KI KORE TOKE BOLI - 2 in Bengali Love Stories by Tithi Sardar books and stories PDF | কী করে তোকে বলি - 2

Featured Books
Categories
Share

কী করে তোকে বলি - 2

  পর্ব - ২


বউভাতের দিন রাতে,                       

 একটু আগেই সবাই মানে রুদ্রোর কাজিনরা খুব স্বাভাবিক ভাবেই তানিষ্কার সাথে মজা মস্করা  করে ঘর থেকে বেরিয়েছে  ।   

       সেটা দেখে রুদ্র ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল , সেই আওয়াজেও তানিস্কা তেমন ভাবে নিজের অবস্থান থেকে নড়লো না সেটা দেখে রুদ্র খানিকটা অবাকই হলো খুব স্বাভাবিকভাবে যখন কোন অচেনা ব্যক্তি স্বামী হয়ে ঘরে প্রবেশ করে ফুলশয্যার সময় তখন যেকোনো মেয়েই ভয়ে আরোষ্ঠ হয়ে যায় । কিন্তু , তানিষ্কা এমন একটা ভাব নিয়ে আছে যেন তার কিছুই যায় আসে না।

                     তাই রুদ্র আর কিছু না বলে নিজের আলমারি দিকে এগিয়ে গেল তারপর কিছু পেপার বের করে তানিষ্কা সামনে গিয়ে বলল ,রুদ্র - আমার কিছু বলার ছিল আপনাকে।

          তানিষ্কা এতক্ষণ পর রুদ্র থেকে মুখ ঘুরিয়ে রুদ্রকে বলল,

 তানিষ্কা - হ্যাঁ বলুন ।

 রুদ্র - আসলে…মানে…           

 যতই হোক অচেনা কোন ব্যক্তিকে অপমান করার প্রবৃত্তি রুদ্রর কোনো কালেই ছিল না কিন্তু পরিবারের চাপে তানিষ্কাকে বিয়ে করে নিলেও রুদ্রর মনে এখনো সেই অচেনা মেয়েটি দখল করে আছে সেখানে কোনোভাবেই রুদ্র তানিষ্কাকে বসাতে পারবে না , 

      তানিষ্কা রুদ্র একটু দোনোমনো করছে দেখে বলল,

তানিষ্কা - এভাবে তোতলাবার বা  ভয় পাওয়ার মতো কিছু হয়েছে কি ?      আমাকে আপনি নিজের বন্ধু ভাবতে পারেন আমি আপনার ব্যক্তিগত জীবনে দখলদারি দেবো না , সেটা নিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন।

              রুদ্র তানিষ্কার কথার পরিপ্রেক্ষিতে কি বলা উচিৎ সেটা খুঁজে পেল না । তাই বলল,

রুদ্র - আমি চাই আমরা একটা কন্ট্রাক্ট পেপারে সাইন করো যেটাতে ভালো ভাবে লেখা থাকবে যে আমাদের বিয়ের মেয়াদ ৬ মাস । তারপর,  তুমি তোমার রাস্তায় আর আমি আমার , এছাড়া যদি তোমার কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় তো আমি তোমাকে সেটা দেবো । কিন্তু , যতদিন না বিয়ের মেয়াদ শেষে হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমাদের বাড়ীর সবার সামনে সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর অভিনয় করতে হবে।

               রুদ্র ভেবে ছিল হয়ত ঐ কথাতে তানিষ্কা বাড়ীর সবাইকে ডেকে রুদ্রর কথা গুলো সবাইকে জানিয়ে দেবে । কেননা, রুদ্রকে তানিষ্কা ভালো ভাবে না চিনলেও রুদ্রর পরিবারের সকলের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক আছে ওর । কিন্তু তানিষ্কা তেমন কিছুই করল না , মুখের হাবভাব দেখে মনে হয় খুব স্বাভাবিক একটা কথাই বলেছে রুদ্র। রুদ্র যখন তানিষ্কার মনের ভাব জানার চেষ্টা করছিল । তখন হালকা হেসে তানিষ্কা বলল,

তানিষ্কা - তো আমার কোন প্রয়োজন টা আপনি পূরণ করবেন ঠিক করলেন?

       তানিষ্কার প্রশ্ন শুনে বেশ অবাক হল রুদ্র আর তানিষ্কা আবার বলতে শুরু করল, 

      আমার জানা মতে আমার আর আপনার বাবার কাছে 50% শেয়ার আছে বিজনেসে যেটা ওরা যৌথ ভাবে চালায় আর এছাড়াও দুজনেরই কিছু বিজনেস আছে ছোটবড় করে। দুজনেই দুজনকে সবদিক থেকে টক্কর দিতে সক্ষম। আর আপনি যদি ভেবে থাকেন যে আপনার বাবার একটি পুত্র সন্তান মানে আপনি আছেন যা আমার বাবার কাছে নেই তবে আপনি কিন্তু…

রুদ্র - বিশ্বাস করুন আমি তেমন ভাবে কথাটা বলতে চাইনি …

তানিষ্কা - তো কীভাবে বলতে চেয়েছেন ? নিজের প্রেমিকার চিন্তায় মগ্ন থেকে তো ভালোই লসে রান করালেন কোম্পানিকে…

রুদ্র - আরে আপনি কোথা থেকে কোথায় চলে যাচ্ছেন ?

তানিষ্কা -  আপনি আমাকে কিছু বলছিলেন আমি শুনছিলাম। কিন্তু , আপনি আমাকে প্রয়োজন পূরণ করবেন এই কথাটার মাধ্যমে তো - আপনি অপমানটা আমার বাবাকে করলেন তাই না।

রুদ্র - বিশ্বাস করুন আমি এরকম ভাবে কথাটা বলতে চাইনি,

তানিষ্কা - ক্ষমা করবেন । আমি এতটা খারাপ ব্যাবহার হয়ত আগে কখনই কারো সাথে করিনি আর ভবিষ্যতে আমি যেন আপনাকে আমার বাবাকে অপমানিত করতে না দেখি । তাহলে আপনি জানেন না আমি আপনার সাথে কি করতে পারি।

       রুদ্র তানিষ্কার চরিত্র সম্পর্কে বোধগম্য হতে পারল না এই শান্ত অথচ গম্ভীর ভাবে কথা বলল তো এই আবার স্বাভাবিক শান্ত ভাবে কথা বলল। তাই নিরবে শুধু নিজের মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।সেটা দেখে তানিষ্কা রুদ্রকে বলল ,

 তানিষ্কা - আমার উপর ভরসা রাখতে পারতেন একটু , সবকিছু তো বিজনেস নয় যে এগ্রিমেন্ট  এর প্রয়োজন পড়বে। (তারপর একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলল)  যাই হোক আপনি এগ্রিমেন্ট পেপারটা রেখে দিন সোফাতে আমি ফ্রেস হয়ে এসে সাইন করে দিচ্ছি  ।

        রুদ্রর উত্তরের অপেক্ষা না করেই তানিষ্কা অ্যাটাচড বাথরুমে ফ্রেস হতে চলে গেল। 

             ****†**ক্রমশ**†****

কেমন লাগলো জানাবেন সবাই ।🙂🙃