“ভালোবাসার বিনিময় — যা চাইলে রক্ত দিতে হয়”
(ডার্ক রোমান্স | সাইকোলজিকাল থ্রিলার | ২৫০০+ শব্দ)
রাতটা আর নীরব নেই।
নীরবতা ভেঙে গেছে—
কিন্তু শব্দে না,
রক্তে।
ইরা জানত না কখন তার হাত কাঁপতে শুরু করেছে।
সে শুধু অনুভব করছিল—
মায়ার বুকের ভেতরে হৃদস্পন্দনটা অস্বাভাবিক দ্রুত।
মায়া তাকে জড়িয়ে ধরে আছে।
এত শক্ত করে—
যেন ছেড়ে দিলে পৃথিবী ভেঙে যাবে।
— “মায়া…”
ইরা ধীরে বলল।
“শ্বাস নাও।”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
কিন্তু শ্বাস স্বাভাবিক হলো না।
— “ও চলে যায়নি,”
মায়া ফিসফিস করল।
“আরভ কখনো চলে যায় না।
ও শুধু অপেক্ষা করে।”
ইরা তার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল।
— “তাহলে আমরাও অপেক্ষা করব না।”
মায়া তাকাল।
চোখে প্রশ্ন।
— “মানে?”
ইরা গভীর শ্বাস নিল।
— “আমি আর শুধু আলো হয়ে থাকব না।
আমি জানব…
আমি কী, কেন, কতটা।”
মায়ার মুখ শক্ত হয়ে গেল।
— “না।
এই পথটা আমি তোকে একা হাঁটতে দেব না।”
ইরা মাথা নাড়ল।
— “তাই তো বলছি—
আমরা একসাথে হাঁটব।”
◆ ১. ছায়াদের পুরনো ঘর
সেই রাতেই তারা বেরোল।
শহরের প্রান্তে—
যেখানে আলো পৌঁছায় না,
আর মানুষ ইচ্ছে করেই আসে না।
একটা পরিত্যক্ত দালান।
ভাঙা সিঁড়ি।
জং ধরা লোহার গেট।
ইরা দাঁড়িয়ে গেল।
— “এখানে?”
মায়া মাথা নেড়েছে।
— “ছায়াদের পুরনো ঘর।
এখানেই প্রথম
অর্ধ-ছায়ারা শেখে—
কীভাবে বাঁচতে হয়।”
ইরার গলা শুকিয়ে গেল।
— “আরভ এখানেই ছিল?”
— “হ্যাঁ।
আর এখানেই সে বুঝেছিল—
ভালোবাসা মানেই দুর্বলতা।”
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই
বাতাস বদলে গেল।
ইরা শিউরে উঠল।
— “এখানে…
কিছু তাকিয়ে আছে।”
মায়া শান্ত কণ্ঠে বলল—
— “ওরা মৃত স্মৃতি।
ছায়াদের ফেলে যাওয়া ভয়।”
দেয়ালে কালো দাগ।
মেঝেতে অদ্ভুত চিহ্ন।
আর মাঝখানে—
একটা গোল ঘর।
মায়া থামল।
— “এখানেই শুরু।”
◆ ২. রক্তের শর্ত
ঘরের মাঝখানে
একটা পাথরের বেদি।
মায়া হাত রাখল সেখানে।
ঘর কেঁপে উঠল।
ইরা ভয় পেয়ে বলল—
— “মায়া! এটা কী করছ?!”
মায়া ঘুরে তাকাল।
— “যদি তুই জানতে চাস—
তাহলে মূল্য দিতে হবে।”
— “কী মূল্য?”
মায়া চোখ নামাল।
— “রক্ত।”
ইরা স্তব্ধ।
— “রক্ত মানে…?”
— “ছায়ারা বিশ্বাস করে—
রক্ত ছাড়া সত্য আসে না।”
ইরা এক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে নিজের হাত বাড়াল।
— “আমার নাও।”
মায়া অবাক।
— “ইরা, না—”
— “তুমি তো আমাকে রক্ষা করেছ।
আজ আমার পালা।”
মায়া কাঁপা হাতে
ইরার কবজি ধরল।
একটা ছোট কাট।
রক্ত ঝরল।
মেঝের চিহ্নগুলো জ্বলে উঠল।
হঠাৎ চারপাশে কণ্ঠ।
“আলো রক্ত দিল…”
“অভিশাপ নাকি আশীর্বাদ?”
ইরা মাথা ধরে ফেলল।
— “মায়া…
আমার মাথার ভেতর…”
মায়া শক্ত করে ধরল।
— “দেখ।
সব দেখ।”
◆ ৩. ইরার সত্য
হঠাৎ—
ইরা আর ঘরে নেই।
সে দাঁড়িয়ে আছে
একটা ছোট ঘরে।
বয়স কম।
হাত কাঁপছে।
একটা দরজা বন্ধ।
বাইরে ঝগড়ার শব্দ।
ইরা শ্বাস আটকে গেল।
— “এটা…
আমার শৈশব…”
মায়ার কণ্ঠ ভেসে এলো—
— “তুই সবসময় আলো ছিলিস না, ইরা।
তুই বেঁচে গিয়েছিলিস।”
ছোট ইরা দরজার কোণে বসে কাঁদছে।
অন্ধকার ঘর।
কেউ আসছে না।
ইরা হাঁপিয়ে উঠল।
— “আমি ভুলে গিয়েছিলাম…”
মায়া বলল—
— “না।
তুই চাপা দিয়েছিলিস।”
হঠাৎ দৃশ্য বদলাল।
আরভ।
ছোট আরভ।
একইরকম ঘর।
কিন্তু সে কাঁদছে না।
সে হাসছে।
— “এখানেই পার্থক্য,”
মায়া বলল।
“তুই বাঁচতে চেয়েছিলিস।
ও শক্ত হতে চেয়েছিল।”
ইরা চোখে জল নিয়ে বলল—
— “তাহলে…
আমি আর ও একই জায়গা থেকে এসেছি?”
— “হ্যাঁ।
কিন্তু তুই আলো বেছেছিস।”
◆ ৪. আরভের প্রত্যাবর্তন
হঠাৎ দৃশ্য ছিন্নভিন্ন।
ঘরে ফিরে এলো তারা।
আর দরজার সামনে—
আরভ।
হাততালি দিচ্ছে।
— “অসাধারণ,”
সে বলল।
“ভীষণ সুন্দর গল্প।”
মায়া সামনে দাঁড়াল।
— “তুই এখানে কেন?”
আরভ চোখ নামাল ইরার দিকে।
— “কারণ আলো রক্ত দিয়েছে।
এখন ও আর শুধু তোমার না।”
ইরা গর্জে উঠল—
— “আমি কারো সম্পত্তি না!”
আরভ হাসল।
— “তাই তো মজা।”
হঠাৎ সে হাত তুলল।
ঘরের ছায়া জীবন্ত হয়ে উঠল।
মায়া চিৎকার করল—
— “ইরা, আমার পিছনে!”
কিন্তু ইরা নড়ল না।
তার চোখ জ্বলছে।
— “না।
আজ আমি সামনে দাঁড়াব।”
আরভ থমকে গেল।
— “ওহ?”
ইরা ধীরে বলল—
— “তুমি আমার ভয় ব্যবহার করতে চেয়েছ।
কিন্তু আজ আমি ভয়কে দেখছি।”
হঠাৎ ইরার শরীর থেকে
সাদা আলো নয়—
রুপোলি আলো বেরোল।
আরভ পিছিয়ে গেল।
— “এটা…
এটা সম্ভব না!”
মায়া বিস্ময়ে ফিসফিস করল—
— “তুই বদলে যাচ্ছিস…”
ইরা তাকাল।
— “না।
আমি মনে পড়াচ্ছি—
আমি কে।”
◆ ৫. ভালোবাসার চুক্তি
আরভ হঠাৎ থেমে গেল।
— “ঠিক আছে,”
সে শান্ত স্বরে বলল।
“চুক্তি করি।”
— “কী চুক্তি?”
মায়া গর্জে উঠল।
— “এক রাত।
এক পরীক্ষা।”
ইরা বলল—
— “বল।”
মায়া তাকাল।
— “ইরা, না—”
আরভ বলল—
— “যদি আলো এক রাত অন্ধকারে টিকে থাকে—
আমি সরে যাব।”
ঘর নীরব।
মায়া ইরার মুখ ধরল।
— “আমি তোকে পাঠাব না।”
ইরা চোখে চোখ রাখল।
— “যদি না যাই—
যুদ্ধ শেষ হবে না।”
একটু থেমে সে বলল—
— “বিশ্বাস করো।”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
দাঁত চেপে।
— “এক রাত।
একটাও কাঁদবি না।”
ইরা হালকা হাসল।
— “আমি আলো।
আমি ভাঙব না।”
আরভ হাত বাড়াল।
— “স্বাগতম অন্ধকারে, ইরা।”
ছায়া ঘিরে ধরল।
মায়া চিৎকার করল—
— “ইরা!!!!”
আর সব অন্ধকার হয়ে গেল।