Jharapata 91 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 91

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 91

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৯১

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

দাদা বৌদি বেরিয়ে যাওয়ার আগে ঢিপ ঢিপ করে রনি দুজনকেই প্রণাম করে। প্রথমেই পিউকে, ওর দুহাত আটকা, বরণডালা ধরে আছে, হাঁ হাঁ করে উঠে থামাতে যায়। ততক্ষণে রনি দাদাকে প্রণাম করে ফেলেছে। 

বনি ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে, রনিও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে দাদাকে। দুই ভাই, দুই বন্ধুর অনেক মতবিরোধ হয়ে গেছে এই বিয়ের পর থেকে। আজ সেসব মনে পড়ে দুজনেরই মন ভারী। 

বনিই আগে সামলে নিয়ে ভাইয়ের পিঠ চাপড়ে বলল, "ঠিক আছে ঠিক আছে। আমরা তো আছি, নাকি? আজ তোরা দুজন একটু গল্প কর, নিজেদের মতো সময় কাটা। তোদের‌ও তো অনেক কিছু ক্লিয়ার করার আছে। আজকের সময়টা নষ্ট করিস না।" 

রনি দাদাকে ছেড়ে সরে দাঁড়াল। মিলি এগিয়ে এসেছিল ওদের প্রণাম করতে, বনি ওর দু হাত শক্ত করে চেপে ধরে থামিয়ে দিল, "এ্যাই তখন একবার হয়ে গেছে। বারবার প্রণাম করলেই বেশি পাত্তা দেব না। আমরা আসি, গুড নাইট।"

ওরা বেরিয়ে দরজাটা টেনে দিয়েছে যাওয়ার আগে। প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে ঘরের ভিতরের দুজনেই। তবুও রনি দরজার ছিটকিনিটা তুলেই দিল, বৌদিকে বিশ্বাস নেই। 

অবশ্য রনিই ঠিক। দরজা বন্ধের আওয়াজ পেতেই পিউ নিঃশব্দে এসে দরজায় কান পাতে। বরণডালা ও ঘরে রেখে এসেছে। বনি তৈরি ছিল, কান ধরে টেনে সোজা করে দাঁড় করালো পিউকে, "এক্ষুণি ঘরে চলো। নাহলে এইভাবে গোটা বাড়ি ঘোরাব।"

- "ধ্যাত, ভাল্লাগে না।" হাত পা ছুঁড়ে বাচ্চাদের মতো অভিমান দেখায় ও। এক চোখ কুঁচকে, তর্জনীর এক করের উপর বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ রেখে বোঝায়, অল্প একটু সময় থাকবে, দুজনের কী কথা হয় শুনবে। বনি ওর কান ছেড়ে দরজা আড়াল করে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াতেই পিউ ওকে গুম করে এক ঘা কিল মেরে হাঁটা দেয়। 

রনি দরজাটা বন্ধ করে ঘুরে ঘরের ভিতর তাকায়। মিলি খাটের পাশেই চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। রনির মনে পড়ে, আজ এমনিতেই চুপচাপ ছিল, তায় হঠাৎ এই ঘটনার ধাক্কা। সে নিজেই ভেবে পাচ্ছে না, কী করবে, কী বলবে। সেখানে মিলি যে কিছু বলতে পারবে না, এটা বোঝাই যাচ্ছে। 

প্রচণ্ড রকমের একটা উওেজনা কাজ করছে রনির মধ্যে, এই রাতটাকে একবার মিথ্যে করে দেওয়ার পর আর কোনোভাবেই মিলির কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ প্রমাণ করতে পারছিল না। অযাচিত ভাবে সেই সুযোগ দ্বিতীয়বার ফিরে পেয়েছে ও। আজকের রাতটাকে বৃথা হতে দেবে না, মিলিকে আজ‌ই এইটুকু বুঝিয়ে দিতে হবে, রনির জীবনের সবটাই ও। 

মিলির কাছে এগিয়ে এসে বলে, "দাঁড়িয়ে আছ কেন? বোসো না।"

হঠাৎ পিউয়ের এই আয়োজন, ওকে এত সাজিয়ে এই ঘরে পাঠানো, লজ্জায় মুখ তুলে তাকাতেই পারছিল না মিলি। রনির কথায় না বসে ওর দিকে এগিয়ে এসে নিচু হতে যেতেই রনি বোঝে ওকে প্রণাম করতে যাচ্ছে। 

এবার ও মিলির দু হাত ধরে ফেলে, তারপর জড়িয়ে ধরে বলে, "কী হচ্ছে এটা? তখন একবার করলে তো ! বরং সবাই ছিল বলে আশীর্বাদটা করতে পারিনি।"

মিলির ছোট্ট সুন্দর কপালে পিউর পরিয়ে দেওয়া গোল সিঁদুরের টিপটার একটু উপরে স্নেহচুম্বন এঁকে দেয় রনি। মিলির বড় বড় চোখে কাজল, লাইনার, কতকিছু পরিয়ে সাজিয়েছে পিউ। সেই অপূর্ব চোখের দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে ওর মুখের উপর। রনি চোখ সরাতে পারে না। মনে পড়ে রাস্তায় ভিজে শাড়িতে মিলিকে দেখে নিজেকে সামলে রাখা। সেকথাটা মিলিকে বলতে ইচ্ছে করে, কিন্তু ও যদি আরও লজ্জা পায়, ভুল বোঝে? 

বরং দু হাতে ওর মুখ তুলে ধরে বলে, "মিলি, আজ ওরা তোমাকে এ ঘরে দিয়ে গেছে। কিন্তু তুমি আমার কাছে থাকবে তো? যা হয়েছিল, আর রাগ নেই তো আমার উপর?"

উত্তর দেওয়ার বদলে মিলি ওর দু হাতের কবজি চেপে ধরেছে, চোখ বন্ধ করে ফেলেছে। মুখ নামিয়ে ওর বন্ধ চোখের পাতায় চুমু খায় রনি। কেঁপে উঠছে মিলি, ওর নরম শরীরের মাথা থেকে পা পর্যন্ত শিউরে উঠছে, রনি বুঝতে পারছে। শুধু বুঝতে পারছে না নিজের সীমানা কতটা। 

ওকে জড়িয়ে থেকেই বলে, "কাল কলেজ খুলবে, যেতে হবে তো? আবার দুদিন কামাই হবে। চলো শুয়ে পড়ো, আজ বৃষ্টিতে ভিজে, এই এত রাত অবধি খুব ধকল গেছে তোমার।"

মিলিকে ছেড়ে রনি নিজের আলমারি খোলে, ও টি শার্ট আর লোয়ার খুঁজছে, এসব ধুতি পাঞ্জাবী ছাড়বে। মিলির কাছাকাছি থাকার সাহস পাচ্ছে না ও। 

রনি সরে যেতেই মিলির দমবন্ধ লাগছে। একে তো পলাশের ঘটনায় ভীষণ গোল বেঁধেছে মনের মধ্যে, রনির কাছে, ওর আদরে সব ভুলতে পেরেছিল। এখন আবার সেই রাস্তার ধারে একলা দাঁড়িয়ে আছে মনে হচ্ছে। 

রনি জামাকাপড় হাতে পিছন ফিরে ওকে একভাবে দাঁড়ানো দেখে বুকের মধ্যে সেই হাতুড়ির ঘা টা ফিরে এসেছে বুঝতে পারে। কী অসম্ভব সুন্দর লাগছে মিলিকে ! এই মেয়েটা ওর সঙ্গে সবসময় এই ঘরে থাকবে? রনি ভেবে পায় না, ও কী করে থাকবে ! 

নিজেকে লুকোতে বলে, "আমি চেঞ্জ করে আসছি। তুমিও গয়নাগাটি, শাড়ি বদলে নাও। এসব পরে তো ঘুমোতে পারবে না।"

মিলি খাটের উপর বসে পড়ে। রনি দেখে কোলের উপর আঙ্গুলগুলো জড়ো করে রেখেছে, এক হাতে অন্য হাতের নখ খুঁটছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ঘাবড়ে গেছে, ভয় পাচ্ছে। 

কাছে এসে দাঁড়িয়ে ওর মাথায় হাত রেখে বলে, "কী হয়েছে মিলি? আমি বাইরে যাব?"

আচমকা মিলি ওর পাঞ্জাবীটা মুঠো করে ধরে ওকে আরও কাছে টেনে নেয়, উঠে দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ধরে ওকে, "তুমি কোথাও যাবে না, কোত্থাও যাবে না আমাকে ছেড়ে। কেন চলে যাও? কেন চলে যাওয়ার কথা বলো? আজ তুমি না এলে তখন আমি কী করতাম? আর কখনো তোমাকে চলে যেতে দেব না আমি।"

রনির হাত থেকে ওর জামাকাপড় পড়ে গেছে, ওর সমস্ত প্রতিরোধ চূর্ণ। মিলিকে জড়িয়ে ওকে নিজের সঙ্গে এক করে মিশিয়ে নিতে নিতে রনি বলে, "কোথাও যাব না আমি, আর কোত্থাও যাব না দেখো। তুমিও কোথাও যাবে না, যত ঝগড়াই করো, আর আমাকে ছেড়ে থাকতে দেব না আমি।"

মিলিকে হাত ধরে খাটে বসায়, ওর গালে হাত দিয়ে একবার আদর করে ঠোঁটের মধ্যে ডুবে যায় রনি। মিলির খোঁপার ভিতরে ওর দু হাত, এলোমেলো ভাঙা খোঁপা খুলে নরম রেশমি চুল ছড়িয়ে আছে ঘাড়ে, কাঁধে। মুখ তুলে রনি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। মিলি এবার ওর হাত ধরে কাছে টেনে আনে। 

মিলির কপালে কপাল ঠেকিয়ে রনি বলে, "আর কোনোদিন ওভাবে বৃষ্টিতে ভিজবে না। তোমাকে ওভাবে দেখলে আমার কী হয় বোঝোনা? একে তখন তোমাকে আদর করার জন্য ছটফট করছি, তায় তুমি আমার হাত ছাড়ছ না।"

- "আমার তখন তোমাকে একফোঁটাও ছাড়তে ইচ্ছে করছিল না। মনে হচ্ছিল, এমনি করে ধরে রাখি, কক্ষণো আমার কাছ থেকে একটুও দূরে যেতে দেব না।" মিলি ওর গলা জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে আলতো চুমু খায়। রনি ওর চুলের মধ্যে হাত চালিয়ে ওর মাথাটা নিজের মুখের উপর চেপে রাখতে চায়, মিলির খোঁপার একটা কাঁটার খোঁচা লেগে উফ বলে হাত সরিয়ে নেয়। 

মিলি সোজা হয়ে বসে, "কী হল? উফ বললে কেন?"

- "উফ বলব না ! ফুলের মালার মধ্যে দুনিয়ার যত কাঁটা গুঁজেছে। খোলো তো কাঁটাগুলো।" রনি ব্যথা লাগা হাতটা ঝাঁকায়। 

মিলি চেষ্টা করে, একটা একটা করে কাঁটা খুলে আনার। অধৈর্য্য রনি দেখি তো বলে ওর কাঁধ ধরে ঘুরিয়ে বসায়, খুঁজে খুঁজে একটা একটা করে কাঁটা খোলে। ওর হাত মিলির কানের পাশে, ঘাড়ে, কাঁধে ছুয়ে যাচ্ছে। মিলি নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে আছে। 

শেষে ফুলের মালাটা খুলে মিলিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর কানে কানে রনি বলে, "তোমাকে এরকম খোলা চুলে সবচেয়ে বেশি মিষ্টি লাগে।" মিলির ঘাড়ের উপর থেকে চুল সরিয়ে গভীরভাবে চুমু খায় ও। এক এক করে মিলির সমস্ত গয়না খুলে দেয়। 

মিলির এগিয়ে আসা, ওর সমর্পণে রনি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। এখন আবার ওর দুষ্টুবুদ্ধি ফিরে এসেছে। মিলিকে কাছে টেনে নিয়ে আঁচলটা পিন ছাড়িয়ে খুলে ফেলেছে। 

কাঁধ থেকে নামাতে যেতেই মিলি আঁচল চেপে ধরে, "কী করছ?"

রনি আবার চুমু খায় ওর ঠোঁটে। এবার মুখ নামিয়ে আনে ওর গলায়, বুকে। নিশ্চিতভাবে জানে ওকে থামানোর ক্ষমতা নেই মিলির। সত্যিই তাই। ওকে আঁকড়ে ধরে মিলি শুধু ফিসফিস করে বলে, "লাইটটা অফ করে দাও প্লিজ।"

চলবে