গঙ্গার স্বচ্ছ নীল জলে ভোরের আলো ঝিকমিক করছে। তার ওপরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে মহীরুহের মতো এক পাহাড়, আর তার কোলে বিস্তৃত ছোট্ট রাজ্য গিরিরামপুর। পাহাড়ের বুক ঘেঁষে, গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা রাজপ্রাসাদটিকে দেখে মনে হতো যেন দেবতাদের বাসস্থান। রাজ্য ছোট হলেও তার শৃঙ্খলা, শান্তি আর প্রজাদের সুখে দেশজুড়ে সুনাম ছড়িয়ে ছিল। রাজা বীরেন্দ্রনাথ সিংহ ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, প্রজাহিতৈষী আর গভীরভাবে ধর্মবিশ্বাসী মানুষ। প্রতিদিন ভোরে গঙ্গাজল নিয়ে পূজা করতেন, মন্দিরে গিয়ে দেবীকে প্রণাম না করে তিনি কখনো দিনের কাজ শুরু করতেন না। রানী সুবর্ণপ্রভা ছিলেন শান্ত, মধুরকণ্ঠী নারী—যিনি প্রাসাদের ভেতরে যেন এক আলোর প্রদীপের মতো ছড়িয়ে দিতেন মমতা।
মাতঙ্গীর অভিশাপ - 1
অভিশাপের বীজগঙ্গার স্বচ্ছ নীল জলে ভোরের আলো ঝিকমিক করছে। তার ওপরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে মহীরুহের মতো এক পাহাড়, তার কোলে বিস্তৃত ছোট্ট রাজ্য গিরিরামপুর। পাহাড়ের বুক ঘেঁষে, গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা রাজপ্রাসাদটিকে দেখে মনে হতো যেন দেবতাদের বাসস্থান। রাজ্য ছোট হলেও তার শৃঙ্খলা, শান্তি আর প্রজাদের সুখে দেশজুড়ে সুনাম ছড়িয়ে ছিল।রাজা বীরেন্দ্রনাথ সিংহ ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, প্রজাহিতৈষী আর গভীরভাবে ধর্মবিশ্বাসী মানুষ। প্রতিদিন ভোরে গঙ্গাজল নিয়ে পূজা করতেন, মন্দিরে গিয়ে দেবীকে প্রণাম না করে তিনি কখনো দিনের কাজ শুরু করতেন না। রানী সুবর্ণপ্রভা ছিলেন শান্ত, মধুরকণ্ঠী নারী—যিনি প্রাসাদের ভেতরে যেন এক আলোর প্রদীপের মতো ছড়িয়ে দিতেন মমতা।কিন্তু তাঁদের একমাত্র পুত্র ...Read More
মাতঙ্গীর অভিশাপ - 2
গিরিরামপুর তখনও ভোরের ঘুম কাটিয়ে ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। গঙ্গার জলে লাল আভা পড়ে চকচক করছে। কিন্তু সেই শান্ত মধ্যে হঠাৎ এক অদ্ভুত কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়ল। চারদিকে কাকের ডাক, শেয়ালের হাঁক, আর ঝড়ের মতো বাতাস। গ্রামের বয়স্করা ভয় পেয়ে বলল—“আজ নিশ্চয়ই কিছু অশুভ ঘটতে চলেছে।”সেই সময় মন্দিরের সামনে যারা পূজো দিতে গিয়েছিল, তারা হঠাৎ এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখল। মন্দিরের কালো পাথরের দেওয়ালে যেন লাল রঙের হাতের ছাপ ফুটে উঠছে, তারপর মিলিয়ে যাচ্ছে। এক মুহূর্তে বাতাসে শোনা গেল অদ্ভুত ধ্বনি—“যারা অন্যায় করবে, যারা অহংকারে অন্ধ হবে, তারা রক্ষা পাবে না।”মানুষ বুঝতে পারল, দেবী মাতঙ্গী অদৃশ্যভাবে প্রকাশ পেয়েছেন। গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে ...Read More
মাতঙ্গীর অভিশাপ - 3
তৃতীয় পর্ব: “রহস্যময় অতিথি”গিরিরামপুরে সেদিন সন্ধ্যা নেমেছিল অদ্ভুত রঙে। গঙ্গার জলে সোনালি আভা পড়ছিল, পাহাড়ের গা থেকে হালকা কুয়াশা আসছিল। এমন সময় গ্রামে প্রবেশ করল এক অচেনা মেয়ে। তার গায়ে সাদামাটা শাড়ি, কপালে লাল টিপ, চোখে এক অদ্ভুত শান্তি। সে গ্রামের মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেল, যেন পথ চেনে।গ্রামবাসী অবাক হয়ে দেখল—সে মন্দিরে ঢুকে একদম মাতঙ্গী মূর্তির সামনে বসে পড়ল। তারপর চোখ বুজে মন্ত্রপাঠ করতে লাগল। যারা মন্দিরে ছিল তারা বলল—“এ মেয়েটি কে? এর তো মুখ থেকে দেবীর মন্ত্র বেরোচ্ছে!”মেয়েটি মন্ত্রপাঠ শেষ করে জল ঢালল মাতঙ্গীর পায়ে, তারপর আস্তে করে বলল—“মা, আমি তোমার ডাকে এসেছি। যাকে তুমি বাঁচাতে বলেছ, ...Read More
মাতঙ্গীর অভিশাপ - 4
চতুর্থ পর্ব: “প্রথম আঘাত”গিরিরামপুরে দিনটা ছিল শান্ত। আকাশ পরিষ্কার, গঙ্গার ঢেউ শান্ত। কিন্তু প্রাসাদের গোপন কক্ষে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে অদ্ভুত ফুটে উঠছিল।মন্ত্রী বলল—“আজ রাতেই কাজ হবে। রাজপুত্রকে আমরা সম্পূর্ণভাবে আমাদের হাতে আনব। আর এই মেয়েটি—আরাধ্যা—ওকে সরিয়ে দিতে হবে। নাহলে সে আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা নষ্ট করে দেবে।”তাদের পরিকল্পনা ছিল সহজ—আরাধ্যাকে অপমান করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে রাজপুত্র নিজেই তাকে প্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দেয়।---রাত নামল। প্রাসাদের অঙ্গনে বড়সড় এক সভা বসানো হলো। রাজা সেখানে উপস্থিত, রাজপুত্রও আছে। হঠাৎ মন্ত্রী অভিযোগ আনল—“মহারাজ, এই আরাধ্যা একজন সাধারণ মেয়ে হলেও সে আপনার রাজ্যের নিয়ম ভেঙেছে। সে নাকি গোপনে কালো তন্ত্র করে গ্রামের লোককে বশে ...Read More
মাতঙ্গীর অভিশাপ - 5
পর্ব: “অন্ধকারের প্রত্যাবর্তন”গিরিরামপুরে সেই রাতের ঘটনার পর কয়েকদিন কেটে গেছে। বাইরে সবকিছু শান্ত মনে হলেও রাজপ্রাসাদের ভেতরে যেন অদৃশ্য চাপা ভয় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পাহাড়ের গুহায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটা শুধু রাজপুত্র আর আরাধ্যা জানত। কিন্তু তারা দুজনেই বুঝছিল—ঝড় থেমে যায়নি, শুধু সাময়িকভাবে স্তব্ধ হয়েছে।ভোরের আলোয় গঙ্গার জল আজ অস্বাভাবিক স্থির। পাখিরা ডাকছে, কিন্তু সেই স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য নেই। আরাধ্যা মন্দিরের সিঁড়িতে বসে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে ছিল। তার মনে হচ্ছিল যেন নদীর বুকের ভেতরে কিছু একটা লুকিয়ে আছে।ঠিক তখন রাজপুত্র এসে দাঁড়াল তার পাশে।“তুমি এখনও আমার ওপর রাগ করেছ?”তার গলায় ছিল অনুশোচনা।আরাধ্যা ধীরে মাথা নেড়ে বলল,“রাগ না… ভয় পাচ্ছি।”“আমার জন্য?”“না… তোমাকে হারানোর ...Read More
মাতঙ্গীর অভিশাপ - 6
“অন্ধকারের অধিপতির জাগরণ”গিরিরামপুরে রাত নামতেই যেন প্রকৃতির রূপ বদলে গেল। আকাশে কালো মেঘ জমেছে, কিন্তু বৃষ্টি নেই। বাতাস থমথমে। জল অস্বাভাবিকভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে, যেন নদী নিজেই কোনো অশুভ আগমনের পূর্বাভাস দিচ্ছে।রাজপ্রাসাদের ভেতরে সবাই আতঙ্কে। কারণ বহু বছর পর মন্দিরের প্রধান প্রদীপ নিজে থেকে নিভে গেছে—যা গিরিরামপুরে সর্বনাশের সংকেত বলে মনে করা হয়।আরাধ্যা মন্দিরের সামনে বসে ছিল। তার চোখে ভয় থাকলেও মুখে অদ্ভুত দৃঢ়তা।রাজপুত্র এসে তার পাশে দাঁড়াল।“কি ভাবছ?”আরাধ্যা ধীরে বলল,“মনে হচ্ছে বড় কিছু ঘটতে চলেছে। মা আমাকে সতর্ক করেছেন… কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না সেই অন্ধকার শক্তি কে।”রাজপুত্র তার হাত ধরল।“যাই হোক, এবার আমি তোমার পাশে থাকব।”আরাধ্যা একটু হাসল… ...Read More
মাতঙ্গীর অভিশাপ - 7
“ভালোবাসা বনাম অন্ধকার”রাজপ্রাসাদের সেই বিশাল ঘরটায় বজ্রপাতের আলো বারবার ঝলসে উঠছিল। চারদিকে বাতাস যেন হাহাকার করছিল। রাজ্যের সৈন্য, মন্ত্রী, সবাই আতঙ্কে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রাজপুত্র…কিন্তু তার চোখ আর আগের মতো নেই। লাল আগুনের মতো জ্বলছে। তার ঠোঁটে অদ্ভুত এক ভয়ংকর হাসি।আরাধ্যা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তার সামনে। তার চোখে জল… কিন্তু মুখে কঠিন দৃঢ়তা।রাজপুত্রের শরীর থেকে ধীরে ধীরে অন্ধকার ধোঁয়া বের হচ্ছিল। সেই ধোঁয়ার ভেতর থেকে অঘোরেশ্বরের ভয়ংকর কণ্ঠ ভেসে উঠল—“তুমি দেরি করে ফেলেছ, আরাধ্যা। এখন এই রাজপুত্র আর তোমার নয়… সে আমার।”আরাধ্যার বুক কেঁপে উঠল।তবুও সে শান্ত গলায় বলল—“তুমি ভুল করছ। মানুষের আত্মাকে কেউ পুরোপুরি দখল ...Read More
মাতঙ্গীর অভিশাপ - 8
“আত্মার আহ্বান”রাজপ্রাসাদের ঘরটায় নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। বাইরে ঝড় চলছে, বজ্রপাত আকাশ ছিঁড়ে ফেলছে। গঙ্গার জল যেন উন্মত্ত হয়ে উঠেছে।ঘরের নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে আরাধ্যা।তার শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে… তার মুখ শান্ত, কিন্তু প্রাণহীন।রাজপুত্র হাঁটু গেড়ে তার পাশে বসে পড়ল।তার চোখে আতঙ্ক, অপরাধবোধ আর অসহায়তা একসাথে মিশে গেছে।সে কাঁপা গলায় বলল —“তুমি কেন এটা করলে… কেন নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেললে?”ঠিক তখন বাতাসে ঠান্ডা অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ল।রাজপুত্র অনুভব করল — অঘোরেশ্বরের শক্তি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।কালো ধোঁয়ার মতো সেই ছায়া ধীরে ধীরে আরাধ্যার শরীর ঘিরে ধরছিল।এক ভয়ংকর কণ্ঠ ভেসে এল —“আমি বলেছিলাম… এবার আমি ওকে নেব।”রাজপুত্রের ভেঙে পড়ারাজপুত্র চিৎকার করে উঠল ...Read More