Marks by sin - 7 in Bengali Love Stories by Anindita Basak books and stories PDF | মার্কস বাই সিন - 7

Featured Books
Categories
Share

মার্কস বাই সিন - 7

মার্কস বাই সিন–৭

ছেলেটির অবশ্য ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে এইভাবে তাকিয়ে থাকার পিছনে সাধারণত দুটো কারণ আছে।

এক— এমন সুঠাম, ফর্সা মানব শরীর এর আগে কখনও দেখেছে বলে তার মনে পড়ে না। চোখ অজান্তেই আটকে যায় সেই সৌন্দর্যে। যত দেখে, ততই মনে হয়— কম।

আর দুই— সেই ফর্সা পিঠ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটা  ট্যাটু। ভীষণ‌ই অদ্ভুত সেটা। পিঠ জোড়া আঁকা একটা হিংস্র সিংহের মুখ। আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপারটা হলো— সেই সিংহের চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত।

এমন অদ্ভুত ট্যাটু ছেলেটি তার তেইশ বছরের জীবনে কখনও দেখেনি। ভয়ংকর, অথচ অদ্ভুতভাবে আকর্ষণীয়। সে কিছুটা অন্যমনস্ক ভাবে ভ্রু কুঁচকে ট্যাটুটার দিকেই তাকিয়ে থাকে। ভাবে— একবার জিজ্ঞেস করবে, এই ট্যাটুর মানেটা কী। কিন্তু প্রশ্নটা ঠোঁট পর্যন্ত এসেও ফিরে যায়। কারণ এই পিঠ যার, তার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করা মানেই— স্বয়ং মৃত্যুর দরজায় টোকা মারা। আর সত্যি বলতে, এত কম বয়সে মরার কোনো ইচ্ছে তার নেই।

তাই একটা শুকনো ঢোক গিলে ছেলেটি মাথা নিচু করে নেয়। অন্ধকার জগতের একচ্ছত্র সম্রাটের শয্যাসঙ্গী হওয়া যেমন আরামদায়ক, তেমনই মারাত্মক বিপজ্জনক। তাঁর একটাই নিয়ম—“নো ডিস‌ওবিডিয়েন্স। নো এক্সকিউজেস।" আর এই নিয়ম ভাঙার মানেই মৃত্যু। এবং সেই মৃত্যুটা যে কতটা নির্মম হতে পারে, সেটা ছেলেটি খুব ভালো করেই জানে।

আজ্ঞে হ্যাঁ ছেলেটির সামনে পিঠ করে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষটি অন্য কেউ নয়, সে স্বয়ং কার্ল। 'কার্ল'- এই নামটা যতটা ছোট, কার্ল নামের ব্যক্তিটির প্রভাবটা ঠিক ততটাই বিশাল। দেশের আইন অনুযায়ী, সে একজন মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। বাস্তবে? সে একাই একটা সাম্রাজ্য।

তাঁর সম্পর্কে বাইরে যতটুকু জানা যায়, তা মাত্র এই—একটা নাম: 'কার্ল', আর বাঁ হাতে উল্কি করা একটা বাক্যঃ 'পাওয়ার ইজ বেস্ট ওয়েন ইটস আনসিন।'

এর বাইরে কার্লের কোনো ছবি নেই, কোনো প্রমাণ নেই, কোনো ইতিহাস নেই। সে কাউকে বিশ্বাস করে না। নিজের সব কাজ সে সরাসরি করে—কিন্তু যা করে, নিখুঁতভাবে করে, ভয়ডরহীন ভাবে করে। যেন সে এই দুনিয়ায় শাসন করার জন্যই জন্মেছে। এত বছর ধরে অপরাধের জগতে থেকেও ওর বিরুদ্ধে কোনো চার্জশিট তৈরি হয়নি।

ওর নাম কেউ স্পষ্ট করে উচ্চারণ করে না—ভয়ে, বা শ্রদ্ধায়, সেটা বুঝে ওঠা মুশকিল। ওর কথায় শুধু ভয় মেশানো সম্মতি শোনা যায়। আর কার্ল জানে, ভয়-ই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অনুগত্যের জন্ম দেয়।

তবে এতদিন কার্ল সবার আড়ালে থেকে গুটি চালনা করলেও একজন মানুষ, একটু ভুল হল একজন অফিসারের জন্য এখন কার্ল, আড়াল থেকে বেরোতে বাধ্য হচ্ছে। এই পুলিশ অফিসার যেমন জেদি তেমন একরোখা, যা বলে তাই করেই ছাড়ে।

অনেকদিন পর কার্ল নিজের সমকক্ষ কাউকে পেয়েছে। কার্ল একদৃষ্টিতে জানালার বাইরে তাকিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে বলে আনমনে ওঠে, “এবার শুরু হবে আসল খেলা। তোমরা আমাকে সবার সামনে আনতে চাইছিলে, আহান সেনগুপ্ত? নাও, আমি এসেই গেলাম। দেখি এবার তুমি কি করতে পারো!”

কার্ল কথাগুলো বিড়বিড় করে বললেও সায়ন্তন কান পর্যন্ত ওর গলার স্বর পৌঁছায়। মুহুর্তে ওর ভ্রু কুঁচকে ওঠে। "আহান সেনগুপ্ত? কে সে?" গলার স্বর নিচু করে বলে সে। তারপর ঘুম জড়ানো গলায় প্রশ্ন করে “কার্ল, আহান সেনগুপ্তটা কে?”

সায়ন্তনের প্রশ্ন শুনে ধীরে ধীরে ওর দিকে ঘুরে দাঁড়ায় কার্ল। তারপর হালকা হেসে গম্ভীর স্বরে বলে “সায়ন্তন... গুড মর্নিং।”

"গুড মর্নিং কার্ল।" সায়ন্তন হেসে উত্তর দেয়। কার্ল কাঁচের জালনায় হেলান দিয়ে সায়ন্তের দিকে সরু সরু চোখে তাকিয়ে বলে “ইউ রিয়েলি স্যাটিসফায়েড মি লাস্ট নাইট। আই’ম ইমপ্রেসড।”

সায়ন্তন মাথা নিচু লাজুক হেসে বলে “থ্যাঙ্ক ইউ, কার্ল।”

কার্ল ধীরে ধীরে বেডের দিকে এগিয়ে যায়, তারপর সায়ন্তনের সামনে বসে ওর থুতনিতে হাত দিয়ে ওর মুখটা খানিকটা তুলে সরাসরি ওর চোখের ওপর চোখ রাখে এবং ভীষণ শান্ত গলায় বলে “বাট আই থিঙ্ক ইউ ফরগট সামথিং...”

সায়ন্তন হালকা অবাক হয়। সে দ্রুত বলে ওঠে “আই এম সরি, কার্ল? বাট ক্যান ইউ টেল মি ওয়াট আই হ্যাভ ফরগটেন?"

কার্লের মুখে নিঃশব্দ হাসি। সে সায়ন্তনের এলোমেলো চুলে হাত বোলাতে থাকে তারপর আচমকা ওর চুল ধরে টেনে পেছনে ঠেলে দেয়। গলা একেবারে ঠাণ্ডা অথচ হিংস্র “সামওয়ান লাইক ইউ হ্যাজ নো রাইট টু কোয়েশ্চেন মি। বাট, আই এম লেংটি ইউ গো টুডে....... বিকজ ইউ ডিড প্লিজ মি- উইথ দ্যাট বডি অফ্ ইউরস। আদার ওয়াইজ, ইউ উড অলরেডি বি ডেড ফর আশকিং।"

সায়ন্তন কার্লে কথা শুনে একটা শুকনো ঢোক গিলে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে “আই অ্যাম সরি কার্ল…” 

"অনলি সরি.....হুম? লিসেন আই এসপেক্ট অবিডিয়েন্স, নট কোশ্চেন। রিমেমবার দ্যাট।"

এই বলে কার্ল উঠে বাথরুমের দিকে চলে যায়। এবং অন্যদিকে সায়ন্তন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। আজ অনেক বড়ো ভুল করে ফেলেছিল ও। ভাগ্যিস কার্ল কিছু করেনি, নয়তো কি হতো ভগবান‌ই জানেন। তবে সায়ন্তন শপথ নেয় এইরকম ভুল আর কোনোদিন নয়। যদিও এরপর আর কোনোদিন‌ও কার্লের সাথে দেখা হবে কি না ওর সত্যি জানা নেই।





চলবে..................….................

(আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ গল্পের পর্বগুলো পড়ার জন্য এবং রেটিং দেওয়ার জন্য।)