Jharapata 92 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 92

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 92

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৯২

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে প্রথম সূর্যের আলো এসে রনির মুখে পড়ে। একেই প্রায় সারারাত ঘুমোয়নি, সবে ঘুম এসেছে। এই নরম আলোয় এখন‌ই ঘুম ভাঙার কোনো লক্ষণ দেখা গেল না রনির। তবে সরাসরি মুখে আলো পড়ায় একটু নড়েচড়ে গুছিয়ে শুতে গেল। পাশাবালিশটা আরও জড়িয়ে তাতে মুখটা আড়াল করল। 

আবার ঘুমে ডুবে যেতে যেতে টের পেল, ওর দুহাতের মধ্যে পাশবালিশটাও ওর বুকে মুখ ঘষছে, ওকে দুহাতে জড়িয়ে পায়ের উপর পা তুলে দিল। আরেকটু গলে গিয়ে আধোঘুমে পাশবালিশটায় সম্পূর্ণ মুখ গুঁজে দিল ও। 

মিষ্টি একটা গন্ধ, সারা শরীর ঘিরে কোমল একটা শরীর, নিঃশ্বাসের তালে তালে ওর বুকের সঙ্গে আরেকজনের নরম বুকের ওঠানামা ক্রমশঃ ওকে ঘুমের ভিতরেও উত্তেজিত করে তুলছিল। কোনোভাবে ওর শরীর মিলিকে চাইতে শুরু করেছে বুঝতেই ঘুম ভেঙে গেল। মাথা ঘোরাতেই মুখে আলো পড়ল। বিরক্ত হয়ে চোখ খুলতেই এবার সমস্ত ছবিটা পরিষ্কার হল ওর কাছে। পাশবালিশ নয়, মিলিকে জড়িয়ে ঘুমোচ্ছিল ও। 

ওর দিকে ফিরে ওর বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে মিলি। একহাত ওর বুকে, অন্যহাতে ওর পিঠ আঁকড়ে আছে। ওর একহাতের উপর মিলির মাথা, অন্য হাতে মিলিকে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে রেখেছে। মিলির পরণে ওর টিশার্ট আর লোয়ার। কাল ও নিজেই বের করে দিয়েছে মিলিকে, প্রথমবার ওর কাছে সমর্পণের পর লজ্জা, ভয়, ব্যথায় কাতর মিলিকে আদর করে, যত্ন করে ভরিয়ে তুলেছিল, ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল। 

মিলি নিশ্চয়ই ওকে মেনে নিয়েছে, তবেই এত নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পেরেছে ওর কাছে। মিলির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ও। বড় বড় চোখদুটো এখন বন্ধ। ঘন কালো পল্লবে ঘেরা চোখের পাতা তিরতির করে কাঁপছে। নরম ফর্সা গালে ভোরের আলো খেলা করছে। ঘুমের মধ্যেই গোলাপি ঠোঁট জোড়া ফুলিয়ে গভীর নিঃশ্বাস ছাড়ল মিলি। এতটুকু ফাঁক নেই দুজনের মাঝে, মিলির নরম বুক নিষ্পেষিত হল রনির বুকে। 

মিলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ওর কপালে চুমু খেয়ে রনি ভাবে, "কেমন যেন স্বপ্নের মতো লাগছে, দুজন দুজনের কতটা কাছে এসেছি আজ। মিলির সবটুকুতে আমার অধিকার থাকবে, এই দিনটা সত্যিই আসবে ভাবতেই পারছিলাম না।"

রনির আদরে, চুম্বনে মিলি জেগে ওঠে। রনির আলিঙ্গনে নিজেকে অনুভব করেই মিলি জেগে উঠেছে। চোখ খুলতেই নিজের মুখের উপর রনির বড় চোখদুটো, হাসিভরা মুখ দেখতে পায়। আপনা থেকেই মিলির মুখেও হাসির রেখা ফুটে ওঠে। রনি ওর কপালে দিনের প্রথম স্নেহচুম্বন এঁকে দিতেই মিলি ওর আরও কাছে ঘেঁষে আসে। 

রনি ওর কানের পাশের চুল সরিয়ে ঠোঁট ছোঁওয়ায়, নিজেকে সামলে রাখা ওর পক্ষে ক্রমশঃ দুঃসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। মিলির কাঁধে মুখ নামিয়ে আনার আগেই খেয়াল হয় রাতের কথা। থেমে যায়, মিলির এলোমেলো চুলগুলো মুখের উপর থেকে সরিয়ে দিতে দিতে বলে, "ঠিক আছ তুমি?"

- "হুঁ, ঠিক আছি। ছাড়ো, এবার উঠব।" মিলির‌ও মনে পড়েছে, কাল রাতের জন্য নিশ্চয়ই পিউবৌদি তৈরি হয়ে আছে ঠাট্টা করতে। 

- "সত্যি ঠিক আছ?" রনি ওর কোমরের পিছনে নিজের দুহাতের আঙ্গুলে আঙ্গুল জড়িয়ে রেখে আলিঙ্গন শিথিল করে পিছনে মাথা হেলিয়ে ওর মুখের দিকে তাকায়। 

- "হ্যাঁ, ঠিক আছি।" মিলি প্রশ্নের অর্থ বুঝেছে, একরাশ লজ্জা এসে ওর গালের লালিমা বাড়িয়ে দিয়েছে। ধরে নেয় রনি এবার ওকে ছেড়ে দেবে, চটপট উঠে যাওয়ার চেষ্টা করে। 

- "ঠিক থাকলে চুপটি করে থাকো।" রনি ওর গলায় মুখ নামিয়ে এনেছে। 

- "কী করছ ! সকাল হয়ে আসছে ! সবাই উঠে পড়বে !" মিলি ওর চুলের মধ্যে আঙ্গুল ডুবিয়েই বলে। 

- "যে খুশি উঠুক। আমি এখন উঠব না। আমার বার্বিডলটাকে কাল ভালো করে আদর করতে পারিনি।"

- "তুমি থাকো, আমি যাব।" অনেকখানি মনের জোর একসঙ্গে করে মিলি বলে। রনির মাথা ততক্ষণে ওর বুকে, সব বাধা ভেঙে ফেলছে। যেভাবে ওর নিঃশ্বাস দ্রুত হচ্ছে, তাতে অন্ততঃ নিজেকে বেশিক্ষণ আটকাতে পারবে না, মিলি বুঝতে পারছে।

রনি ওর বুকের মধ্যেই মাথা নেড়ে না বলে, "উঁহু, যেতে দেব না এখন।" ওর আদরে ভেঙেচুরে যাচ্ছে মিলির সব প্রতিরোধ। তাও যতটুকু ছাড়াবার চেষ্টা করছে, রনি ততই সমস্ত শরীরে নিজের ভালোবাসার সাক্ষর এঁকে দিচ্ছে। 

আর কোনো উপায় না পেয়ে মিলিকে হার মানতেই হয় ওর ভালোবাসার কাছে। 

🌹❤🌹❤🌹❤🌹

অনেকখানি বেলা হয়ে যাওয়ার পর মিলি জোর করেই উঠে পড়তে চায়। রনি কাছে টানতেই এবার চটে ওঠে, আসলে দুজনে কাছাকাছি এসে ওর মনের অস্বস্তি, অশান্তি মিটে গেছে। এখন রনি ওর অধিকার, সেটা অনুভব করতে পারছে। 

তাই রনিকে ঠেলে দিয়ে বলে, "আর একদম কোনো দুষ্টুমি না। তখন কেউ জাগেনি, তুমি আমাকে না আটকালে চুপচাপ নিচে গিয়ে আমার জামাকাপড় বদলে নিতে পারতাম। তা না, এখন সবার সামনে...... তোমার জন্য সবসময় আমি মুশকিলে পড়ি।"

- "ইস," রনি নাক ফোলায়, "যেন মহারাণী ঘুম থেকে উঠে গেছিলেন, আমি আটকেছি। তুমি না পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছিলে, তাও এই এরম করে আমার কাছে।" একটানে মিলিকে নিজের বুকের উপর এনে ফেলে, "আর জামাকাপড় তো দিয়েছি। এটার রঙ পছন্দ না হলে আরেকটা নাও।"

- "সব বুঝে না বোঝার ভান করো না? তোমার জামা পরে ঘর থেকে বেরোব?" মিলি ওর হাতে একটা চাঁটি মারে। 

- "তাতে কি? বৌদি খ্যাপাতে এলে বলবে, বেনারসী পরে তো রাতে ঘুমোতে পারতে না, তাই এটা পরেছ। বাকি কথা না জানলেই হল। আচ্ছা ওঠো, আমি ঠিক করে দিচ্ছি।"

মিলি খাট থেকে নেমে দাঁড়ালে রনি ওর পায়ের কাছে বসে যত্ন করে লম্বা ঝুলে পড়া লোয়ারের নিচের দিকটা গুটিয়ে দেয়, "দেখো, এবার হাঁটার সময় ধরতে হবে না। হাতটা দেখি, গুটিয়ে দি।" মিলির হাত ধরেই উঠে দাঁড়ায় ও। 

মিলি আচমকা ওর হাতটা জড়িয়ে ধরে, "লাগবে না, আমি গুটিয়ে নিচ্ছি। সরি, তখন আমি রাগ করে বলেছি তোমার জন্য মুশকিল হয়। কাল তুমি আনতে গেলে বলে........"

- "হুঁ কাল আমি আনতে গেলাম বলে অত ভেজালাম। উফ, একজন বৃষ্টিতে ভিজে যা আগুন হয়ে উঠেছিল।" রনি ওর গলা জড়িয়ে ধরেছে, চোখ আর ঠোঁটের কোণায় দুষ্টু হাসিটা। 

- "আবার শুরু করলে?" মিলি গলা থেকে ওর হাত ছাড়ায়। 

বেরোনোর জন্য ঘুরতেই রনি বলে, "দাঁড়াও, আমাকে ভালো করে দেখো তো, আজ আবার দাদা ওঁত পেতে আছে।" ও মুখটা বাড়িয়ে দেয় মিলির দিকে। মিলি একদিকের গালে আঙ্গুল ছুঁইয়ে বোঝায়, সিঁদুর লেগে আছে। রনি আয়নার সামনে গিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। মিলি ওয়াশরুম থেকে তোয়ালে ভিজিয়ে এনে মুছে দিতে থাকে। 

তখনই দরজায় টোকা দিয়ে পিউ ডাকে, "ভাই, মিলি, এবার ওঠ। একটু বাইরে আয়। একটা দরকারী কথা আছে।"

চলবে