর দেখিনি রে মা তোকে! কত বড়ো হয়ে গেছিস। একবারও কি তোর শিকদার বাড়ির কথা মনে পরে নি।"
তহিদার এই আকস্মিক ভলবদল দেখে, মেহুলের চেয়েও বেশি অবাক হলেন নিশিতা চৌধুরী। যে নারী ছয় বছরের মেহুলকে সামান্য ভুলের জন্য নিদারুন শীতে রান্নাঘরের মেঝোতে শুইয়ে রাখতেন, আজ তার এই হঠাৎ বলদে যাওয়া দেখে সবাই রীতিমতো অবাকের চরম পর্যায়।
মেহুল অবশ্য খুব একটা বিচলিত হলো না। সে পাথরের মতো স্থির দাঁড়িয়ে রইলো। কিছুক্ষন পর তহিদার বহুপাশ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মেহুল নির্দ্বিধায় উত্তর দিল—
"মনে পরে শিকদার বাড়ির কথা, কিন্তু সেখানে যেতে ইচ্ছা করে না।"
মেহুলের এই সোজাসাপ্টা উত্তরে তহিদার মুখে এক মুহূর্তের জন্য কালচে ছায়া পড়লো, কিন্তু পরক্ষনেই তিনি সামলে নিলেন।পরিস্থিতি সামাল দিতে নিশিতা চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললেন— "সব কথা কি দরজায় দাঁড়িয়েই বলবে? অনেক পথ জার্নি করে এসেছো, ভেতরে এসো। হাত–মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও।"

দুপুরের মধ্যাহ্ন–ভোজের পর ড্রয়িংরুমে যখন বড়োদের আড্ডা জমেছে, মেহুল তখন নিঃসব্দে নিজের ঘরে আশ্রয় নিলো। সোহিকুল শিকদার মাঝে মাঝে মেয়ের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলেন,কিন্তু তহিদার রক্তচক্রের ভয়ে মুখ ফোটে কিছু বলতে পারলেন না। মেহুলের এক পুরনো অভ্যাস— মন খারাপ হলে বা মায়ের কথা খুব মনে পড়লে সে তার ঘরের বেলকেনিতে গিয়েও দাঁড়ায় আর পুরোনো দিনের স্মৃতি গুলো মনে করে। কিন্তু আজ মেহুলের মাথায় পুরোনো দিনের স্মৃতি নয়, বরং অন্য একটা চিন্তা ঘুরছে। সে ভাবছে আদ্রিয়ান আজ ওকে কথায় নিয়ে যাবে। মেহুল যখন নিজের ভাবনায় ডুবে আছে, ঠিক তখনই আদ্রিয়ান মেহুলের রুমে প্রবেশ করলো। ওর হাতে একটা বড়ো শপিং প্যাকেট। প্যাকেট টা মেহুলের বিছানার উপর ধপাস করে রেখে মেহুল কে ডাক দিলো— 
"মাইরা, ভেতরে আই। সারাক্ষন উদাস হয়ে বেলকেনিতে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানে হয় না। জলদি ভেতরে আয়।
 মেহুল একদম বাধ্য মেয়ের মত রুমের ভেতরে এলো। আদ্রিয়ান মেহুলের হাতে প্যাকেটটা ধরিয়ে দিয়ে বলল— "নে এটা ধর! তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে আয় আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছি।দেরি করবি না একদম। 

 কথাটা বলেই আদ্রিয়ান নিজের রুমে চলে গেল। তবে যাওয়ার আগে সে ছোট্ট আরাধ্যাকে ডেকে আনলো।
 আদ্রিয়ান খুব বুদ্ধিমান ; সে জানতো শুধু মেহুলকে নিয়ে বাইরে বেরোলে বাড়ির লোকজন সন্দেহ করতে পারে। তাই আরাধ্যাকেও সাথে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আদ্রিয়ান আরাধ্যার জন্যও একটা ড্রেস কিনেছিল, সেটা ওর হাতে দিয়ে মেহুলের রুমে পাঠিয়ে দিল।

 এখন বাজে দুপুর আড়াইটা।আদ্রিয়ান রেডি হয়ে মেয়েহুলের রুমে উকিঁ দিলো।খুব সাবধানি গলায় বলল— " খুব সাবধানে নিচে আসবি তোরা। কেউ যেন তোদের দেখতে না পায়, ওকে!"
 এই বলে আদ্রিয়ান নিচে নেমে গেল। মেহুল লক্ষ্য করলো, আদ্রিয়ান আজ বহুদিন পর পাঞ্জাবী পড়েছে। আরো একটা বিষয় দেখে ও অবাক হল— আদ্রিয়ান, মেহুল আর আরাধ্যা এই তিনজনেরই পোশাকের রঙ একই। গাঢ় মেরুন।
মেহুল যখন নিচতলায় নামলো, দেখলো আদ্রিয়ান গাড়িতে হেলেন দিয়ে ফোন দেখছে। মেরুন রঙের পাঞ্জাবীতে আজ অদ্রীয়নকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে। মেহুল তো রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গেলো।আদ্রিয়ানকে এই রূপে দেখে ওর বুঁকের ভেতরে এক অজানা অনুভুতি কাজ করতে শুরু করলো।
মেহুলের ধ্যান ভাঙলো আরাধ্যার ডাকে। আদ্রিয়ান ফোনটা পকেটে রেখে,আরাধ্যাকে বললো গাড়িতে গিয়ে বসতে।মেহুলের এই স্নিগ্ধ রূপ দেখে আদ্রিয়ানের চোখেও এক পলক মুগ্ধতা খেলে গেলো।সে মেহুলের কিছুটা কাছে এগিয়ে এলো। তারপর খুব নিচু আর হাস্কি স্বরে ভ্রু উঁচিয়ে ফিসফিস করে বললো— 
"কি হলো ম্যাডাম? এই ভাবে দেখছেন কেন? প্রেমে–টেমে আবার পড়লেন নাকি আমার ?"
আদ্রিয়ানের এই অপ্রত্যাশিত খোঁচায় মেহুলের গাল দুটো মুহূর্তেই রক্তিম হয়ে উঠলো। সে কোনো উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে মুচকি হাসতে হাসতে গাড়ির দিকে পার বাড়ালো। কিন্তু গাড়ির কাছে গিয়েই বাঁধলো এক লঙ্কাকাণ্ড!
মেহুল জেদ ধরেছে সামনের সিটে বসবে ওই দিকে আরাধ্যাও নাছোড়বান্দা— সে ও সামনেই বসবে।আদ্রিয়ান তো মহা ঝামেলায় পড়লো। দুজনেই আদরের, কাউকেই পেছনে পাঠানো যাবে না। শেষে কোনো উপায় না পেয়ে আদ্রিয়ান ওদের দুজনকেই সামনে বসিয়ে দিলো। মেহুল জানালার পাশে আর আরাধ্যা মাঝখানে। আদ্রিয়ান স্টিয়ারিং ধরে মুচকি হেসে গাড়ি স্টার্ট দিলো। গন্তব্য— শান্তিনিকেতন।
–––
বিকেলের তপ্ত রোদটা সোনাঝুরির বোনের পাতায় লেগে কেমন যেন সোনালী আভা ছড়াচ্ছে। লাল মাটির রাস্তায় আদ্রিয়ানের গাড়িটা যখন হাটের কাছে এসে থামলো, আরাধ্যার উত্তেজনার শেষ নেই। মেহুল গাড়ি থেকে নামতেই, এক ঝাপ্টা হাওয়া ওর মুখে এসে লাগলো, যাতে মিশে আছে শুকনো পাতা আর মাটির সোঁদা গন্ধ।
মেহুল আড়চোখে একবার আদ্রিয়ানের দিকে তাকালো। গাঢ় মেরুন রঙের পাঞ্জাবীতে আদ্রিয়ান কে আজ কেমন যেন রাজকীয় লাগছে। রোদের আলোয় ওর ফর্সা গায়ের রঙটা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আদ্রিয়ান সানগ্লাসটা পাঞ্জাবীর কলারের কাছে ঝুলিয়ে রেখে খুব শান্ত ভঙ্গীতে মেহুলের দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দিলো। মেহুল সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিলো। ওর বুঁকের ভেতরটা কেন জানি অকারণে ঢিপঢিপ করছে।
গাড়িটা সাইটে রেখে আদ্রিয়ান কোনো ভনিতা ছাড়া মেহুলের হাতটা নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় নিল। মেহুল চমকে গিয়ে অস্ফুস্ট স্বরে বললো— "কি....!
মেহুলের কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই আদ্রিয়ান ওকে থামিয়ে দিলো। কিছুটা চোখ রাঙিয়ে বললো— "চুপ..! এখানে অনেক ভিড়, বেশি পাকামো করবি না। চুপচাপ চল।
আদ্রিয়ানের হাতের সেই বলিষ্ঠ স্পর্শ মেহুলের সারা শরীরে এক অদ্ভুদ শিহরন ছড়িয়ে গেলো। ওর মনে হলো ওর বুঁকের ভেতর এক ঝাঁক প্রজাপতি ডানা ঝাপটাচ্ছে।
হাটের ভেতরটা আজ বেশ জমে উঠেছে। একপাশে বাউল গানের আসর বসেছে— " তোমায় হৃদমাঝারে রাখিবো, ছেড়ে দেবো না...! বাউলের একতারার সুরে মেহুলের মনটা কেমন আনচান করে উঠলো।
সোনাঝুরির হাটে মেহুলের হাত ধরে দোকান ঘুরে চুড়ি, কানের দুল আর নেকলেস পছন্দ করে কিনল আদ্রিয়ান। কিন্তু খটকা লাগল নুপুর কেনার সময়। আদ্রিয়ান দু–জোড়া নুপুর কিনে এক জোড়া মেহুলকে দিলেও অন্য জোড়াটি অতি যত্নে নিজের পকেটে রেখে দিল। মুহূর্তেই মেহুলের হাসিখুশি মুখটা ম্লান হয়ে গেল। তার মনে সংশয় জাগল—আদ্রিয়ানের কি তবে কোনো প্রেমিকা আছে? তাকে দেওয়ার জন্যই কি এক জোড়া নুপুর নিজের কাছে রেখে দিল? এই ভেবে মেহুলের বুকটা এক অজানা ব্যথায় মোচড় দিয়ে উঠল, সুন্দর বিকেলটা হঠাৎ করেই তার কাছে বিষণ্ণ মনে হতে লাগলো।
আদ্রিয়ান যখন সেই পায়ের নূপুরটি নিজের পকেটে রাখলো, মেহুলের বুকের ভেতরটা হঠাত করেই বিষিয়ে উঠল। অভিমান আর হিংসে মেশানো এক তীব্র যন্ত্রণা ওকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। আদ্রিয়ান যখন অন্য এক দোকানে ঝুঁকলো, মেহুল নিঃশব্দে ওর হাতের বাঁধন আলগা করে ভিড়ের আড়ালে হারিয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর আদ্রিয়ান খেয়াল করল ওর পাশে মেহুল নেই। মুহূর্তেই ওর মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। আরাধ্যাকে একরকম পাঁজাকোলা করে নিয়ে দৌড়ে গাড়ির কাছে এল ও। আরাধ্যাকে গাড়িতে বসিয়ে লক করে দিয়ে আদ্রিয়ান হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে হাটের মাঝে ছুটতে শুরু করল। ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, চোখে রাজ্যের অস্থিরতা। ও যাকে দেখছে তাকেই পাগলের মতো জিজ্ঞাসা করছে— "মেরুন কালারের সালোয়ার কামিজ আর হিজাব পরা একটা মেয়েকে দেখেছেন?" কেউ মাথা নাড়ছে, কেউ বা অবাক হয়ে ওর দিকে তাকাচ্ছে। আদ্রিয়ানের মনে হচ্ছিল ওর পৃথিবীটা বুঝি থমকে গেছে।

হাটের একদম পাশে, বোনের নিরালা এক প্রান্তে মেহুল একা দাঁড়িয়ে ছিল। ওর দু চোখ বেয়ে তখন নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। হঠাৎ এক জোড়া বলিষ্ঠ হাত মেহুলের কাঁধ ধরে ওকে এক ঝটকায় সামনের দিকে ঘুরালো। মেহুল কিছু বলতে যাবে তার আগে দেখল আদ্রিয়ানের সেই অস্থির ও বিধ্বস্ত মুখ। পরক্ষনেই আদ্রিয়ান কোনো কথা না বলে মেহুলকে দু–হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। মেহুল একদম স্তব্ধ হয়ে গেলো। ওর হাত দুটো শরীরের দু পাশে ঝুলে রইলো, ও কোনো প্রতিক্রিয়া করার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।
আদ্রিয়ানের বুকটা তখন কামারের হাপরের মতো ওঠানামা করছে। মেহুল স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল আদ্রিয়ানের হৃদস্পন্দনের সেই তীব্র ধুকপুকানি। আদ্রিয়ান ওর ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে দিয়ে খুব ভারী আর অস্থির গলায় বলল— "তুই ঠিক আছিস তো মাইরা? কোথায় চলে গিয়েছিলি আমাকে না বলে? কত পাগলের মতো তোকে খুঁজেছি তুই জানিস?"

মেহুল পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। যে আদ্রিয়ান সামান্য কারণেই মেজাজ হারাতো, সে আজ বকাঝকা করা তো দূর, উল্টো অভিমানে আর হারানোর ভয়ে কুঁকড়ে আছে। মেহুল কোনো কথা না বলে নিজেকে আদ্রিয়ানের বাহুপাশ থেকে ধীরে ধীরে ছাড়িয়ে নিয়ে উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করল। আদ্রিয়ান দ্রুত ওর কব্জি চেপে ধরল— "কোথায় যাচ্ছিস?"

মেহুল হিজাবের আড়ালে নোনা জলটুকু মুছে নিয়ে অত্যন্ত নরম ও নিচু স্বরে বলল, "বাড়ি যাব না?"
আদ্রিয়ান এবার কোনো শাসন করল না, শুধু নিঃশব্দে মাথা নেড়ে সায় দিল। 
পরক্ষনেই আদ্রিয়ানের ফোনে নিশিতা চৌধুরীর ফোন এলো। আদ্রিয়ান ফোন রিসিভ করতেই ওপার থেকে নিশিতা চৌধুরী কিছুটা বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন ওরা কোথায়। আদ্রিয়ান খুব স্বাভাবিক ভাবে মিথ্যা বলে দিলো—
"মা, আরাধ্যা খুব বায়না করছিলো ঘুরতে আসবে বলে। আর ও তো মাইরাকে ছাড়া আসবে না, তাই মাইরাকেও সাথে নিয়ে এসেছি। আমরা এক্ষুনি ফিরছি।
 
 সারাটা পথ ফেরার সময় আদ্রিয়ান যখনই ওর দিকে তাকিয়েছে, মেহুল জানালার বাইরে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ওর শুধু মনে হচ্ছিল—তবে কি আদি ভাইয়া অন্য কাউকে ভালোবাসে? গাড়িতে আরাধ্যা ঘুমানোর পর চারপাশ একদম নিস্তব্ধ। আদ্রিয়ান কয়েকবার কথা বলতে চেয়েও মেহুলের গুমোট ভাব দেখে থেমে গেল।
বাড়িতে পৌঁছে গাড়ি থামতেই মেহুল কোনো দিকে না তাকিয়ে ধীর পায়ে নেমে সোজা বাড়ির ভেতরে চলে গেল। 
 ড্রয়িংরুমে নিশিতা চৌধুরী আর তহিদা শিকদার বসে ছিলেন। নিশিতা চৌধুরী মেহুলকে দেখেই শাসন করে বললেন, "মেহুল, তোরা সারা বিকেল কোথায় ছিলি? আর ওরা কোথায়?"

মেহুল কোনো উত্তর দিল না, নিঃশব্দে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে গেল। পেছন পেছন আদ্রিয়ান যখন ভেতরে ঢুকল, নিশিতা চৌধুরী ওকে কড়া সুরে বললেন— "আদ্রিয়ান, তুই মেহুলকে কিছু বলেছিস? মেয়েটা ওভাবে চলে গেল কেন?"

আদ্রিয়ান ক্লান্ত আর বিধ্বস্ত মুখে শুধু বলল, "পরে কথা বলছি মা।" 
কথাটা বলেই ও সোজা নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো। আজকের এই দিনটা মেরুন রঙের মায়া দিয়ে শুরু হলেও শেষ হলো একরাশ বুক ফাটা অভিমান নিয়ে।



"এক জোড়া নূপুর আর এক আকাশ অভিমান—আদ্রিয়ানের পকেটে লুকিয়ে রাখা সেই রহস্য কি বদলে দেবে মেহুলের ভাগ্য? সোনাঝুরির ধুলোয় যে মায়া জমেছিল, আজ কি তা সন্দেহের মেঘে ঢেকে যাবে?"


My FBP By "অবক্ত অন্তরাল"