পর্ব - ১
বিয়ে হচ্ছে একটা,
সেই বিয়েতে সবাই আনন্দ করলেও যাদের বিয়ে হচ্ছে তাদের মনে ঝড় বইছে সেটা বাইরে থেকে কেউ যাতে জানতে পারে তাই মুখে একটা নকল হাঁসি ঝুলিয়ে রাখা , কারণ কেউ কাউকে তেমন ভাবে চেনে না।
___এবার পরিচয় পর্ব,গল্পের নায়িকা, নাম তানিষ্কা সরকার , মা-বাবার একমাত্র মেয়ে। বয়স - ২৫ , উচ্চতা - ৫'২" , দেখতে খুবই সুন্দরী , সাইকলজি নিয়ে PHD করছে আর মাঝে মাঝে সময় পেলে নিজের বাবর কোম্পানি তে গিয়ে কাজ শিখে নেওয়ার চেষ্টা করে কারন ওর বাবার ইচ্ছা ওনার পর ওনার মেয়েই সবটা সামলাক। আমাদের গল্পের নায়িকার আরো গুণ আছে সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য।মায়ের নাম - রীতা সরকার , বাবার নাম - রীতেশ সরকার । দুজনেই তানিস্কার সাথে বন্ধুর মতো মেশে।গল্পের নায়ক, নাম রুদ্র দেব বর্মন , মা-বাবার একমাত্র ছেলে তবে মেয়েও আছে একটি মানে রুদ্রর বন নাম অনামিকা বর্মন। রুদ্রর বয়স - ২৮ বছর , উচ্চতা - ৬'৩" , খুবই সুদর্শন যুবক , ইকোনমিক্স - এ মাস্টার ডিগ্রী করে বাবার ব্যাবসার হাল ধরেছে ২ বছর মত হবে । মায়ের নাম - সুস্মিতা বর্মন , বাবার নাম - সুনীল বর্মন।মা নরম স্বভাবের হলেও বাবা অত্যন্ত রাশভারী মানুষ।
___
দেখাশোনা করে বিয়ে অনেকেরই হয় কিন্তু এখানে কথাটা হলো এই গল্পের নায়ক একটি মেয়েকে পছন্দ করে মেয়েটাকে খোঁজার জন্য তিন বছর কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখনো সেই মেয়েটাকে খুঁজে উঠতে পারেনি।
আর অন্যদিকে আমাদের নায়িকা সে এখনই বিয়ে করতে চায় না ।
কিন্তু দুজনেই পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল আর তাই বিয়ের আগে কেউ কারো মুখ পর্যন্ত দেখেনি । ওদের বিয়েটা দুই বন্ধু অনেক আগেই ঠিক করেছিল ,মানে রুদ্র আর তানিষ্কার বাবা ।
____
সকলে এখন বাসর ঘরে বসে আছে,সবাই হাঁসি মজা করলেও রুদ্র, তনিমা চুপচাপ বসে আছে হঠাৎ অনামিকা বলল,
অনামিকা - বৌদি তুমি একটা গান শোনাও তো, আমার দাদার তো তেমন কোনো গুন নেই যেটা সে এখানে প্রদর্শন করবে।
রুদ্র অনামিকার কথা শুনে ওর দিকে রাগী চোখে তাকালো কিন্তু অনামিকা সেদিকে তেমন পাত্তা দিল না অন্য সময় হলে রুদ্রর দিকে ভয়ে চুপচাপ থাকলেও অনামিকা বেশ ভালো মত জানে রুদ্র সকলের সামনে ওকে কিছুই বলবে না।
অনামিকা - কী গো বৌদি গাইবে তো আমরা সবাই অপেক্ষা করছি ।
তানিষ্কা হালকা হেসে বলল,
তানিষ্কা - আচ্ছা বেশ গাইছি,
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না
কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে
কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে
তোমারে দেখিতে দেয় না
মোহমেঘে তোমারে দেখিতে দেয় না
মোহমেঘে তোমারে অন্ধ করে রাখে,
তোমারে দেখিতে দেয় না
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না
ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে
তোমায় যবে পাই দেখিতে
ওহে ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে
তোমায় যবে পাই দেখিতে
ওহে "হারাই হারাই"
সদা হয় ভয়"হারাই হারাই"
সদা হয় ভয়
হারাইয়া ফেলি চকিতে
আশ না মিটিতে হারাইয়া
পলক না পড়িতে হারাইয়া
হৃদয় না জুড়াতে হারাইয়া ফেলি চকিতে
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না
কী করিলে বলো পাইব তোমারে
রাখিব আঁখিতে আঁখিতে
ওহে কী করিলে বলো পাইব তোমারে
রাখিব আঁখিতে আঁখিতে
ওহে এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ
এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ
তোমারে হৃদয়ে রাখিতে
আমার সাধ্য কিবা তোমারে
দয়া না করিলে কে পারে
তুমি আপনি না এলে কে পারে
হৃদয়ে রাখিতে
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না
আর কারো পানে চাহিব না আর
করিব হে আমি প্রাণপণ
ওহে আর কারো পানে চাহিব না আর
করিব হে আমি প্রাণপণ
ওহে তুমি যদি বল এখনি করিব
তুমি যদি বল এখনি করিব
বিষয় বাসনা বিসর্জনদিব
শ্রীচরণে বিষয়দিব অকাতরে
বিষয়দিব তোমার লাগি
বিষয় বাসনা বিসর্জন
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না
রুদ্র প্রথম বার জানতে পরলো তার নব পরিণীতা স্ত্রী তানিষ্কা এত ভালো গান গাইতে পারে।গান শেষ হতেই অনামিকা বলল,
অনামিকা - you are best বৌদি, খুব সুন্দর হয়েছে গানটা।
****†**ক্রমশ**†****
একটা নতুন ধারাবাহিক গল্প শুরু করলাম কেমন লাগল জানিও সবাই ।