"রক্তিম মায়া"🥀🖤
লেখনীতে : রায়হানা ইয়াসমিন রায়
পিছনে তাকানোর সাহস নেই জারার। শুধু সে জানে যে কোন উপায়ে এই জঙ্গল পার হতে হবে।
পায়ের তলাই শুকনো পাতার মর্মর শব্দ আর নিজের ভারী নিঃশ্বাস ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছে না।
ভয়ে আর ক্লান্তিতে জারার শরীর ভেঙে আসছে। অন্ধকার রাস্তার সামনে ঠিকমতো কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
আর কিছুটা গেলেই মেন রোড যারা যখন মেন রোডের ঠিক কাছেই পৌঁছালো, হঠাৎ খুব শক্ত পাথরের মত কোন কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়তে চাইল জারা...
কিন্তু পড়ার আগেই দুটো লোহার মতো শক্ত হাত ওর দুই বাহু ধরে ফেলল।
যারা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
তার নাকে এলো সেই চির পরিচিত পারফিউম আর সিগারেটের করা গন্ধ।
কাঁপা কাঁপা চোখে জারা মাথা তুলে তাকাতেই হিম হয়ে গেল। সামনে কুচকুচে কালো শার্ট পরা সেই দীর্ঘকায় শরীরটা দাঁড়িয়ে, যার ভয়ে এতক্ষণ ধরে পালানো। অন্ধকারাচ্ছন্ন এই নিঃশব্দ রাতে ঠিকমতো কিছুই দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলোয় দেখা যাচ্ছে এই লোকটার চোখের মনি দুটো এখন পৈশাচিক লাল রূপ ধারণ করেছে। তবে ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত বিষাক্ত হাসি।
সে ঝুকে জারার কানের কাছে মুখ এনে খুব শান্ত কিন্তু বরফ শীতল গলায় বলল —
"কোথায় যাচ্ছিলে জারা ?
"খেলাটা তো সবই শুরু, আর তুমি এখনি মাঠ ছেড়ে পালাচ্ছো?
"পালাবার সাহস কোত্থেকে পাও জারা..?
এই নিঝুম রাতের নিঃশব্দ রাস্তায় আরিয়ানের বজ্রকণ্ঠের ধমকে জারা কেঁপে ওঠে..!!
জারার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটা কোন সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ নয়; এ যেন এক জলজ্যান্ত অভিশাপ। যার ওর জীবনের ছায়া পড়ে , তার নিয়তি ওখানেই থমকে যাই।
এই সেই "আরিয়ান খান" (A.K)।
সিসিলির অন্ধকার গলিপথ থেকে শুরু করে আলিশান ক্যাসিনো— সব জায়গায়ই এই একটা নামেই ত্রাসের অন্য নাম। সিসিলির কুখ্যাত মাফিয়া সার্কেলে ও কোন নাম নয় , ও হলো এক চূড়ান্ত আতঙ্ক। ওর ইশারায় সিসিলির শেষ কথা।
" কি হলো জারা..? তোমাকে না গাড়িতে উঠতে বললাম..?
" কথা কানে যায় না বুঝি ?
আরিয়ানের হঠাৎ এমন ধমকে জারা খানিকটা কেঁপে উঠলো, জারার ভেতরটা ভয়ে দুমড়ে গেলেও, জারা ভয় আর অবাধ্য সাহস মিশ্রিত গলায় হঠাৎই চেঁচিয়ে উঠল—
" আমি আপনার ওই নরকে যেতে চাই না। দম বন্ধ হয়ে আসে আমার ওখানে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় আমার ওই নরকে"।
জারার চিৎকার শেষ হতে না হতেই চারিদিক যেন এক অদ্ভুত নিঃসব্দতাই ছেয়ে গেলো। আরিয়ানের মুষ্টিবদ্ধ হাতের আঙ্গুল গুলো সাদা হয়ে আসছে, কপালের রগগুলো রাগে ফুলে উঠেছে। তার পরও আরিয়ান কিছু বলছে না।
আরিয়ানের এই নিঃশব্দতা বুঝিয়ে দেয় যে জারা ঠিক কত বড় ভুল করেছে। কুখ্যাত মাফিয়া আরিয়ান খানের সাথে গলা উঁচিয়ে কথা বলে নিজের জীবনে কি সর্বনাশ ডেকে আনলো, সেটা জারা নিজেও জানে না।
আরিয়ান সময় নষ্ট না করে, এক ঝটকায় যারা কে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির বডির সাথে চেপে ধরল। এতটাই জোরে ধাক্কা দিল যে জারা ব্যথায় শিউরে উঠলো। পকেট থেকে ইতালিয়ান ছোট ছুরিটা বার করে জারার গলায় চেপে ধরল আরিয়ান। জারা ভয়ে আরো সিটিয়ে গেলো, ওর চোখে–মুখে আতঙ্ককের ছাপ।
"চোয়াল শক্ত করে চিবিয়ে চিবিয়ে কর্কশ গলায় আরিয়ান বলল—
অনেক সাহস হয়ে গেছে তোর, তাই না ?
আমার মুখের উপর কথা বলার এত স্পর্ধা পাস কোথায় তুই ?
" হঠাৎই আরিয়ানের গলার স্বর খুবই শান্ত হয়ে গেল, তার এই গলার স্বরে যেন ছুরির ফলার মত ধার।
আমার থেকে পালাবি তুই ? আমার থেকে ?
আমার থেকে পালানো মানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। এই শহরে আকাশ আর মাটি দুটোই আমার ইশারায় চলে। আর তুই তো সেখানে এক বোকা হরিণী।
শেষের কথাটা আরিয়ান তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল।
ছুরির শীতল স্পর্শ সরিয়ে নিয়ে জারা কে টেনে হিচড়ে গাড়ির সামনের সিটা বসিয়ে দিল আরিয়ান। যারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওর হাত দুটো শক্ত করে বেঁধে দিল। তারপর আরিয়ান নিজেও ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসলে এবং গাড়ি স্টার্ট দিল।
নিঃশব্দ রাস্তায় এই নিঝুম রাতে কালো BMW টা ছুটে চলল তার গন্তব্যে। শো–শো শব্দ তুলে....
চলবে....
কি হতে চলেছে জারার সঙ্গে? মাফিয়ার মুখের উপর কথা বলার কি শাস্তি পেতে হতে পারে জারা কে?
"ছোটো করে শুরুটা করলাম এক নতুন উপন্যাসের। যদি ভালো রিভিউ পাই পরবর্তী পর্ব লেখা শুরু করবো। ফলো করলে পরের পর্ব তাহলে লিখে দ্রুত আপলোড করবো...!!🎀