Jharapata 57 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 57

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 57

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৫৭

🌹🌿🌹🌿🌹🌿🌹

স্নান সেরে যখন সমুদ্র থেকে উঠে এল যুগল আর লিলি, অন্যদের মতোই দুজন দুজনের হাত ধরে হেঁটে এল রিসর্টের ভিতরে। দুজনের প্রাথমিক লজ্জা কেটে গেছে। রুমে ঢুকেই লিলি গেল ওয়াশরুমে ভালো করে স্নান করতে, যুগল অর্ডার দিল লাঞ্চের। 

খেতে বসে দুজনেরই এই একান্ত সান্নিধ্যের অস্বস্তি আর নেই। টুকটাক গল্প করতে করতে যুগল একবার এটা খেয়ে দেখো বলে লিলিকে খাইয়ে দেয়। লিলি নিজের চামচে খাবার তুলতেই ও হাঁ করে মুখ বাড়ায়। এভাবে পরস্পরকে খাইয়ে দিতে দিতে হঠাৎ যুগল আরেকটু সাহস করে এগিয়ে আসে লিলির আরও কাছে। ও কিছু বোঝার আগেই আলতো চুমু খায় লিলির ঠোঁটে। 

লিলি চমকে উঠলেও মুখে লজ্জা মেশানো হাসি দেখে নিশ্চিন্তে যুগল দুহাতে ওর মুখ তুলে ধরে আবার চুমু খায়। আপনা থেকেই লিলি চামচটা ফেলে ওর গলা জড়িয়ে ধরেছে। এবার যুগল ওর ঠোঁট ছোঁওয়ার আগেই লিলি প্রথম ভালোবাসার স্বাক্ষর এঁকে দেয় ওর ঠোঁটে। দুজনেই চোখ আর ঠোঁটে হাসি নিয়ে তাকিয়ে থাকে, যেন ভাবছে আবার চুমু খাবে কিনা। যেন মনস্থির করে যুগল কোলে তুলে নেয় লিলিকে। ওকে বিছানায় এনে যত্ন করে শুইয়ে দিয়ে পাশে বসে তাকিয়ে থাকে।এখনও দুজন বিশ্বাস করতে পারছে না, সব বাধা বিপত্তি পিছনে ফেলে আসতে পেরেছে। 

লিলি যুগলের একটা হাত জড়িয়ে ধরতেই যুগল লিলিকে জড়িয়ে ওর উপর শুয়ে পড়ে। লিলি ওর গলা জড়িয়ে ধরেছে। দুজনের ভালোবাসা প্রথমবার পূর্ণতার সংজ্ঞা খুঁজে পায় দুজনের মধ্যে। 

সেদিনের কথা মনে করে এখন লিলি যুগলের বুকে মুখ লুকোয়। 

🌹🌿🌹🌿🌹🌿🌹

সেদিন দাদাবৌদির কাছ থেকে গিয়েই রনি মিলিকে ফোন করেনি। ও জানত, এরা দুজন ওর ফোনের কথা শোনার আর তা নিয়ে মজা করার অপেক্ষায় বসে আছে। রাতে শুতে এসে মিলিকে টেক্সট করে, "জেগে আছ? ফোন করব?" 

তক্ষুণি নীল টিক পড়ে লেখার নিচে। রনি জানত, মিলি নিশ্চয়ই ওর কাছ থেকে একটা ফোনের অপেক্ষায় আছে। টেক্সট পড়েই উত্তরে মিলি ফোন করে। 

রনি ফোন ধরেই বলে, "ঠিক আছ তো? কোনো অসুবিধা হয়নি?"

- "নাহ, ঠিক আছি।"

- "আমি তোমার একটা এ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়েছি, দু তারিখ দুপুরে। দেখিয়ে এসো ডঃ গিরিকে।"

- "তুমি যাবে না?"

- "আমি যাওয়াটা একটু মুশকিল। সেদিন ছুটির পর প্রথম ক্লাস, পরীক্ষা নিয়ে মিটিং থাকবে। তুমি যাও না, কাকু কাকিমা থাকবেন। ভয়ের কিছু নেই।"

- "তাহলে শনিবার করো না। তোমার অফ থাকবে।"

- "না মিলি, অতদিন দেরি নয়। চেক আপটা দরকার। মধুমিতা ম্যাডামও বললেন। তোমাকে নিয়ে কাল আমি কোথাও যাব।"

- "কাল? আজকের পর আবার কাল? বাড়িতে কি বলব?"

- "তোমার কিছু বলতে হবে না। কাল আমাদের বাড়ির সবাই যাবে তোমাদের বাড়িতে কথা বলতে।"

- "সবাই বলল?" মিলির গলায় উৎকণ্ঠা ফুটে ওঠে। 

- "সবাই তো যাচ্ছিলই সব বলতে। আমি তোমার সব মনে পড়ার কথা বলে দিয়েছি, এখন তোমাকে আনার কথা বলতে যাবে।" মিলি চুপ, দুজনের শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। 

ও সাড়া দেবে না বুঝে রনি বলে, "এখন নাকি তোমাকে আনা যাবে না, কি পৌষমাসের নিয়ম আছে। বৌদি বলল, তোমাদের বাড়ি থেকেও ছাড়বে না। ততদিনে তোমার পরীক্ষাও হয়ে যাবে, তখন নাকি তোমাকে আনবে। সেও আবার দিন তারিখ সব দেখে।"

চূড়ান্ত হতাশ লাগছে মিলির। অতদিন? তার উপর সামনের সপ্তাহে কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে, স্টাডি লীভ। আর খুলেই পরীক্ষা। মানে কোনো সুযোগ থাকবে না দুজনের দেখা করার। 

আচমকা হাসি পেয়ে যায় মিলির। কবে, কখন রনিদা এত প্রিয় হয়ে গেল? 

- "এ্যাই, কি ভাবছ?" রনির ডাকে হুঁশ ফেরে। সামলে নিয়ে বলে, "না, ভাবছি না কিছু। তোমার কথা শুনছি।"

- "দূর, কি শুনবে ! বলার মতো কিছু আছে নাকি আমার কাছে?" রনি চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে, "এতদিন ধরে চুপ করে বাড়িতে বসে থাকো। যেই তোমার সব মনে পড়ল, অমনি সব নিয়মকানুন মনে পড়ল সবার। ধু্ৎ, আমি তোমাকে নিয়ে চলে আসব।"

- "মানে? তুমি কি করে নিয়ে আসবে? সবাই বারণ করছে যে !" মিলি তো হাঁ। 

- "আনতে পারব না বলেই তো বলছি। ভালো লাগছে না। চলো দুজনে পালিয়ে যাই।"

- "তোমার মাথাটা গেছে।" মিলি এবার হেসে ফেলে রনির অবস্থা বুঝে। 

- "হাসছ? তুমি কি বুঝবে ! পড়তে আমার মতো অবস্থায় ! নিজের দোষে নিজের বউকে দেখতে পেতে না, তাহলে বুঝতে।"

- "তোমাকে একটা কথা বলব? রাখবে?" 

রনি উঠে বসে, এই প্রথমবার মিলি কিছু চাইল, কোনো অনুরোধ করল। 

চলবে