Marks by sin - 6 in Bengali Love Stories by Anindita Basak books and stories PDF | মার্কস বাই সিন - 6

Featured Books
Categories
Share

মার্কস বাই সিন - 6

মার্কস বাই সিন–৬

হোটেলের পঁচিশ তলার পেন্টহাউস স্যুইট।

কাচের দেওয়ালজোড়া জানালায় মোটা পর্দা টানা। তার ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছে সকালের হালকা, মিষ্টি রোদের কিরণ। এই আলো ঘরের সম্পূর্ণ অন্ধকার দূর করতে না পারলেও, যেখানে যেখানে আলো ছুঁয়ে যায়, সেখানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—রুমটা ঠিক যতোটা বিলাসবহুল, তার সঙ্গে ঠিক ততটাই অগোছালো।

জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দামি উত্তেজক পানীয়র কাঁচের বোতল, আধখাওয়া কয়েকটা সিগারেট, অ্যাশট্রে। সোফা, বেডের ধারে এবং ফ্লোরে পড়ে আছে কিছু জামাকাপড়, অন্তর্বাস এবং লুব্রিকেন্টের প্যাকেট। এইগুলো সবকিছুই আগের রাতের উষ্ণতা বহন করছে।

এই রুমের‌ই ঠিক মাঝ বরাবর একটা কিং সাইজ বেড। তাতে পাশাপাশি শুয়ে আছে দু’জন পুরুষ। দুইজন‌ই ঘুমে আচ্ছন্ন। পুরুষ দু’জনেরই উর্ধাঙ্গ অনাবৃত, কোমরের নিচে কেবল জড়ানো আছে সাদা চাদর। ঘরের বাতাসে এখনো ভাসছে সিগারেট আর ঘামের মিশ্রিত গন্ধ, সঙ্গে কিছুর দাহ ধরা কামনার ছায়া।

এই বেডের পাশেই টেবিলের ওপর পাশাপাশি রাখা আছে দুটো ফোন, গাড়ির চাবি, আর সিগারেটের ফাঁকা প্যাকেট। টেবিলের ওপর থাকা ফোন দুটির মধ্যে একটি অনেকক্ষণ ধরে অনবরত বেজে চললেও মালিকের সেই দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বরং ফোনের শব্দে বেশ বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরে, নিজের পাশে শুয়ে থাকা নগ্ন শরীরটাকে আরেকটু নিজের কাছে টেনে নিয়ে বেশ আয়েশ করে শোয় সে।

তবে তার এই সুখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না তার। হঠাৎ একটা খুব চেনা পরিচিত মিউজিকের টোন কানে যেতেই সঙ্গে সঙ্গে বেডের ওপর উঠে বসে সে। চোখ কুঁচকে নিজের চারিদিকে চোখ বোলায় তারপর সোফার ওপর থাকা নিজের জিন্সের দিকে চোখ যায় তার। শরীর থেকে চাদর সরিয়ে দ্রুত বেড থেকে নেমে আসে। ফ্লোরে পড়ে থাকা শর্টসটা গলিয়ে নিয়ে সোফার দিয়ে এগিয়ে যায়। জিন্সের প্যান্টটা টেনে নিয়ে পকেট থেকে একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন বের করে আনে‌।

স্ক্রিনে পরিচিত নাম দেখে ঠোঁট বেঁকিয়ে তির্যক হাসে সে। তারপর কল রিসিভ করে জানলার সামনে এসে দাঁড়ায়। পর্দা সরিয়ে চাপা স্বরে কথা বলতে বলতে কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় চোখ রাখে।

ধীরে ধীরে তার মুখের সেই তির্যক হাসিটা সম্পূর্ণ মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর ফোন কেটে দিয়ে সরু চোখে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে। মাথায় ঘুরতে থাকে ফোনে বলা কথাগুলো।

অন্যদিকে, পর্দা সরানোর ফলে বেডে শুয়ে থাকা ব্যক্তির মুখের ওপর আলো এসে পড়ে। সে হালকা ভ্রু কুঁচকে নিজের পাশে হাতড়াতে হাতড়াতে খুব কষ্টে চোখ খুলে সামনের দিকে তাকায়। চোখে পড়ে জানলার দিকে। দেখে জানলার সামনে দাঁড়িয়ে আছে বেশ বলিষ্ঠ চেহারার একজন।

ছেলেটি মুখে হাসি খেলে যায় সঙ্গে সঙ্গে। সে চোখ কচ্ছলে, ঘুমঘুম চোখে উঠে বসার চেষ্টা করে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারে—কোমর থেকে নিচের অংশটা ভীষণ ব্যথা করছে। হালকা ভ্রু কুঁচকে, চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে উঠে বসে বেডে হেলান দেয় সে।

মনে পরে যায় আগের রাতের ঘটনাগুলো। আর মুহুর্তে ছেলেটির ঠোঁটের কোণে লাজুক একটা হাসি খেলে যায়। বুক পর্যন্ত টানা চাদরটা শক্ত হাতে চেপে ধরে সামনের দিকেই তাকিয়ে থাকে সে। ইচ্ছে করে এই মুহূর্তেই নেমে গিয়ে ওই উন্মুক্ত পিঠে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিতে—বিশেষ করে পিঠজুড়ে আঁকা ট্যাটুটার ওপর।

আর এই কথাটি মনে হ‌ওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছেলেটির শরীরের এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে যায়। শরীর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্যথা তাকে আটকে রাখে ঠিকই, কিন্তু চোখের ভাষা সেটা মানতে চায় না।

ব্যথার টান মনে করিয়ে দেয় নিজের সীমা, আর ইচ্ছে তার ঠিক উল্টো দিকে টানে—আরও কাছে, আরও গভীরে। চোখ সরু করে সে সামনের মানুষটার দিকে তাকিয়ে থাকে, ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি। সেই দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকে একরাশ আকাঙ্ক্ষা, আর তার ঠিক নিচে—সহ্য করার অদম্য প্রস্তুতি।

সে নড়ে না। কিছু বলে না। শুধু চোখেই বলে দেয়—ব্যথা আছে, কিন্তু পিছিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই, অন্ততঃ এই মুহুর্তে-তো না।



চলবে............................

(গল্প দিতে বেশ দেরি হয়ে গেল। তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিচ্ছু অসুবিধা ছিল , তাই এতোটা দেরি হয়ে গেল। তবে এর পর থেকে নিয়মিত পর্ব পাবেন। আর এই গল্পটি কেমন লাগছে জানাতে ভুলবেন না যেন, আমি আপনাদের রিভিউ-র অপেক্ষায় থাকবো।)