Jharapata 55 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 55

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 55

ঝরাপাতা


পর্ব - ৫৫


🌹🌿🌹🌿🌹🌿🌹

[ আমাদের নায়ক নায়িকা, রনি আর মিলি, শ্রেয়ান আর অদ্রিজার মনের কথা, জীবনের ঝড়বাদলে ঝরাপাতার মতো এখানে ওখানে উড়ে বেড়িয়েছে। তবে শেষপর্যন্ত তারা আশ্রয় পেয়েছিল একে অপরের কাছে। একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কথা পরস্পরকে জানাতে পেরেছিল। তাদের জীবনে এসেছে ভালোবাসার মরসুম। তারপর? কি হল ভালোবাসার মরসুমে? ]



নানা রঙের আলোয় ভরে আছে আকাশ। লাল, কমলা, হলদে, গোলাপি, ম্যাজেন্টা রঙের খেলা আকাশের বুক থেকে নেমে এসেছে গাছের পাতায়, ঘাসের ডগায়, মাটির উপরে। রেনেসাঁসের কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো নিটোল, নিখুঁত এই প্রকৃতির মাঝখানে গাছের ছায়ায় দোলনায় দুলছে একটি মেয়ে। হাওয়ায় উড়ছে কিছু বাঁধনখোলা চুল, কানে আসছে খিলখিল হাসির শব্দ। মেয়েটির মুখ না দেখতে পেলেও জানে, মিলি বসে আছে দোলনায়। লম্বা পায়ে ঘাসের বিছানা পার হয়ে ও এগিয়ে আসে মিলির কাছে। দোলনার শিকল ধরে থামিয়ে দিতেই মেয়েটি চমকে মুখ ফেরায়। আরও চমকে যায় রনি। এ তো মিলি নয় ! ছুটে যায় অন্য আরেকটা দোলনার কাছে, সেটা থেকে আরেকটায়। মিলির হাসির শব্দ কানে বাজছে, কোনো না কোনো দোলনায় মিলি আছে, কিন্তু কোনটায়?

মিলি কি দেখতে পাচ্ছে না ও চারিদিকে দৌড়োদৌড়ি করছে? মিলি এত হাসছে, ওর নাম ধরে ডাকতে পারছে না? মিলি না ডাকে ও নিজেই ডাকবে, ডেকে নেবে মিলিকে। ভাবতে না ভাবতেই দেখে ওর ঠিক সামনে, যেখানে সবুজ ঘাসের জমিটা ঢালু হয়ে নেমে গেছে নীল জলের মধ্যে, সেই ঢালের আগে শেষ দোলনাটায় বসে আছে মিলি। পা লম্বা করে করে দোলনাটা কত উপরে তুলে দিচ্ছে, আর নিজেই হেসে গড়িয়ে পড়ছে। 

মিলির নাম ধরে ডাকতে ডাকতে রনি একছুটে ওর সামনে এসে দাঁড়ায়, "নেমে এসো, এবার নেমে এসো। চলো যাই....." দোলনাটা থামিয়ে দিয়েছে রনি। 

মিলি কিন্তু নামে না। বরং ঘাড় বাঁকিয়ে বলে, "দোলনাটা থামালে কেন? সামনে থেকে সরে যাও। সরে যাও তুমি। আমি আরও উঁচুতে উঠব। আরও অনেক অনেক উঁচুতে।"

- "মিলি, নেমে এসো। অনেক দোলনা চড়েছ। এবার নেমে এসো। আমাদের ফিরতে হবে।" রনি দোলনার শিকলটা ছেড়ে দিয়েছে। 

- "তুমি ফিরে যাও, আমি ফিরব না।" মিলি আবার দুলতে শুরু করেছে। 

- "ফিরব না মানে কি? আজব তো ! নেমে এসো বলছি।"

- "আমিও তো বলছি নামব না।"

- "মিলি !!"

- "ধমকাবে না। তুমি আমাকে ধমকানোর কেউ না।"

- "ঠিক আছে। আমি ধমকানোর কেউ না। তুমি এমনিই নেমে এসো, বাড়ি যাব।"

- "তোমার বাড়ি? কোনোদিন যাব না।" হা হা করে হাসছে মিলি। 

🌹🌿🌹🌿🌹🌿🌹

- "সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেল, তাই না?" পিউ বলল। 

বনি জানে, পিউ কিসের কথা বলছে। এক হাতে পিউকে কাছে টেনে নিয়ে বলল, "সব আবার ঠিক হয়ে যাবে, দেখো।"

- "আমার খুব ভয় করছে। মিলি একবার বলতেই ভাই সেটাই মেনে নিল। এর ফল কি হবে....."

- "ভয় পেয়ে লাভ নেই পিউ। বরং মিলির সঙ্গে কথা বলো। তুমি কথা বললেই সবচেয়ে ভালো হবে।"

- "আমি তো কথা বলি।"

- "সেইরকম কথা বলা না। এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলো।"

- "আমার ভয় করছে বনি। ওদের দুজনের মধ্যে কি হয়েছে, মিলি কিভাবে সবটা নিয়েছে, কিছুই জানি না। এমনকি ভাই ওকে কি বলেছে, তাও জানি না। মিলির সঙ্গে কিভাবে কথা শুরু করব?"

- "সবটা জানতে হবে পিউ। আমাদের দুজনকে অন্ততঃ সবটা জানতে হবে।"

- "কিভাবে জানব?" 

- "দেখি কি করা যায়।"

🌹🌿🌹🌿🌹🌿🌹

রনির মনে হচ্ছে মিলির হাসিতে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে ও। তা বলে হেরে গেলে হবে না, পিছিয়ে গেলে হবে না। রনি আবার দোলনাটা ধরতে যায়। এবার আর কিছুতেই ধরতে পারছে না। একচুলের জন্য বারবার ওর হাত এড়িয়ে যাচ্ছে। ওর হারে কি মিলি মজা পাচ্ছে? আরও হাসছে? আরও দুলছে। রনির চোখ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হোক, ও থামবে না। দোলনাটা ওকে ধরতেই হবে। মিলিকে দোলনা থেকে নামাতেই হবে। মিলিকে ও সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়েই যাবে। 

সম্পূর্ণ দম বন্ধ হয়ে যেতেই ঘুমটা ভেঙে গেল রনির। প্রথম খানিকক্ষণ হাঁ করে নিঃশ্বাস নিল কেবল। অনেক পরে বুঝল, স্বপ্ন দেখছিল। আবার সেই স্বপ্ন। মিলি ওকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে বারবার এই স্বপ্ন দেখছে। বিছানার পাশের টেবিলে হাতড়ে হাতড়ে সি *গা *রে *টের প্যাকেট খুঁজল। না পেয়ে যখন উঠে দেখতে যাবে ভাবছে, তখনই মনে পড়ল, সি *গা *রে *ট ছেড়ে দিয়েছে। তর্জনীর ডগায় চোখের কোণ মুছে মনে মনে বলল, "আমার যা সাধ্য ছিল, সব তো করেছিলাম। তুমি একবার বলতেই সেদিন সি *গা *রে *টের প্যাকেটটাও ফেলে দিলাম তোমার সামনে। তোমার সব কথা রাখব বলেছিলাম। তাই তুমি এই কথাটা আদায় করে নিলে আমার থেকে? আমার ঘরে আসতে যেন না বলি সেকথা বলিয়ে নিলে?"

চলবে