The Curse of Matangi - 7 in Bengali Spiritual Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | মাতঙ্গীর অভিশাপ - 7

Featured Books
Categories
Share

মাতঙ্গীর অভিশাপ - 7

“ভালোবাসা বনাম অন্ধকার”
রাজপ্রাসাদের সেই বিশাল ঘরটায় বজ্রপাতের আলো বারবার ঝলসে উঠছিল। চারদিকে বাতাস যেন হাহাকার করছিল। রাজ্যের সৈন্য, মন্ত্রী, দাস-দাসী সবাই আতঙ্কে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রাজপুত্র…
কিন্তু তার চোখ আর আগের মতো নেই। লাল আগুনের মতো জ্বলছে। তার ঠোঁটে অদ্ভুত এক ভয়ংকর হাসি।
আরাধ্যা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তার সামনে। তার চোখে জল… কিন্তু মুখে কঠিন দৃঢ়তা।
রাজপুত্রের শরীর থেকে ধীরে ধীরে অন্ধকার ধোঁয়া বের হচ্ছিল। সেই ধোঁয়ার ভেতর থেকে অঘোরেশ্বরের ভয়ংকর কণ্ঠ ভেসে উঠল—
“তুমি দেরি করে ফেলেছ, আরাধ্যা। এখন এই রাজপুত্র আর তোমার নয়… সে আমার।”
আরাধ্যার বুক কেঁপে উঠল।
তবুও সে শান্ত গলায় বলল—
“তুমি ভুল করছ। মানুষের আত্মাকে কেউ পুরোপুরি দখল করতে পারে না।”
রাজপুত্র হঠাৎ সামনে এগিয়ে এল।
তার চোখে নিষ্ঠুর দৃষ্টি।
“তুমি কি আমাকে থামাবে? নাকি আমাকে হত্যা করবে?”
এই প্রশ্নে পুরো ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
 ভালোবাসার প্রথম পরীক্ষা
আরাধ্যার মনে হাজার স্মৃতি ভেসে উঠল।
রাজপুত্রের সেই প্রথম দেখা।
তার পরিবর্তনের চেষ্টা।
তার অনুশোচনা… তার ভালোবাসা।
সে ধীরে বলল—
“আমি তোমাকে হত্যা করতে পারব না।”
রাজপুত্রের ঠোঁটে ব্যঙ্গাত্মক হাসি ফুটল।
“তাহলে তুমি হারবে।”
হঠাৎ সে তলোয়ার তুলে আক্রমণ করল।
আরাধ্যা পিছিয়ে গেল, কিন্তু সে পালাল না। সে চোখ বন্ধ করে মাতঙ্গীর মন্ত্র জপ করতে লাগল। তার শরীর থেকে নীল আলো ছড়িয়ে পড়তে লাগল।
রাজপুত্র বারবার আক্রমণ করছিল… কিন্তু প্রতিবার সেই আলো তাকে থামিয়ে দিচ্ছিল।
 অঘোরেশ্বরের ভয়ংকর প্রকাশ
হঠাৎ রাজপুত্রের শরীর কেঁপে উঠল।
তার মুখ বিকৃত হয়ে গেল।
তার শরীর থেকে কালো ছায়া বের হয়ে আকাশে বিশাল রূপ নিল।
অঘোরেশ্বরের অর্ধেক শক্তি তখন দৃশ্যমান হলো।
সে গর্জে উঠল—
“আমি শুধু তাকে দখল করিনি… আমি তার আত্মাকে ধ্বংস করব।”
আরাধ্যার চোখে ভয় দেখা দিল।
কারণ সে বুঝতে পারল—যদি আত্মা ভেঙে যায়, তবে রাজপুত্রকে আর বাঁচানো যাবে না।
মাতঙ্গীর নির্দেশ
ঠিক তখন মন্দিরের ঘণ্টা নিজে থেকে বেজে উঠল।
ঘরের ভেতর হঠাৎ নীল আলো ছড়িয়ে পড়ল।
আরাধ্যা শুনতে পেল এক মধুর কিন্তু শক্ত কণ্ঠ—
“আরাধ্যা… ভয় পেয়ো না।”
সে বুঝতে পারল—মা তাকে পথ দেখাচ্ছেন।
“রাজপুত্রকে বাঁচাতে হলে তোমাকে তার আত্মার ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।”
আরাধ্যা কেঁপে উঠল।
কারণ সে জানত—এই সাধনা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সে ফিরে নাও আসতে পারে।
তবুও সে চোখ বন্ধ করে বলল—
“আমি প্রস্তুত।”
 আত্মার ভেতরের যুদ্ধ
হঠাৎ পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।
আরাধ্যা অনুভব করল সে অন্য এক জগতে এসে পড়েছে।
চারদিকে কুয়াশা।
মাঝখানে রাজপুত্র হাঁটু গেড়ে বসে আছে। তার চারদিকে লোহার শিকল।
রাজপুত্র দুর্বল গলায় বলল—
“তুমি এখানে কেন এসেছ? পালাও… না হলে তুমি আটকে যাবে।”
আরাধ্যার চোখে জল চলে এল।
“আমি তোমাকে একা রেখে যেতে পারব না।”
হঠাৎ চারদিকে ভয়ংকর হাসি শোনা গেল।
অঘোরেশ্বরের বিশাল ছায়া তাদের ঘিরে ফেলল।
“তোমরা ভাবছ ভালোবাসা আমাকে হারাতে পারবে?”
মানসিক নির্যাতনের শুরু
অঘোরেশ্বর চারদিকে বিভ্রম তৈরি করল।
আরাধ্যা দেখল—
রাজপুত্র আবার আগের মতো নিষ্ঠুর হয়ে গেছে।
সে মানুষের ওপর অত্যাচার করছে।
গ্রাম পুড়িয়ে দিচ্ছে।
অঘোরেশ্বর বলল—
“দেখো… এটাই তার আসল রূপ।”
আরাধ্যা চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়ল।
“না… এটা মিথ্যা।”
অঘোরেশ্বর আরও ভয়ংকর দৃশ্য তৈরি করল—
সে দেখাল রাজপুত্র তাকে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
আরাধ্যার বুক ভেঙে যাচ্ছিল…
কিন্তু সে মন্ত্র জপ চালিয়ে গেল।
 ভালোবাসার শক্তি
হঠাৎ আরাধ্যা রাজপুত্রের কাছে গিয়ে তার হাত ধরল।
“আমি তোমার সব ভুল জানি… তবুও আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।”
রাজপুত্র কেঁদে ফেলল।
তার শিকল ধীরে ধীরে ফেটে যেতে শুরু করল।
অঘোরেশ্বর গর্জে উঠল—
“না! এটা অসম্ভব!”
 চূড়ান্ত সংঘর্ষের সূচনা
অঘোরেশ্বর তার পুরো শক্তি ব্যবহার করল।
চারদিকে ঝড় উঠল।
মাটি ফেটে যেতে লাগল।
আরাধ্যার শরীর কাঁপছিল।
সে অনুভব করছিল তার শক্তি ফুরিয়ে যাচ্ছে।
ঠিক তখন মাতঙ্গীর কণ্ঠ আবার ভেসে এল—
“আরাধ্যা, মনে রেখো—সত্যিকারের শক্তি আত্মত্যাগে।”
আরাধ্যা বুঝতে পারল তাকে কী করতে হবে।
 ভয়ংকর সিদ্ধান্ত
সে নিজের কপালে আঘাত করল।
তার রক্ত মাটিতে পড়তেই চারদিকে আলো ছড়িয়ে পড়ল।
সে বলল—
“যদি আমার প্রাণ দিয়েও তাকে বাঁচাতে হয়… আমি প্রস্তুত।”
এই কথা শুনে রাজপুত্র চিৎকার করে উঠল—
“না! আমি তোমাকে হারাতে চাই না!”
তার শিকল সম্পূর্ণ ভেঙে গেল।
ভয়ংকর মোড়
ঠিক সেই মুহূর্তে অঘোরেশ্বর নতুন রূপ ধারণ করল।
সে আরও বিশাল আর শক্তিশালী হয়ে উঠল।
সে হেসে বলল—
“তুমি ভাবছ তাকে মুক্ত করেছ?
এবার আমি তোমাকে দখল করব… কারণ তুমি তার থেকেও শক্তিশালী।”
অঘোরেশ্বরের ছায়া আরাধ্যার দিকে ধেয়ে এল।
 ক্লিফহ্যাঙ্গার
হঠাৎ বাইরে বাস্তব জগতে রাজপ্রাসাদ কাঁপতে শুরু করল।
মন্দিরের মাতঙ্গী মূর্তির চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল।
রাজপুত্র বাস্তব জগতে ধীরে চোখ খুলল…
কিন্তু আরাধ্যা নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
রাজপুত্র কাঁপা গলায় বলল—
“আরাধ্যা… ফিরে এসো…”
ঠিক তখন তার শরীর থেকে অঘোরেশ্বরের অন্ধকার শক্তি ধীরে বের হতে লাগল…
কিন্তু সেই অন্ধকার ছায়া আরাধ্যার শরীরের দিকে এগোতে শুরু করল।
ঘরের সব আলো নিভে গেল।
দূরে গঙ্গার জল ভয়ংকরভাবে গর্জন করতে লাগল…
 এখানেই অষ্টম পর্ব শেষ।