Marks by sin - 14 in Bengali Love Stories by Anindita Basak books and stories PDF | মার্কস বাই সিন - 14

Featured Books
Categories
Share

মার্কস বাই সিন - 14

মার্কস বাই সিন–১৪

"ইম্পসিবল... নো!" চিৎকার করে টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের ফুলদানিটা ছুঁড়ে ফেলে কার্ল। দেওয়ালের গায়ে লেগে তা ভেঙে পড়ে, ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে কাঁচের টুকরোগুলো। কাচের শব্দে কেঁপে ওঠে রুম।

ঘরের মধ্যে উপস্থিত সবাই চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে চুপচাপ মাথা নিচু করে, দু'পা পিছিয়ে দাঁড়ায়। কার্লের ঠোঁট তখন রাগে থরথর করে কাঁপছে। ওর চোখ দুটো লাল, চোয়াল শক্ত। টিভির স্ক্রিনে চোখ আটকে রাখা অবস্থাতেই পাশে বাজতে থাকা ফোনটা রিসিভ করে কানে দেয় সে।

ফোন রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে‌ই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটা গলা ভেসে আসে। একটা শান্ত গলা। কিন্তু সেই গলার স্বরে এমন কিছু আছে…যা কার্লের মুখের সব শক্তি কেড়ে নেয়। মুহুর্তে ওর মাথার ভেতরে জমে থাকা ভয়গুলো আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। কার্লের কপালের ভাঁজ আরোও গাঢ় হয়। ওর দুটো হাত ভীষণভাবে কাঁপতে শুরু করে। এক হাতে ফোনটা শক্ত করে ধরে আর অপর হাতটা মুঠিবদ্ধ করে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় সে।

রায়েল পাশ থেকে দাঁড়িয়ে এই সমস্ত কিছু খেয়াল করে। কার্লের কম্পনরত হাত দুটি দেখে মুহুর্তের মধ্যে সে বুঝে যায় ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি কে আছে!

সে জানে এই পৃথিবীতে কেবল একজনই আছে যার সামনে কার্ল কমজোড় হয়ে পড়ে। তবে... এই কমজোরিতা কোনো শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য নয়, কিংবা কোনো ভালোবাসার জন্য‌ও নয়— বরং সেই ব্যক্তির উল্লেখ হলে বা সে সামনাসামনি এলে কার্লের ভেতর কাজ করে ভয় আর ট্রমা। যা কার্লকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

কার্ল চাইলেও স্বাভাবিক থাকতে পারে না সেই মানুষটার সামনে। কারণ সেই ব্যক্তির চোখদুটো দেখলেই ভেতরের ভয়, অপমান আর পুরনো ক্ষত—সব একসঙ্গে জেগে ওঠে। আর তখন কার্ল আর কার্ল থাকে না, হয়ে যায় একটা কাঁপতে থাকা ছায়া।

এই ভয় বা ট্রমার ওজন বাইরে থেকে কেউ বুঝতে না পারলেও, কিন্তু রায়েল বোঝে। কারণ অনেক বছর ধরে সে এই মুহূর্তগুলো চোখের সামনে দেখে আসছে। রায়েল জানে কার্লকে ঠিক কত কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে এবং যাচ্ছে। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সে কিছু করতে পারে না। কারণ কার্ল তাকে কখনও অ্যালাও করবে না, সেটা সে জানে।

রায়েলের এই মুহুর্তে ইচ্ছে করে এগিয়ে গিয়ে কার্লের কাঁপতে থাকা হাতটাদুটো শক্ত করে চেপে ধরতে। তবে সে নিজের জায়গা থেকে এক চুলও নড়ে না। কারণ সেটা করলে, পর মুহূর্তে ওর জন্য অপেক্ষা করবে মৃত্যু।

তবে সত্যি বলতে, রায়েল চায় না, কার্ল ওই ব্যক্তির সাথে কোনোরকম যোগাযোগ রাখুক, কিন্তু ও অপরাগ কিছু করতে। রায়েল না পারে কার্লকে সাহায্য করতে আর না পারে ওই ব্যক্তিকে কার্লের থেকে দূরে রাখতে। মাঝে মাঝে নিজেকে ওপর বড্ড রাগ হয় ওর, চাইলেও সে যে কিচ্ছু করতে পারে না...কিচ্ছু না।

কারণ —যে মানুষটা কার্লের মতো একজনকে এক ঝটকায় কাবু করতে পারে সে যে কেমন ভয়ঙ্কর হতে পারে তাই সহজেই বিবেচনা করা যায়।

ফোন রেখে কার্ল কয়েক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে বসে থাকে। টেবিলের ওপর রাখা জলের গ্লাস থেকে কিছুটা জল গলায় ঢেলে নিজেকে শান্ত করে গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে “রায়েল… আই গিভ ইউ অনলি টোয়েন্টি ফোর আওয়ার্স। এই সময়ের মধ্যে… আহান সেনগুপ্ত এবং তার চারপাশে থাকা প্রত্যেকটা মানুষের তথ্য আমার ডেস্কে চাই। এই কেসে ওকে কে কে ওকে সাহায্য করছে, কে ওর পরিবার, মা, বাবা, ভাই—সব কিচ্ছু।"

একটু থামে সে। ওর চোখ সরু সরু হয়ে যায় "তাদের সবার নাম, তারা কে কী করে, তাদের অতীত, বর্তমান—সব। কোনো কিছু বাদ দিবি না, রায়েল। আহান সেনগুপ্ত—ওর ছোটোবেলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত জীবনে যা কিছু ঘটেছে—সব কিছু আমার ডেস্কে চাই। আমি জানি না তুই কোথা থেকে এই ইনফরমেশন আনবি। তবে তুই জানিস, সময় মতো সবকিছু না পেলে আমি কি করতে পারি। শার্প একদিন। তার মধ্যে সবকিছু আমার চাই। মনে থাকবে?”

রায়েল মাথা নাড়ায়। “ডোন্ট ওরি, ক্রে। আমি সব ইনফরমেশন এনে দিচ্ছি।”

“গুড।” কার্ল মাথা নাড়ায়। কয়েক মুহূর্ত কিছু ভেবে রায়েল নিচু গলায় ইতস্তত করতে করতে বলে “ক্রে... আর ইউ ওকে?”

কার্ল চোখ সরিয়ে জানালার দিকে তাকায়। গলায় এক‌ইরকম গাম্ভীর্য “হুম… আই অ্যাম ওকে।" 

কার্ল ধীরে ধীরে উঠে জানলার কাছে যায়। বন্ধ থাকা কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে চোখ রাখে "অনেকদূর এগিয়েছো তুমি আহান সেনগুপ্ত। এবার আমার নামার সময় হয়ে গেছে। এবার দেখি তুমি কি করতে পারো!" তির্যক হাসে সে। তারপর বেরিয়ে যায় রুম থেকে।

রায়েল কিছুটা বুঝতে পারে কার্ল এখন কি করতে চাইছে। তাই সেও কার্লের বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে “ঘরটা পরিষ্কার করে ব্যবস্থা করো। কোনোকিছু যেন না পরে থাকে।”






চলবে..................………..............