Quotes by Mariya in Bitesapp read free

Mariya

Mariya

@mariya828595


উপন্যাসের নাম :মারিয়ার আধ্যাত্মিক দুনিয়া। উপন্যাস লেখা: ইকরান জাহান মারিয়া। অধ্যায় এক। সালটা তখন ২০২৬। মারিয়ার নতুন বছরের নতুন ক্লাস, তাই সে ভোরে উঠে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে স্কুলের দিকে রওনা হলো।
স্কুলে যাওয়ার পথে কয়েকজন ছেলে তাকে বিরক্ত করছিল। তাদের মধ্যে একজনের নাম রহিম। রহিম মারিয়াকে পছন্দ করত এবং আজ সে হঠাৎ করেই মারিয়াকে প্রপোজ করে বসে।
মারিয়া বিষয়টিকে একদমই পছন্দ করেনি। সে স্পষ্টভাবে রহিমকে জানিয়ে দেয় যে, সে এতে আগ্রহী নয়। নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় থেকে সে রহিমকে রিজেক্ট করে বলল,
“আমার ক্লাসের জন্য দেরি হচ্ছে, আমাকে যেতে দাও।”
রহিম তাকে যেতে দিল ঠিকই, কিন্তু মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল যে—সে মারিয়াকে নিজের করেই ছাড়বে। সে বিড়বিড় করে বলল,
“মারিয়া যদি আমার না হয়, তবে তাকে আর কারো হতে দেব না। মারিয়া, তুমি এখনো জানো না, কিন্তু খুব শীঘ্রই সব জানতে পারবে।”
রহিম মুচকি হাসল।
বন্ধুরা জানতে চাইল, “তুই কী করবি?”
রহিম শান্তভাবে বলল, “সময়ের অপেক্ষা কর, সব জানতে পারবি।”
এদিকে মারিয়া তাড়াতাড়ি করে ক্লাসে ঢুকল, কারণ তার অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। সে ক্লাসে ঢোকার পরপরই শিক্ষক ক্লাসে এলেন।
স্যারকে দেখে সবাই সালাম দিল এবং স্যার সালামের উত্তর নিলেন। তিনি বললেন,
“আচ্ছা, তোমরা সবাই বসো। আজ তোমাদের নতুন ক্লাস। এখানে যারা আছ, সবাই সায়েন্সের স্টুডেন্ট। আগামী বছরে ভালো ফলাফল করার জন্য তোমরা সবাই মন দিয়ে পড়াশোনা করবে, ঠিক আছে? এখন চলো, আমরা ক্লাস শুরু করি।”
স্যার বললেন,
“আচ্ছা, তোমরা কি বুঝতে পেরেছ এটা কিভাবে করতে হয়? যখন আমার ক্লাস হবে, তখন তোমাদের এই পড়াটা ধরবো। দেখবো, কে কে পারে।”
এই কথা বলার পরই ঘন্টা পড়ে গেল—লাঞ্চের সময়।
মারিয়া লাঞ্চের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক তখনই হঠাৎ সে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। শরীরটা এতটাই খারাপ লাগছিল যে সে আর লাঞ্চ করতে যেতে পারল না।
ক্লাসের মধ্যেই বসে থাকতে থাকতে একসময় তার ঘুম চলে এলো, আর সে ঘুমিয়ে পড়ল।
কিছুক্ষণ পর আবার ঘন্টা পড়ল। সবাই বুঝে গেল লাঞ্চের সময় শেষ। যারা বাইরে ছিল, তারা সবাই ক্লাসে ঢুকে পড়ল।
এরপর স্যার ক্লাসে ঢুকে সবাইকে বললেন,
মারিয়া মনে মনে ভাবছিল, “আজ যদি আমার...”
“আজ স্কুলে অনুষ্ঠান আছে। সবাই ব্যাগ নিয়ে অডিটোরিয়ামে যাবে।”
সবাই তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ নিয়ে অডিটোরিয়ামের দিকে চলে গেল। কিন্তু কেউই খেয়াল করল না যে মারিয়া ক্লাসের ভেতর গভীর ঘুমে পড়ে আছে।
অডিটোরিয়ামের ভেতরে অনুষ্ঠান শুরু হলো। কয়েকজন মেয়ে দল বেঁধে নাচছিল, কেউ গান গাইছিল, আবার কেউ গান শুনছিল। আনন্দে ভরে উঠেছিল পুরো অডিটোরিয়াম।
কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠান শেষ হলো। তারপর ছুটির ঘন্টা পড়ে গেল। সবাই নিজের নিজের বাড়ির দিকে রওনা হল। মারিয়া ক্লাসরুমের ভেতর ঘুমিয়ে ছিল।
এরপর স্কুল ছুটি হয়ে গেলে সিকিউরিটি গার্ড স্কুলের সব ক্লাসে তালা দিতে শুরু করল। যে ক্লাসে মারিয়া ঘুমিয়ে ছিল, সেই ক্লাসেও তালা মারা হলো।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিকিউরিটি গার্ড খেয়ালই করল না যে ক্লাসের ভেতরে মারিয়া আছে।
রাত প্রায় তিনটা বাজে।
হঠাৎ মারিয়ার ঘুম ভেঙে গেল।
ঘুম থেকে উঠে সে দেখে চারদিকে অন্ধকার। বুঝতে পারল, রাত হয়ে গেছে এবং সে এখনো ক্লাসরুমের ভেতর একা।
ভয়ে তার বুক ধকধক করতে লাগল। তাড়াতাড়ি করে সে বের হতে গেল, কিন্তু দরজার কাছে গিয়ে দেখে—ক্লাসরুমে তালা মারা।
মারিয়া ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগল,
“আমাকে কি সিকিউরিটি গার্ড দেখলো না?”
এই ভাবনায় সে আরও বেশি ভয় পেয়ে গেল, যখন বুঝতে পারল—কাল স্কুলে ছুটির দিন। তার মানে, কেউ আসবে না। ভয়ে আর অসহায়তায় সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
কী করবে, কীভাবে বের হবে—কিছুই সে বুঝতে পারছিল না।
ক্লাসরুমের ভেতর একা, অন্ধকার আর নীরবতার মাঝে দাঁড়িয়ে মারিয়া শুধু কাঁদছিল।
মারিয়া মনে মনে ভাবছিল,
“আজ যদি আমার বান্ধবী স্কুলে আসত, তাহলে হয়তো এমনটা হতো না। অথবা আমার বোন থাকলেও নিশ্চয়ই আমার খোঁজ নিত।”
অন্যদিকে, মারিয়ার বাড়িতে তখন কান্নার রোল পড়ে গেছে। তার মা-বাবা ও পরিবারের সবাই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে।
মা হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন,
“আমার মেয়েটা কোথায় চলে গেল? ও এখন কী করছে, আমি কিছুই জানি না! ওগো, তুমি কিছু একটা করো, আমার মেয়েটাকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও।”
মারিয়ার বাবা স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন,
“শান্ত হও। মারিয়া যেখানেই আছে, আশা করি ভালো আছে। আমরা সব জায়গায় খোঁজার চেষ্টা করছি।”
কিন্তু তারা কেউই জানতেন না যে মারিয়া আসলে স্কুলেই আটকে আছে।
সারা বাড়িতে শুধু একটাই চিৎকার—
“মারিয়া কোথায়? মারিয়া কোথায়?”
সব জায়গায় খুঁজেও তাকে না পেয়ে তারা শেষমেশ পুলিশের দ্বারস্থ হলেন।
পুলিশ সব শুনে জানালো, নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার না হলে তারা আইনত কাজ শুরু করতে পারবে না।
নিরুপায় হয়ে তারা বাড়ি ফিরে এলেন। দেখতে দেখতে ভোর হয়ে গেল, ফজরের আজান দিচ্ছে।
মারিয়ার মা জায়নামাজে বসে মেয়ের জন্য কাঁদতে লাগলেন। তার বোনও কাঁদছিল আর বলছিল,
“আমি যদি কাল বোনের সাথে যেতাম, তবে হয়তো এমনটা হতো না।”
রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বাড়ির কারও মুখে দানা-পানিটুকুও ওঠেনি।
এই পরিস্থিতির কথা কুচক্রী রহিমের কানে পৌঁছায়। তার মাথায় এক শয়তানি বুদ্ধি খেলে গেল।
সে তার বন্ধুদের ডেকে বলল,
“তোদের একটা কাজ করতে হবে।”
বন্ধুরা কৌতূহলী হয়ে কারণ জানতে চাইলে রহিম বলল,
“সব জানতে পারবি, আগে আমার সাথে আয়।”
রহিম ও তার বন্ধুদের মাঝে কী কথা হলো, তা গোপনই রয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর রহিমের বন্ধুরা মারিয়াদের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলো। তারা মারিয়ার বাবাকে সালাম দিয়ে আমতা আমতা করে বলতে লাগল,
“চাচা, আপনার মেয়েকে আমরা দেখেছি। কিন্তু কথাটা আপনাকে কীভাবে বলব বুঝতে পারছি না।”
মারিয়ার বাবা অস্থির হয়ে বললেন,
“কোথায় দেখেছ আমার মেয়েকে? দয়া করে আমাকে বলো কী হয়েছে! তোমরা না বললে আমি জানব কী করে?”
রহিমের বন্ধুরা তখন মিথ্যে সাজিয়ে বলল,
“আমরা দেখেছি মারিয়া রহিমের সাথে একটা হোটেলে ঢুকছে। তারা গত রাত ওখানেই কাটিয়েছে।”
কথাটা শুনে মারিয়ার বাবা আকাশ থেকে পড়লেন। তিনি তীব্র রাগে ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বললেন,
“তোমরা কি সত্যি বলছ? আমার মেয়ে রহিমের সাথে হোটেলে রাত কাটিয়েছে?”
বন্ধুরা প্রত্যয়ের সাথে বলল,
“হ্যাঁ চাচা, বিশ্বাস করুন আমরা নিজের চোখে দেখেছি।” কথাটা শুনে মারিয়ার বাবা আকাশ থেকে পড়লেন। তিনি তীব্র রাগে ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বললেন,
"তোমরা কি সত্যি বলছ? আমার মেয়ে রহিমের সাথে হোটেলে রাত কাটিয়েছে?"
বন্ধুরা প্রত্যয়ের সাথে বলল,
"হ্যাঁ চাচা, বিশ্বাস করুন আমরা নিজের চোখে দেখেছি।"
মারিয়ার বাবা এখন কী করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি চিৎকার করে জানতে চাইলেন,
"মারিয়া কোথায়? ও কি এখনো রহিমের সাথে আছে?"
বন্ধুরা বলল,
"হ্যাঁ, আমরা তো তাই জানি।"
মুহূর্তেই এই রটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল যে, মারিয়া রহিমের সাথে পালিয়ে গেছে

Read More