Unexpressed Feelings - 2 in Bengali Love Stories by Sohagi Baski books and stories PDF | অপ্রকাশিত অনুভূতি - 2

Featured Books
Categories
Share

অপ্রকাশিত অনুভূতি - 2

কারণ সে বুঝতে পারছে—এই সম্পর্কটা আর শুধু বস আর এমপ্লয়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই… কিছু একটা বদলাতে শুরু করেছে।
পরের দিন সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হলেও, ভেতরে ভেতরে দুজনেরই কিছু যেন পাল্টে গেছে। অফিসে ঢোকার সময় মেহের আগের মতোই নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে, কিন্তু আজ তার মনটা অদ্ভুতভাবে অস্থির। লিফটের সেই মুহূর্তটা বারবার মনে পড়ছে—অর্ণবের চোখ, তার কণ্ঠের সেই শান্ত ভরসা… সবকিছু যেন এখনও খুব কাছাকাছি।
সে মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের মনোযোগ কাজে ফেরানোর চেষ্টা করল।
অন্যদিকে, অর্ণবও নিজের কেবিনে বসে ছিল, কিন্তু আজ তার রুটিনটা যেন একটু এলোমেলো। সে ফাইল খুলছে, আবার বন্ধ করছে। কাজের মাঝে মাঝেই তার দৃষ্টি অনিচ্ছাসত্ত্বেও বাইরে চলে যাচ্ছে—ঠিক সেই জায়গাটায়, যেখানে মেহের বসে।
সে নিজেকে থামানোর চেষ্টা করছিল।
“Focus,” সে নিজের মনেই বলল।
কিন্তু মন কি এত সহজে শোনে?
কিছুক্ষণ পর HR থেকে একটা মেইল এলো—টিম রিভিউ মিটিং।
সবাই কনফারেন্স রুমে জড়ো হলো। মেহেরও নোটপ্যাড হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে পড়ল। সে এখনও এই বড় বড় মিটিংয়ে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ নয়, তাই সে শুধু শোনার দিকেই মন দেয়।
অর্ণব ঢুকতেই রুমটা নিঃশব্দ হয়ে গেল।
সে একে একে সবার কাজ নিয়ে কথা বলতে লাগল—কোথায় ভুল, কোথায় ঠিক, কোথায় উন্নতি দরকার। তার গলায় সেই একই কড়া ভাব, যা সবাইকে একটু সোজা হয়ে বসতে বাধ্য করে।
হঠাৎই তার দৃষ্টি গিয়ে থামল মেহেরের ওপর।
“Meher.”
মেহের চমকে উঠে তাকাল।
“Your last report… improved.”
একটা ছোট বাক্য।
কিন্তু পুরো রুম অবাক হয়ে গেল।
কারণ অর্ণব কাউকে এভাবে সরাসরি প্রশংসা খুব কমই করে।
মেহের নিজেও কিছুক্ষণ বুঝতে পারল না কী বলবে। তারপর আস্তে বলল, “Thank you, sir…”
তার গলায় নার্ভাসনেস থাকলেও চোখে একটা আলাদা উজ্জ্বলতা ছিল।
অর্ণব দৃষ্টি সরিয়ে নিল, যেন কিছুই হয়নি।
কিন্তু তার ভেতরে অদ্ভুত একটা শান্তি কাজ করছিল।
মিটিং শেষ হওয়ার পর সবাই একে একে বেরিয়ে গেল। মেহেরও বেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু দরজার কাছে পৌঁছতেই অর্ণব বলল, “You. Stay.”
সে থেমে গেল।
রুমে এখন শুধু দুজন।
মেহেরের বুক আবার ধড়ফড় করতে লাগল।
“Did you understand everything from the meeting?” অর্ণব জিজ্ঞেস করল।
“জি… mostly,” সে আস্তে বলল।
অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল, তারপর বলল, “If you have doubts, ask. Don’t struggle alone.”
কথাটা সাধারণ, কিন্তু তার ভেতরে অন্যরকম একটা ভাব ছিল।
মেহের একটু অবাক হয়ে গেল।
সে ধীরে বলল, “জি… আমি জিজ্ঞেস করব।”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর অর্ণব হঠাৎই বলল, “And… don’t stay late unnecessarily.”
মেহেরের চোখে হালকা বিস্ময় ফুটে উঠল।
সে বুঝতে পারল—এই কথাটা শুধু একজন বসের দায়িত্ব না… এর পেছনে আরও কিছু আছে।
সে আস্তে মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল।
অর্ণব একা দাঁড়িয়ে রইল।
সে নিজের মনে স্বীকার করল না, কিন্তু সত্যিটা পরিষ্কার—সে এখন মেহেরের ব্যাপারে ভাবছে… আগের থেকে অনেক বেশি।
দিনগুলো আবার কেটে যেতে লাগল, কিন্তু এখন ছোট ছোট মুহূর্তগুলো বদলে গেছে। কখনো হালকা চোখাচোখি, কখনো অকারণে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া, কখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেও কথা না বলা—সবকিছুতেই একটা অদ্ভুত টান তৈরি হচ্ছে।
একদিন বিকেলে, হঠাৎ করে বাইরে বৃষ্টি শুরু হলো।
জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ পড়ছে, আর পুরো শহরটা ধোঁয়াটে হয়ে গেছে।
অফিস শেষ হওয়ার সময়, সবাই একে একে বেরিয়ে যাচ্ছে। মেহেরও নিচে এসে দাঁড়াল, কিন্তু তার কাছে ছাতা নেই।
সে একটু চিন্তায় পড়ে গেল।
ঠিক তখনই তার পাশে একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো—
“Wait.”
সে ঘুরে তাকাল।
অর্ণব।
তার হাতে একটা কালো ছাতা।
সে কিছু না বলে ছাতাটা খুলে তার দিকে এগিয়ে দিল।
“Take it.”
মেহের অবাক হয়ে বলল, “না… আপনি—”
“Just take it,” অর্ণব কথাটা কেটে দিল।
মেহের ধীরে ছাতাটা নিল।
“আপনি…?” সে আবার বলতে গেল।
অর্ণব হালকা ভ্রু তুলে বলল, “I have another way.”
কথাটা বলে সে অন্যদিকে হাঁটতে শুরু করল।
মেহের দাঁড়িয়ে রইল, ছাতাটা হাতে নিয়ে।
তার মুখে ধীরে ধীরে একটা নরম হাসি ফুটে উঠল।
বৃষ্টির শব্দের মাঝেই, সে বুঝতে পারল—
এই সম্পর্কটা ধীরে ধীরে আরও গভীর হয়ে যাচ্ছে…
আর অর্ণব… ভিজতে ভিজতেই হাঁটছিল, কিন্তু আজ বৃষ্টিটা তার কাছে অস্বস্তিকর লাগছিল না।
বরং, অনেকদিন পর তার ভেতরে কিছু একটা নরম হয়ে আসছিল

বৃষ্টির সেই দিনটার পর থেকে সবকিছু যেন আরও অদ্ভুতভাবে বদলে যেতে লাগল।

পরের কয়েকদিন, মেহের লক্ষ্য করল—অর্ণব আগের মতোই কঠোর, আগের মতোই দূরত্ব বজায় রাখে… কিন্তু কোথাও যেন এক অদৃশ্য নরমতা লুকিয়ে আছে।

মিটিংয়ে তার কণ্ঠ এখনও দৃঢ়, কিন্তু মাঝে মাঝে এক ঝলক দৃষ্টি এসে থামে—শুধু তার ওপর।

মেহের নিজেকে বারবার বোঝাতে চেষ্টা করে—

“এটা শুধু আমার ভুল ধারণা…”

কিন্তু মন কি এত সহজে মানে?

একদিন দুপুরে, অফিসের ক্যান্টিন প্রায় ফাঁকা। মেহের এক কোণে বসে চুপচাপ লাঞ্চ করছিল।

হঠাৎ তার সামনে চেয়ারটা কেউ টেনে বসল।

সে তাকিয়ে একটু থমকে গেল—

অর্ণব।

“May I?” সে স্বাভাবিক গলায় বলল।

মেহের একটু নার্ভাস হয়ে মাথা নাড়ল, “জি…”

দুজনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ খেতে লাগল।

নীরবতাটা অস্বস্তিকর হওয়ার কথা… কিন্তু আজ সেটা অদ্ভুতভাবে শান্ত।

হঠাৎ অর্ণব বলল,

“You’re adjusting well.”

মেহের অবাক হয়ে তাকাল, “আমি…?”

“Hmm,” সে মাথা নাড়ল, “First few days, you looked lost.”

মেহের একটু লজ্জা পেয়ে হালকা হেসে ফেলল,

“Actually… এখনও একটু লাগে।”

অর্ণবের ঠোঁটের কোণে খুব সামান্য হাসি ফুটে উঠল—

যেটা সে দ্রুত লুকিয়ে ফেলল।

“Good,” সে বলল, “Means you’re learning.”

কথাটা শুনে মেহেরের বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে উষ্ণ হয়ে উঠল।

কিন্তু ঠিক তখনই—

একজন সহকর্মী ক্যান্টিনে ঢুকতেই, অর্ণব আবার আগের মতো গম্ভীর হয়ে গেল।

সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “Finish your lunch on time.”

আর কোনো কথা না বলে চলে গেল।

মেহের বসে রইল।

তার মনে হচ্ছিল—এই মানুষটা যেন দুইটা আলাদা রূপে বেঁচে আছে।

একটা সবার জন্য—

আর একটা… শুধু তার সামনে।

দিন যেতে লাগল।

এক সন্ধ্যায়, অফিস প্রায় খালি।

মেহের একটা প্রেজেন্টেশন শেষ করতে দেরি করে ফেলেছে।

সে যখন কাজ গুছিয়ে বেরোতে যাবে, তখন দেখল—অর্ণব এখনও তার কেবিনে।

সে একটু দ্বিধা করে দরজায় নক করল।

“Come in.”

মেহের ঢুকে বলল, “Sir… আমি যাচ্ছি।”

অর্ণব মাথা তুলে তাকাল।

কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

“Late again.”

“Last slideটা ঠিক করছিলাম…” সে আস্তে বলল।

অর্ণব চেয়ার থেকে উঠে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল।

মেহেরের বুক আবার ধড়ফড় করতে লাগল।

“Perfection is good,” সে বলল,

“but not at the cost of yourself.”

কথাটা বলার সময় তার কণ্ঠ আগের চেয়ে অনেক নরম।

মেহের একটু থেমে বলল,

“আপনি… এত খেয়াল রাখেন কেন?”

প্রশ্নটা বেরিয়ে যাওয়ার পরই সে বুঝল—এটা বলা উচিত ছিল না।

রুমটা হঠাৎ নিঃশব্দ হয়ে গেল।

অর্ণব থেমে গেল।

তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য এমন কিছু ফুটে উঠল—যেটা সে নিজেও লুকাতে পারল না।

সে ধীরে বলল,

“Maybe… I shouldn’t.”

মেহেরের বুকটা হালকা কেঁপে উঠল।

কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।

তারপর অর্ণব দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে বলল,

“Go home, Meher.”

আজ প্রথমবার—

সে তার নামটা এমনভাবে বলল, যেন সেটা শুধু একটা নাম না… আরও কিছু।

মেহের কিছু না বলে বেরিয়ে গেল।

কিন্তু করিডোর দিয়ে হাঁটার সময়, তার মনে হচ্ছিল—

আজ কিছু একটা বদলে গেছে… একদম স্পষ্টভাবে।

আর অর্ণব…

কেবিনে একা দাঁড়িয়ে, ধীরে চোখ বন্ধ করল।

সে বুঝতে পারছে—

এখন আর এটা শুধু দায়িত্ব না…

এটা এমন একটা অনুভূতি, যেটা সে এড়িয়ে যেতে চাইছে…

কিন্তু পারছে না।

বৃষ্টির সেই দিনের পর থেকে অর্ণব আর মেহের—দুজনের মধ্যেই একটা অদ্ভুত নীরব টান তৈরি হয়ে ছিল, যা কেউ মুখে স্বীকার না করলেও দুজনেই অনুভব করছিল। অফিসে সবকিছু আগের মতোই চলছিল, কিন্তু তাদের চোখের ভাষা বদলে গেছে—কখনো এক ঝলক তাকানো, আবার হঠাৎ করে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া… যেন কিছু একটা লুকানো আছে।

একদিন দুপুরে, হঠাৎ করে অফিসে নতুন একটা মুখ দেখা গেল।

একজন মেয়ে—আত্মবিশ্বাসী, স্মার্ট, আর অর্ণবের কেবিনে সরাসরি ঢুকে গেল। সবাই একটু অবাক। কিছুক্ষণ পর খবরটা ছড়িয়ে পড়ল—সে নাকি অর্ণবের পুরনো পরিচিত… খুব কাছের কেউ।

মেহের চুপচাপ নিজের কাজ করছিল, কিন্তু তার মনটা অদ্ভুতভাবে অস্থির হয়ে উঠল। সে নিজেকে বোঝাতে লাগল—“এতে আমার কি আসে যায়…?”

তবুও, তার চোখ বারবার অর্ণবের কেবিনের দিকে চলে যাচ্ছিল।

কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে গেল। অর্ণব আর সেই মেয়েটা একসাথে বের হলো। মেয়েটা হালকা হেসে কিছু বলল, আর অর্ণবও উত্তর দিল—একটা নরম, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে… যেটা সে অফিসে খুব কমই করে।

মেহেরের বুকটা হঠাৎ করে কেমন যেন চেপে গেল।

সে চোখ নামিয়ে নিল।

সেদিন কাজের মাঝে তার মনোযোগ বারবার ভেঙে যাচ্ছিল। ছোট ছোট ভুল করতে লাগল, যা সে সাধারণত করে না। অবশেষে বিকেলের দিকে অর্ণব তাকে ডাকল।

“Meher.”

সে কেবিনে ঢুকতেই অর্ণব ফাইলটা সামনে রাখল।

“This is not like you.”

তার গলায় কড়া সুর থাকলেও চোখে একটা প্রশ্ন ছিল।

মেহের কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর আস্তে বলল, “Sorry… আমি ঠিক করে দেব।”

অর্ণব একটু থেমে জিজ্ঞেস করল, “What’s wrong?”

এই প্রশ্নটাই যেন সবকিছু ভেঙে দিল।

মেহের মাথা তুলে তাকাল। তার চোখে হালকা রাগ, কষ্ট, আর অভিমান মিশে ছিল।

“Nothing, sir.”

“Don’t lie,” অর্ণব একটু নরম গলায় বলল।

মেহের হালকা হেসে ফেলল—একটা কষ্টের হাসি।

“আপনার তো অনেক কিছু আছে চিন্তা করার… আমি তার মধ্যে পড়ি না।”

অর্ণব ভ্রু কুঁচকে তাকাল, “What do you mean?”

মেহের এবার সরাসরি তাকাল।

“আজকে যে ম্যাম এসেছিল… she seems important.”

কথাটা বলেই সে নিজেকে সামলাতে পারল না—তার কণ্ঠে ঈর্ষাটা স্পষ্ট হয়ে উঠল।

কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা।

তারপর অর্ণব ধীরে ধীরে বলল, “Are you… jealous?”

মেহের থমকে গেল।

সে কিছু বলতে পারল না।

এই নীরবতাই উত্তর হয়ে দাঁড়াল।

অর্ণব চেয়ার থেকে উঠে তার দিকে এক পা এগিয়ে এল। তার চোখ এবার আগের মতো কঠিন না—বরং গভীর, আর একটু নরম।

“Good,” সে আস্তে বলল।

মেহের অবাক হয়ে তাকাল, “What…?”

অর্ণব একটু হালকা হাসল—যেটা সে খুব কমই করে।

“Because I was starting to think… I’m the only one feeling this.”

মেহেরের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

“Feeling what…?” সে ফিসফিস করে বলল।

অর্ণব আর এক পা এগিয়ে এল। দুজনের মধ্যে দূরত্বটা এখন খুব কম।

“এই যে তোমাকে নিয়ে ভাবা… তোমার জন্য চিন্তা করা… তোমার দিকে বারবার তাকাতে ইচ্ছে করা…”

তার গলা ধীরে ধীরে নিচু হয়ে এলো।

“I don’t do this for anyone.”

মেহের নিঃশ্বাস আটকে শুনছিল।

অর্ণব এবার স্পষ্ট করে বলল—

“I like you, Meher.”

মুহূর্তটা যেন থেমে গেল।

বাইরে অফিসের শব্দ, ফোনের রিং—সবকিছু দূরে সরে গেল।

মেহেরের চোখ ভিজে উঠল, কিন্তু ঠোঁটে একটা ছোট হাসি ফুটে উঠল।

“আপনি তো খুব রাগী বস ছিলেন…” সে আস্তে বলল।

অর্ণব হালকা ঝুঁকে তার চোখের দিকে তাকাল।

“Still am,” সে মৃদু গলায় বলল, “but… not with you.”

হঠাৎ দরজায় নক পড়ল।

দুজনেই একটু সরে গেল।

সেই একই মেয়েটা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে—হালকা হাসি মুখে।

“Am I interrupting something?”

অর্ণব মুখ ঘুরিয়ে তাকাল।

তার চোখে আবার সেই কড়া ভাব ফিরে এল… কিন্তু এবার তার ভেতরে অন্যরকম একটা নিশ্চয়তা ছিল।

সে ঠান্ডা গলায় বলল—

“Yes. You are.”

মেয়েটার হাসি একটু ফিকে হয়ে গেল।

আর মেহের… চুপচাপ দাঁড়িয়ে, নিজের ভেতরে একটা নতুন অনুভূতির জন্ম হতে দেখল।

কারণ এখন আর কোনো সন্দেহ নেই—মেয়েটার হাসি একটু ফিকে হয়ে গেল।

রুমের ভেতরের বাতাসটা হঠাৎ করেই ভারী হয়ে উঠল। কয়েক সেকেন্ড কেউ কিছু বলল না। মেহের বুঝতে পারছিল—সে এখানে দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হচ্ছে না।

সে আস্তে বলল, “Sir… আমি যাই।”

অর্ণব একবার তার দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে যেন কিছু আটকে রাখা কথা ছিল। কিন্তু সে কিছু বলল না, শুধু মাথা হালকা নেড়ে অনুমতি দিল।

মেহের দ্রুত বেরিয়ে গেল।

কেবিনের দরজা বন্ধ হতেই, বাইরের কোলাহল আবার স্পষ্ট হয়ে উঠল—কিন্তু তার ভেতরে সবকিছু যেন নিঃশব্দ।

সে নিজের ডেস্কে এসে বসলো। হাতের কাজ সামনে খোলা, কিন্তু চোখ যেন কোথাও আটকে আছে। তার বুকের ভেতরটা এখনও দ্রুত উঠানামা করছে।

“আমি কি সত্যিই… jealous হয়েছিলাম…?”

নিজের মনেই প্রশ্ন করল সে।

তার ঠোঁটে অজান্তেই একটা ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল—

আর সঙ্গে সঙ্গে লজ্জায় সে চোখ নামিয়ে নিল।

ওদিকে, অর্ণব কেবিনের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিল। সামনে সেই মেয়েটা—যার উপস্থিতি হঠাৎ করে এতকিছু বদলে দিল।

“Still the same, Arnab,” মেয়েটা হালকা হাসি দিয়ে বলল, “Cold. Straightforward.”

অর্ণব চুপ করে ছিল।

“Or… maybe not?” সে আবার বলল, চোখে একটু কৌতূহল নিয়ে।

অর্ণব এবার ধীরে বলল, “Say what you came here for.”

মেয়েটা টেবিলের ওপর একটা ফাইল রাখল।

“I’m joining this project. From head office.”

অর্ণব ভ্রু কুঁচকাল।

“And also…” সে একটু থেমে বলল, “Dad wants us to work together again.”

এই কথাটার ভেতরে অন্য একটা ইঙ্গিত ছিল।

অর্ণবের চোখ ঠান্ডা হয়ে গেল।

“That’s not happening.”

মেয়েটা হালকা হেসে বলল, “We’ll see.”

সে ঘুরে বেরিয়ে গেল।

অর্ণব একা দাঁড়িয়ে রইল।

তার মনে একটাই ভাবনা ঘুরছে—

“Things are about to get complicated…”

পরের দিন অফিসে একটা অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হলো।

নতুন মেয়েটা—নাম রিয়া—এখন অফিসের অংশ। সে আত্মবিশ্বাসের সাথে সবার সাথে মিশছে, হাসছে, কথা বলছে… আর মাঝে মাঝেই অর্ণবের কেবিনে ঢুকছে।

সবাই বুঝতে পারছে—তার সাথে অর্ণবের সম্পর্কটা সাধারণ না।

মেহেরও বুঝতে পারছে।

সে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু প্রতিবার রিয়াকে অর্ণবের পাশে দেখলে তার ভেতরে হালকা একটা খোঁচা লাগে।

একদিন বিকেলে, মেহের একটা ফাইল নিয়ে কেবিনের দিকে যাচ্ছিল। দরজার কাছে এসে থামল—ভেতরে রিয়ার হাসির শব্দ।

“Remember college days?” রিয়া বলছে।

মেহেরের পা থেমে গেল।

সে আর ভেতরে ঢুকল না।

চুপচাপ ফিরে গেল।

সেদিন অর্ণব লক্ষ্য করল—মেহের তার সাথে চোখাচোখি এড়িয়ে যাচ্ছে।

“Meher,” সে ডাকল।

কিন্তু মেহের শুধু বলল, “I’m busy, sir.”

কথাটা শুনে অর্ণব বুঝল—

এটা শুধু ব্যস্ততা না।

সন্ধ্যার দিকে, সে নিজেই মেহেরের ডেস্কের কাছে গেল।

“Talk to me.”

মেহের মাথা না তুলেই বলল, “কাজ আছে।”

অর্ণব একটু ঝুঁকে তার সামনে দাঁড়াল।

“Look at me.”

মেহের বাধ্য হয়ে তাকাল।

তার চোখে কষ্ট স্পষ্ট।

“Why are you avoiding me?” অর্ণব সরাসরি জিজ্ঞেস করল।

মেহের কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“আমি avoid করছি না… আমি শুধু আমার জায়গাটা বুঝে নিচ্ছি।”“Boss আর employee-এর মাঝের জায়গাটা…” মেহের ধীরে বলল, “ওটাই safe।”

কথাটা শেষ করেই সে চোখ নামিয়ে নিল।

অর্ণব কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে বিরক্তি না—বরং একরকম অস্থিরতা।

“Safe?” সে ধীরে বলল, “তুমি কি সত্যিই এটা চাও?”

মেহের কোনো উত্তর দিল না।

অর্ণব আর কিছু না বলে সরে গেল। কিন্তু তার চেহারায় স্পষ্ট—সে এই দূরত্ব মেনে নিতে পারছে না।

সেদিনের পর থেকে মেহের ইচ্ছা করেই দূরত্ব রাখতে শুরু করল। কাজ ছাড়া আর কোনো কথা না, চোখাচোখি এড়িয়ে চলা, একা একা লাঞ্চ করা—সবকিছুতেই সে নিজেকে গুটিয়ে ফেলল।

অর্ণব বুঝতে পারছিল—

সে ইচ্ছে করেই দূরে সরে যাচ্ছে।

কিন্তু কেন?

একটা উত্তর সে জানে—

রিয়া।

একদিন সন্ধ্যায়, অফিস প্রায় ফাঁকা। বাইরে আকাশে হালকা মেঘ, বাতাসে একটা চাপা অস্বস্তি।

মেহের তার ব্যাগ গুছিয়ে বেরোতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই—

“Stop.”

অর্ণবের কণ্ঠ।

সে থেমে গেল।

ধীরে ঘুরে তাকাল।

অর্ণব তার দিকে এগিয়ে আসছে—চোখে সেই আগের কড়া ভাব নেই, বরং একরকম দৃঢ়তা।

“এইভাবে পালিয়ে গেলে হবে?” সে সরাসরি বলল।

মেহের একটু কেঁপে উঠল, “আমি পালাচ্ছি না…”

“Then face it.”

মেহের চুপ।

অর্ণব এবার তার সামনে এসে দাঁড়াল।

“তুমি যা feel করছো, সেটা থেকে দূরে গেলে সেটা কমবে না।”

মেহের এবার একটু জোরে বলল,

“সব feeling রাখা যায় না!”

কথাটা বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দুজনেই থেমে গেল।

রুমটা নিঃশব্দ।

অর্ণব ধীরে বলল,

“Why not?”

মেহের চোখ তুলে তাকাল—চোখে জল চিকচিক করছে।

“কারণ সবকিছুর একটা জায়গা থাকে,” সে বলল,

“আর আমি জানি আমার জায়গাটা কোথায়।”

অর্ণব এবার একটু কাছে ঝুঁকল।

“Tell me,” তার গলা নিচু, “তোমার জায়গাটা কোথায়?”

মেহেরের নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল।

সে আস্তে বলল,

“আপনার পাশে না…”

এই কথাটা যেন অর্ণবকে ভেতর থেকে আঘাত করল।

সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর খুব ধীরে বলল—

“Then why does it hurt me… hearing that?”

মেহের অবাক হয়ে তাকাল।

অর্ণব এবার প্রথমবারের মতো পুরো সত্যিটা সামনে আনল—

“আমি clear করে বলেছি আমি তোমাকে পছন্দ করি। But you’re still pushing me away.”

মেহের চোখ নামিয়ে বলল,

“কারণ আপনার past আছে… আপনার life already complicated…”

“Riya?” অর্ণব হালকা কড়া গলায় বলল।

মেহের চুপ।

অর্ণব গভীর শ্বাস নিয়ে বলল—

“She’s nothing.”

মেহের মাথা তুলল।

“She’s my past. Family pressure. Nothing else.”

কথাগুলো এত পরিষ্কার, এত দৃঢ়—যে মেহের কিছুক্ষণ কিছু বলতে পারল না।

“আর তুমি…” অর্ণব ধীরে বলল,

“You’re the only thing I’m sure about right now.”

মেহেরের চোখ ভিজে উঠল।

“Then prove it…” সে আস্তে বলল।

অর্ণব থেমে গেল।

“Don’t just say it… show me,” মেহের বলল,

“কারণ আমি আর নিজেকে hurt করতে চাই না…”

এই কথাটার ভেতরে একটা ভয় ছিল—হারানোর ভয়।

অর্ণব তার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর খুব শান্তভাবে বলল—

“Okay.”

একটা ছোট শব্দ…

কিন্তু তার ভেতরে প্রতিশ্রুতি।

ঠিক তখনই—

দরজা হঠাৎ খুলে গেল।

রিয়া।

তার চোখ দুটো সরাসরি গিয়ে থামল অর্ণব আর মেহেরের ওপর।

এক সেকেন্ড…

দুই সেকেন্ড…

তার ঠোঁটে ধীরে একটা অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল।

“Wow,” সে বলল,

“So this is what’s going on.”

মেহের অস্বস্তিতে সরে দাঁড়াল।

অর্ণব একদম ঠান্ডা গলায় বলল—

“Get out, Riya.”

রিয়া হালকা হেসে মাথা কাত করল।

“Too late, Arnab,” সে ধীরে বলল,

“Now this… just got interesting.”

তার চোখে এমন একটা ঝিলিক—

যেটা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—

সে এত সহজে হার মানবে না।