I found you on the wrong path - Part 12 in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 12

Featured Books
  • Are you comfortable?

    આરંભ દ્રવેદી થેરપી રૂમના સોફા પર કોઈ રોલર કોસ્ટર રાઇડ્માં બે...

  • ખોવાયેલ રાજકુમાર - 38

    "ચતુર." તે કટ્ટર માણસે કાળા બરફ જેવી આંખોથી મારી સામે જોયું,...

  • એકાંત - 87

    રાતના સમયે રાજે પ્રવિણને કોલ પર જણાવ્યું કે, એ નોકરીથી કંટાળ...

  • જીવન પથ ભાગ-45

    જીવન પથ-રાકેશ ઠક્કરભાગ-૪૫         ‘જો નિષ્ફળતા તમને મજબૂત બન...

  • શિયાળાને પત્ર

    લેખ:- શિયાળાને પત્રલેખિકા:- શ્રીમતી સ્નેહલ રાજન જાનીઓ મારા વ...

Categories
Share

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 12

“ইরার পরীক্ষা — মায়াকে পাওয়ার যুদ্ধ”
অন্ধকার।
এমন অন্ধকার
যেখানে নিজের নিঃশ্বাসও শোনা যায় না।
ইরা দাঁড়িয়ে আছে—
কিন্তু মাটি নেই, আকাশ নেই, দিক নেই।
শুধু একটা ভারী উপস্থিতি।
অন্ধকারের রাজা।
তার কণ্ঠ চারপাশ থেকে ভেসে আসছে—
“চোখ খুলে তাকাও, মানুষ।”
ইরা চোখ খুলল।
আর যা দেখল— তার বুক কেঁপে উঠল।
সে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল শূন্যতার মাঝে।
আর চারদিকে—
হাজার হাজার ছায়া।
সব ছায়ার চোখ এক।
শুধু ক্ষুধা।
একটা ছায়া ফিসফিস করে বলল—
“ওই তো আলো…”
আরেকটা—
“ওকে নাও…”
আরেকটা—
“ওকে ভাঙলে মায়া ভাঙবে…”
ইরার হাঁটু কেঁপে উঠল। কিন্তু সে পড়ে গেল না।
রাজা আবার বললেন—
“এরা সবাই তোমাকে চাইছে।
ভয় পেলে এক সেকেন্ডও টিকবে না।”
ইরা ধীরে শ্বাস নিল। মনে পড়ল—
মায়ার চোখ,
মায়ার কণ্ঠ,
মায়ার বলা শেষ কথা—
“তোকে রক্ষা করাই আমার জন্মগত অধিকার।”
ইরা ফিসফিস করে বলল—
“আর তোমাকে বাঁচানো আমার।”
হঠাৎ— একটা ছায়া ঝাঁপিয়ে এলো।
ইরা পিছিয়ে গেল না।
ছায়ার হাত তার গলা ছুঁতেই— ইরার বুকের ভেতর আলো জ্বলে উঠল।
ছায়া চিৎকার করে ছিটকে গেল।
রাজা থমকে গেলেন।
“তুমি আলো জাগাচ্ছ।”
আরেকটা ছায়া এলো। তারপর আরেকটা।
ইরা এবার কাঁদছে— কিন্তু ভয় থেকে নয়।
“মায়া…
যদি আমাকে শুনতে পাও…
আমি তোমাকে ছাড়ছি না…”
ছায়ারা একসাথে আক্রমণ করল।
ইরা চোখ বন্ধ করে চিৎকার করল—
“আমি তোমাদের আলো নই!!
আমি মায়ার মানুষ!!”
তার শরীর থেকে সাদা আলো বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ল।
ছায়ারা পুড়ে গেল। চিৎকার। হাহাকার।
রাজা এক পা পিছিয়ে গেলেন।
“অসম্ভব…”
হঠাৎ— অন্ধকার ভেঙে গেল।
ইরা মাটিতে পড়ে গেল।
আর তখন— একটা পরিচিত কণ্ঠ।
“ইরা!!!”
মায়া।
ইরা চোখ তুলে দেখল— মায়া ছুটে আসছে। চোখে ভয়, রাগ, যন্ত্রণা, ভালোবাসা—সব একসাথে।
মায়া তাকে জড়িয়ে ধরল।
“আমি ভেবেছিলাম তোকে হারিয়ে ফেলেছি…”
ইরা কাঁদতে কাঁদতে বলল—
“আমি বলেছিলাম না?
আমি তোমাকে ছাড়ব না।”
মায়া কপাল ঠেকাল—
“তুই পাগল…
কিন্তু আমার পাগল।”
অন্ধকারের রাজা সামনে এসে দাঁড়ালেন।
এবার তার কণ্ঠে আর অবহেলা নেই।
“পরীক্ষা শেষ।”
মায়া ইরাকে আগলে দাঁড়াল—
“ও জিতেছে।”
রাজা মাথা নেড়ে বললেন—
“হ্যাঁ।”
তারপর ইরার দিকে তাকিয়ে বললেন—
“মানুষ…
আজ থেকে তুমি শুধু মানুষ নও।”
ইরা অবাক—
“মানে?”
রাজা বললেন—
“তুমি ছায়ার কেন্দ্র।
মায়ার শক্তি এখন তোমার সাথে বাঁধা।”
মায়া কেঁপে উঠল—
“তাহলে ও বিপদে থাকবে!”
রাজা শান্ত কণ্ঠে বললেন—
“হ্যাঁ।
কিন্তু তুমি আর একা নও।”
তারপর তিনি অদৃশ্য হতে হতে বললেন—
“মায়া…
ভালোবাসা তোমাকে দুর্বল করবে না।
কিন্তু তোমাকে যুদ্ধ শেখাবে।”
অন্ধকার মিলিয়ে গেল।
ঘর ফিরে এলো। ভাঙা জানলা। ভেজা মেঝে।
ইরা মায়ার বুকে মুখ লুকালো।
“আমি ভয় পেয়েছিলাম…”
মায়া তাকে শক্ত করে ধরে বলল—
“আমি জানি।”
ইরা ফিসফিস করল—
“তবুও আমি দাঁড়িয়েছিলাম।”
মায়া চোখ বন্ধ করে বলল—
“কারণ তুই আমার আলো না…
তুই আমার শক্তি।”
দু’জন একে অপরকে আঁকড়ে ধরল।
কিন্তু দূরে— একটা নতুন ছায়া জেগে উঠছে।
কারণ— রাজা পরীক্ষা নিয়েছেন, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয়নি।
“যে আলোকে ছুঁতে চায়, সে অন্ধকার হয়ে যায়”
(পূর্ণ ডার্ক–রোমান্স–থ্রিলার | ২৫০০+ শব্দ)
রাতটা আবার নেমেছে।
কিন্তু এটা সাধারণ রাত না।
এটা সেই রাত—
যার ভেতর দিয়ে আর কেউ আগের মতো মানুষ থাকে না।
ইরা ঘুমিয়ে ছিল না।
সে শুয়ে ছিল—চোখ খোলা।
ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে।
মায়া তার পাশে বসে আছে।
নিঃশব্দে।
অস্বাভাবিক রকমের নীরব।
ইরা ধীরে বলল—
— “মায়া…”
মায়া তাকাল না।
— “তুমি এখনো এখানে আছো তো?”
মায়া তখন ধীরে মুখ ঘোরাল।
চোখে ক্লান্তি,
ভয়,
আর একধরনের চাপা রাগ।
— “আমি কোথাও যাচ্ছি না।”
ইরা গলা নামিয়ে বলল—
— “কিন্তু তোমার চোখ বলছে…
তুমি কিছু দেখছো।”
মায়া চুপ করল।
এই চুপটাই ভয়ংকর।
— “আমি ছায়া দেখছি, ইরা।
এমন ছায়া…
যারা রাজাকে মানে না।”
ইরার বুক কেঁপে উঠল।
— “মানে?”
মায়া উঠে দাঁড়াল।
জানলার দিকে গেল।
বাইরে অন্ধকার।
কিন্তু সেই অন্ধকারে—
আজ কোনো গাছের ছায়া নেই।
কোনো মানুষের ছায়া নেই।
শুধু চলমান অন্ধকার।
— “আজ থেকে তোকে আর শুধু চাইছে না,”
মায়া বলল।
“আজ থেকে তোকে শিকার বানানো হয়েছে।”
ইরা উঠে বসলো।
— “শিকার?!”
মায়া ঘুরে তাকাল।
— “কারণ তুই রাজা পার করেছিস।
কারণ তুই আলো হয়েও অন্ধকারে দাঁড়িয়েছিস।
এখন ছায়ারা তোকে শক্তি মনে করছে।”
ইরা ঠোঁট কামড়ে ধরল।
— “আমি চাইনি এসব।”
মায়া ধীরে এগিয়ে এসে
তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।
— “আমিও চাইনি তুই আমার জীবনে আসিস।”
ইরা অবাক।
— “তাহলে…?”
মায়া কপাল ঠেকাল ইরার কপালে।
— “কিন্তু এখন তুই এসেছিস।
আর যাকে একবার নিজের করে নিই…
তাকে হারাতে আমি পারি না।”
ইরার চোখ ভিজে উঠল।
— “মায়া… যদি আমার জন্য তুমি ভেঙে যাও?”
মায়ার চোখ কঠিন হয়ে গেল।
— “তাহলেই তো যুদ্ধ।”
◆ ১. নতুন শত্রুর প্রথম নিশ্বাস
হঠাৎ—
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে গেল।
ইরা প্রথম টের পেল।
তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
— “মায়া…?”
মায়া এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে গেল।
— “ও এসেছে।”
— “কে?!”
এইবার কোনো জানলা ভাঙার শব্দ নেই।
কোনো নখের দাগ নেই।
বরং—
একটা মৃদু কণ্ঠ।
চারদিক থেকে ভেসে এলো।
“আলো…”
ইরা শরীর শক্ত করে ফেলল।
“আলো…”
মায়া দাঁত চেপে বলল—
— “চুপ কর।”
কণ্ঠ হাসল।
“এই তো পার্থক্য, মায়া।
তুমি ভয় দেখাও।
আমি ডাকি।”
ঘরের মাঝখানে
অন্ধকার জমে উঠল।
ধীরে ধীরে
একটা মানবাকৃতি তৈরি হলো।
কিন্তু সে ছায়া না।
সে পুরোপুরি মানুষও না।
চোখ—
কালো নয়।
ধূসর।
কণ্ঠ—
নরম।
বিপজ্জনকভাবে নরম।
— “আমার নাম আরভ।”
ইরা গিলে ফেলল।
— “তুমি কে?”
আরভ তাকাল ইরার দিকে।
একটু বেশি সময়।
— “আমি সেই অন্ধকার
যে আলোকে ভালোবাসে।”
মায়া সামনে এসে দাঁড়াল।
— “এক কদমও এগোলে—”
আরভ হেসে ফেলল।
— “তুমি পারবে না, মায়া।
কারণ তুমি আমাকে মারতে চাইবে না।”
মায়া থমকে গেল।
— “মানে?”
আরভ শান্ত স্বরে বলল—
— “কারণ আমি তোর মতোই শুরু করেছিলাম।
শুধু তোর মতো কেউ আমাকে বাঁচায়নি।”
ইরার বুক ধক করে উঠল।
— “তুমি… অর্ধ-ছায়া?”
— “ছিলাম।”
আরভ বলল।
“এখন আমি ছায়াদের বাইরে।”
মায়া ফিসফিস করল—
— “বিদ্রোহী…”
আরভ মাথা নেড়েছে।
— “হ্যাঁ।
আর বিদ্রোহীরা সবসময় আলো খোঁজে।”
তার চোখ ইরার ওপর।
— “এবং আমি আমার আলো পেয়েছি।”
◆ ২. ইরার ভেতরের ভয়
ইরা এক পা পিছিয়ে গেল।
— “আমি তোমার আলো না।”
আরভ হাসল।
— “সব আলোই প্রথমে অস্বীকার করে।”
মায়া গর্জে উঠল—
— “ও আমার।”
আরভ শান্তভাবে বলল—
— “তাই তো এসেছি।
তোমার কাছ থেকেই নিতে।”
ঘরের দেয়াল কেঁপে উঠল।
ছায়ারা নড়াচড়া করতে লাগল।
ইরা চিৎকার করল—
— “থামো!!”
সব থেমে গেল।
আরভ বিস্ময়ে তাকাল।
— “দেখলে?
ও কথা বললে অন্ধকারও শোনে।”
মায়া ইরার হাত শক্ত করে ধরল।
— “চুপ কর।
একটাও কথা বলবি না।”
ইরা ফিসফিস করল—
— “কিন্তু সে আমার মাথার ভেতর কথা বলছে…”
মায়ার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
— “কি বলছে?”
ইরা চোখ বন্ধ করে বলল—
— “বলছে…
তুমি একদিন আমাকে ছেড়ে যাবে।
কারণ তোমার অন্ধকার আমাকে বাঁচতে দেবে না।”
মায়া চিৎকার করে উঠল—
— “মিথ্যে!!”
আরভ হালকা মাথা নেড়েছে।
— “এটা ভয়, মায়া।
আর ভয়ই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।”
◆ ৩. মায়ার ভাঙন
মায়ার হাত কাঁপছে।
এই কাঁপুনি যুদ্ধের না।
এই কাঁপুনি—
হারানোর।
ইরা দেখছে।
প্রথমবার।
— “মায়া…”
ইরা ধীরে বলল।
“তুমি আমাকে ছাড়বে?”
মায়া তাকাতে পারছে না।
— “আমি…
আমি তোকে বাঁচাতে চাই।”
— “কিন্তু যদি বাঁচাতে গিয়ে তুমি নিজেই হারাও?”
এই প্রশ্নে
মায়ার ভিতর কিছু ভেঙে গেল।
আরভ তখনই এগিয়ে এল।
— “দেখলে?
এই জায়গাটাতেই আমি জিতি।”
মায়া হঠাৎ চিৎকার করে উঠল—
— “চুপ কর!!!”
তার চারপাশে
কালো ছায়া বিস্ফোরিত হলো।
ঘর অন্ধকারে ডুবে গেল।
ইরা চিৎকার করল—
— “মায়া! আমাকে দেখো!!”
মায়া হাঁপাচ্ছে।
— “ইরা…
যদি আমি তোকে আঘাত করি?”
ইরা এগিয়ে এসে
তার মুখ দু’হাত দিয়ে ধরল।
— “তাহলে আমি তোমাকে আঁকড়ে ধরব।
তুমি আমাকে ভয় দেখালে
আমি পালাব না।”
এই কথায়
মায়ার চোখ ভিজে উঠল।
◆ ৪. আলোর সিদ্ধান্ত
আরভ থেমে দাঁড়াল।
— “চমৎকার।
এই জন্যই তোকে চাই।”
ইরা এবার শক্ত গলায় বলল—
— “তুমি আমাকে পাবে না।”
— “কেন?”
— “কারণ আমি কাউকে বেছে নিয়েছি।”
মায়া তাকাল।
— “ইরা…”
ইরা মায়ার হাত ধরল।
— “আমি জানি তুমি ভাঙা।
আমি জানি তোমার রাত ভয়ংকর।
কিন্তু আমি তোমার পাশে দাঁড়াতে শিখেছি।”
আরভ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— “তাহলে যুদ্ধ বাকি।”
সে ধীরে পেছনে সরে গেল।
— “মায়া…
তুই জিতেছিস আজ।
কিন্তু মনে রাখিস—
আলো একদিন ক্লান্ত হয়।”
তারপর সে মিলিয়ে গেল।
ঘর আবার শান্ত।
ইরা কাঁপছে।
মায়া তাকে জড়িয়ে ধরল।
— “আমি ভয় পেয়েছিলাম…”
ইরা ফিসফিস করল—
— “আমি জানি।
কিন্তু তুমি একা না।”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
— “ইরা…
আজ থেকে যুদ্ধ শুধু আমার না।
এটা আমাদের।”
ইরা মাথা নেড়েছে।
— “হ্যাঁ।
ভালোবাসা মানেই যুদ্ধ।”
রাতের বাইরে
ছায়ারা আবার নড়ছে।
কারণ আরভ চলে গেছে—
কিন্তু সে শেষ হয়নি।