How do I tell you - 1 in Bengali Love Stories by khusi choudhury books and stories PDF | কী করে বলব তোমায় - 1

Featured Books
  • Wisps of Smoke - 38

    Wisps of Smoke (A love, romantic, psychological and paranorm...

  • NAVORA

    NAVORAPrologue — A Flower That Became a DreamSometimes, a bu...

  • The Story of Navaratri

    Navaratri is a nine-day Hindi festival celebrated throughout...

  • Specialz

    "Here you go- master" Yomi sets the cup of tea on the paper...

  • Price Tag on Passion

    The rain lashed against the French windows of Mayur’s pentho...

Categories
Share

কী করে বলব তোমায় - 1



আজ আমার আপন বড় বোনের জন্য আমার জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেল। সবকিছু শেষ হয়ে গেল। আমার স্বপ্ন, আশা—সবকিছুই ভেঙে তছনছ হয়ে গেল। কত স্বপ্ন ছিল আমার? ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করে বড় একজন ডাক্তার হব। কিন্তু আপুর একটা বোকামির জন্য সব শেষ। কী হলো? বুঝতে পারছেন না তো? কেন বারবার আমি আপুকে দোষারোপ করছি? তাহলে এবার ক্লিয়ার করে বলি, শুনুন।

আমি বিপাশা রহমান। ক্লাস এইটে পড়ি। ও পড়ে বলেই ভুল হবে পড়তাম, কারণ ভবিষ্যতে আর কখনও স্কুলে যেতে পারব না বলে মনে হচ্ছে না। এর জন্য দায়ী আমার আপু। আচ্ছা, এবার আসল কথায় আসি।

আমার আপু তার ভালোবাসার মানুষের সাথে পালিয়ে গিয়েছে। অবশ্য আপুর পালিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী আমার বাবা-মা। কারণ আপু এই বিয়েতে রাজি ছিল না। আপু একজনকে ভালোবাসে—এটা বাবা-মাকে বলেছিল। কিন্তু তারা কিছুতেই রাজি হয়নি। যার জন্য আপু পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তো কী বলবেন? আপু তার ভালোবাসার মানুষের সাথে পালিয়ে বেঁচে গেল। এদিকে বাবা-মায়ের সম্মান রাখতে ১৫ বছরের একটা শিশুকে বিয়ে দিয়ে দিল। হ্যাঁ, সেই শিশুটাই আর কেউ নয়—আমি নিজেই।

আর বিয়ে দিল তো দিলই, তাও আবার ২৫ বছরের একটা বড়লোক ছেলের সাথে।নানী শাশুড়ি এসে বলে গেছে, তার নাতি না আসা পর্যন্ত ঘুমানো যাবে না। কী একটা জ্বালায় পড়লাম! এদিকে এত রাত হয়ে গেছে, এখনও তার আসার নামগন্ধ নেই। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব? তার জন্য কিসব পড়িয়ে দিয়ে গেছে আমাকে! এভাবে থাকতে পারছি না। এত ভারী শাড়ি, গলা ভর্তি গয়না, দুই হাত ভর্তি চুড়ি—আমার তো মনে হচ্ছে আমার ওজনের থেকে আমাকে যেগুলো পরানো হয়েছে সেগুলোর ওজন বেশি। এ কোথায় এনে ফেলেছে আল্লাহ আমাকে? যার জন্য এত সময় ধরে অপেক্ষা করছি, এখনও পর্যন্ত তার মুখটাই দেখতে পারলাম না। কেমন দেখতে? খাটো নাকি লম্বা, কালো নাকি ফর্সা—ফ…
আর অপেক্ষা করতে পারব না। সে আসলে আসুক না আসুক, আসলে নাই—আমি ঘুমিয়ে পড়ি। এই বলে যেই শুতে যাব, তখনই কানে এলো দরজা লাগানোর শব্দ। আমি চমকে গিয়ে সোজা হয়ে বসলাম। তারপর মাথা তুলে একটু দেখার চেষ্টা করলাম। দরজা লাগিয়ে সে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে। তাকে দেখে তো আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, বুকটা ধুকপুক করছে। বাবা! মা! এই কার সাথে বিয়ে দিল আমার! এটা তো মানুষ নয়, আজ তো একটা দানব! এত লম্বা মানুষ হয় আগে জানা ছিল না তার উপর, মাশাল্লাহ, একদম একটা দানবের সাইজ। এ যদি আমাকে পাঁচ…
এমন সময় সে কখন যেন আমার পাশে এসে বসেছে, বুঝতেই পারিনি। আমার বিড়বিড় করা দেখে সে গলা ঝাঁকিয়ে বলল, “এই মেয়ে, নাম কী তোমার?” আমি কী বলব বুঝতে পারছি না। খুব ভয় লাগছে। আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বেরোচ্ছে না।
আমার এমন অবস্থা দেখে সে নরম গলায় বললেন, “তোমার নাম কী? শুধু সেটা জিজ্ঞেস করেছি। এছাড়া বেশি কিছু তো বলিনি। আর এত ভয় পাচ্ছ কেন? আমাকে দেখে কি মনে হচ্ছে আমি মানুষ খেয়ে ফেলব? সে যা কিছু জিজ্ঞেস করছি, নির্ভয় উত্তর দিতে পারো। লোকটাকে যেন কাঁঠাল ভেঙে ফেললাম, এত ততটা ভয় পাচ্ছিলাম যে…”
মাথা নিচু করে বসে আছি। তাই দেখে সে আবার বলে উঠল, “সারারাত কি এভাবে বসে থাকবে নাকি? যাও, ওয়াশরুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে আসো। জলদি। কথা আছে তোমার সাথে।”
আমি ওয়াশরুমে যাব কি? আমার সাথে কথা আছে শুনেই তো আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। কী নাকি বলবে কে জানে! তবে কি নানানী শাশুড়ি তখন যা কিছু বলে গেল, সেসবই সত্যি হবে? নিজের অজান্তে চিৎকার দিয়ে ফেললাম।
না, এটা হতে পারে না! তখন সে চমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী হতে পারে না? বিপাশা, কী হয়েছে তোমার শরীর খারাপ লাগছে? তোমার তার প্রশ্নে আমার হুঁশ ফিরে…”

চলবে....