Jharapata 74 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 74

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 74

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৭৪

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

মিলি ঘরে ঢুকে খাবারের প্লেটটা টেবিলের উপর রেখেই ছুটে এল রনির কাছে, "এখনও তোমার কোমরের ব্যথা কমেনি?"

সকালেও সত্যিই খানিকটা ব্যথা ছিল। বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে যেতে দেখেছে, হাঁটতে গেলেই পিঠে আর কোমরে ব্যথা করছে। একটু ভয়‌ও পেয়েছিল তাই রনি, ডাক্তার দেখাতে হয় কিনা। তাই দাদাকে ফোন করে ডেকেছিল। বরফ আর অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে এখন ব্যথা প্রায় নেই আবার। ও বুঝে গেছে, আজকের মধ্যে পুরোই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সেটা চেপে গেলে মিলি এরকম খোঁজখবর নিতে আসে, মন্দ কি? 

তাই সম্পূর্ণ মিথ্যে না বললেও কায়দা করে বলে, "অনেকটা কমেছে, ঠিক কমে যাবে দেখো।"

- "ইসসস, কি বিপদ হয়ে গেল। হবে না, ক্লাবে গিয়ে আরও ছাইপাঁশ গেলো আর ভুলভাল করো।"

- "এ্যাই এ্যাই, তোমার কি ধারণা আমি কাল ক্লাবে...... কথাও বলছিলে না কেউ আমার সঙ্গে, একবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গেছিলাম। সে তো এমনিতেই যাই। এক তো আগেও রোজ‌ই কিছু ঐসব করতাম না। তার উপর তোমাকে কথা দিয়েছি সেটাও ভুলে গেছো?"

- "ভুলিনি। ঐজন্য‌ই বেশি খারাপ লেগেছিল কাল। আমি ভেবেছিলাম তুমি কথা রাখলে না।" মিলির চোখ ছলছল করছে। 

কিন্তু রনি রেগে যায়, "খালি ভুল ভাবো, আর কাঁদো। আমাকে ভরসা করো না জানি, কাল তো আমার কাছে ছিলে, পড়ে গেলে যখন, বোঝোনি আমি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলাম?"

মিলির মনে পড়ে, ওর গায়ের উপর পড়ে যাওয়া, আর যা কিছু হয়েছিল। সত্যিই তো, রনি যদি ড্রি *ঙ্ক করত, ও প্রথম টের পেত। কেউ কথা বলছিল না বলেই সবার সঙ্গে খেতে বসেনি।

তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ‌টা চাপা দেয়, "আচ্ছা আচ্ছা আমার ভুল হয়েছে। কিছু বলেছি তাই ধরে? কথা বলছি না তোমার সঙ্গে?"

- "বলছ। তাই তো আর রাগ করতে পারছি না।''

- "আর একদম রাগ করবে না। তাহলেই আমিও ভুলভাল ভাবব না। এখন তোমার খাবারটা এনেছিলাম। আমি ধরছি, উঠে বসে খেয়ে নাও।"

মিলি যত্ন করে ধরে ধরে ওকে তুলে বসায়। এত আদর যত্নে থাকতে পারলে ব্যথা আছে বলে দুদিন ছুটি নিয়ে নেবে কিনা ভাবছে রনি। মিলি খাবারের প্লেটটা এগিয়ে দিতেই বলে, "তুমি খাইয়ে দাও।"

একটু ইতস্ততঃ করে মিলি বলে "সবাই নিচে আছে, এখন তোমাকে খাইয়ে দিলে অনেকক্ষণ দেরি হবে। সবাই আবার ভাববে, তোমার শরীর বেশি খারাপ কিনা। তোমার মা চিন্তা করবেন।"

- "দাঁড়াও দাঁড়াও, সবাই নিচে রয়েছে, আর তুমি আমার খাবার চেয়ে আনলে?" এতটা এগোবে না মিলি, লজ্জা পাবে, ও জানে। 

- "আমি চেয়ে আনিনি। পিউবৌদি দিল। ও কাকিমাকে ওষুধ দিচ্ছে।"

- "ও, ঐ বিচ্ছুটা তোমাকে পাঠিয়েছে ! তাও সবার মাঝখান থেকে? আমাকে প্লেটটা দিয়ে কেটে পড়ো। ওটাকে চেনো না। দল বেঁধে আমাদের দেখতে আসবে লুকিয়ে। সব ওর প্ল্যান। আচ্ছা মিলি, কাল রাতে যখন ফিরে গেলে, বৌদি ঘুমোচ্ছিল?"

- "হ্যাঁ, সবাই ঘুমোচ্ছিল। আমিও শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।"

- "খুব সন্দেহজনক ! একবার‌ও ঘুম ভাঙল না ওর ! শোনো, খুব সাবধান। এখন কেটে পড়ো। পরে একবার ফাঁক পেলে এসো। আর আমি মেসেজ করলে ফোনটা দেখো।"

- "আচ্ছা আমি আসছি। তুমি সাবধানে থেকো।" 

মিলি হাঁটা দিতেই রনি একটা হাত বাড়িয়ে দেয়, "আবার আসবে তো?"

- "আসব।" ওর আঙ্গুলগুলো ছুঁয়ে কথাটা বলেই মিলি চলে আসে। দুজনেরই ইচ্ছে করছিল, এমনি করেই হাত ধরে বসে থাকে। 

সারাদিন অনেক কায়দায় পিউ মিলিকে রনির ঘরে পাঠায়। কোনোবার নিজের সঙ্গে এনে ওকে ঘরে রেখে কেটে পড়ে, কোনোবার নিজে আগে এসে এটা দিয়ে যা, ওটা দিয়ে যা বলে মিলিকে ডাকিয়ে আনে। পিউর আসল উদ্দেশ্য, রনি পড়ে যেতে মিলি হেল্প করেছিল রাতে, সুস্থ হয়ে উঠলে কতটা ভাব থাকে দুজনের সেটা জানা, বোঝা। 

রনি হাড়ে হাড়ে চেনে দাদা বৌদিকে। মিলিকেও জানিয়ে রেখেছে। তাই হাতেনাতে কিছুই প্রমাণ পায় না ওরা। 

সন্ধ্যায় মিলি আর টুকাইকে নিয়ে ঘরে বসে গল্প করতে করতে, মামনিকে দেখে আসি বলে কায়দা করে নিচে খবর দিতে আসে পিউ। হতাশ হয়ে মণিকাকে জানায়, কোনো প্রোগ্রেস নেই। না রনি কোমরের ব্যথা কমেছে বলেছে, না দুজনের ভাবের কথা স্বীকার করেছে। 

মণিকা বলে, "বনি একবার ভাইকে বল, ডাক্তার দেখাবে কিনা।"

- "সত্যিই বেশি ব্যথা হলে নিজেই বলত মা। এসব করছে মিলি যাতে সহজে ও ঘরে যেতে পারে। তবে দেখছি, কাল যদি ইউনিভার্সিটি না যায়, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।"

অবশ্য খানিকক্ষণ পরেই রনি নেমে আসে। বনিকে বলে, ব্যথা প্রায় নেই। কাল ইউনিভার্সিটি যাবে। মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে, মাকেই বলছে বোঝা যায়। 

মণিকাও এ কদিনের পর ছেলের সঙ্গে কথা বলে, "তাও সাবধানে থাকিস। দরকার বুঝলে ডাক্তার দেখিয়ে নে।"

এইটুকু কথাতেই রনির মুখ ঝলমলে হয়ে যায়, "সব ঠিক আছে মা, চিন্তা কোরো না। আমি একটু বাইরে হেঁটে আসি। দেখি ব্যথা করে কিনা।"

রনি বেরিয়ে যেতে বনি বলে, "খুশি খুশি তো ঘুরতে চলে গেল। এদিকে ওর বৌকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ব্যস্ত ওর শ্বশুর বাড়ি। তাতে কি বলে, আমিও দেখতে চাই।"

তখন পলাশ অঙ্কুরকে ফোন করে বলছে, "তিরিশ তারিখ মিলির রিসেপশন পার্টিতে আমরা কখন যাবো রে? সবাই একসঙ্গে ঢুকব।"

অঙ্কুর জানেনা এদের দুজনের ভাব হয়েছে। ওর মনে হয়, অনুষ্ঠান যখন বন্ধ হয়ে গেছে, আর কোনও কথা লুকিয়ে লাভ নেই। গভীর শ্বাস নিয়ে বলে, "আর তিরিশ তারিখ। এরা আদৌ সংসার করবে কিনা, করলেও কবে, কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না। বিরাট ঝামেলা হয়েছে রে।"

কারো পৌষমাস........ পলাশ লাফিয়ে ওঠে। 

চলবে