I found you on the wrong path. in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 18

Featured Books
Categories
Share

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 18

ভুল পথে পেলাম তোমাকে – 
“আলোয় ফেরা ছায়া”

যুদ্ধ শেষ মানেই শান্তি নয়।
কখনো কখনো যুদ্ধের পরেই
আসল গল্পটা শুরু হয়।
ভোরের আলো ধীরে ধীরে শহরের ওপর নামছে।
রাতের সেই ভয়ংকর অন্ধকার নেই—
কিন্তু বাতাসে এখনো একটা অচেনা ভার।
ইরা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে।
তার চোখে আলো আছে,
কিন্তু সেই আলো এখন ক্লান্ত।
মায়া পিছনে দাঁড়িয়ে।
আজ সে আর ছায়া নয়—
মানুষ।
এই নতুন পরিচয়টাই
সবচেয়ে বেশি ভয় লাগাচ্ছে তাকে।
— “ইরা…”
ইরা ঘুরে তাকাল।
— “তুমি ডাকলে আগের মতো শোনায় না।”
মায়া হালকা হাসল।
— “কারণ এখন আর
আমার ভেতরে অন্ধকার কথা বলে না।”
ইরা কাছে এগিয়ে এল।
— “এটাই কি মুক্তি?”
মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
— “না।
এটা নতুন যুদ্ধের শুরু।”
◆ ১. মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার ভয়
মায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে।
তার চোখে আর লাল আভা নেই।
ছায়া আর আলাদা হয়ে নড়ে না।
সে নিজের হাতের দিকে তাকাল।
— “আমি ব্যথা পাচ্ছি, ইরা।”
ইরা অবাক—
— “এটাই তো স্বাভাবিক।”
মায়া মাথা নাড়ল।
— “না। আমি আগে কখনো ‘স্বাভাবিক’ ছিলাম না। ব্যথা মানে ছিল শক্তি। এখন ব্যথা মানে দুর্বলতা।”
ইরা ধীরে তার হাত ধরল।
— “দুর্বলতা না। এটা মানুষ হওয়া।”
মায়া চোখ নামাল।
— “আমি যদি তোকে রক্ষা করতে না পারি?”
ইরা স্পষ্ট গলায় বলল—
— “এইবার তুমি একা রক্ষা করবে না। এইবার আমরা একসাথে থাকব।”
◆ ২. ছায়া পরিষদের ফাঁকা জায়গা
দূরে, অন্য এক অন্ধকার ঘরে—
একটা আসন খালি।
ছায়া পরিষদের সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছে।
একজন ফিসফিস করে—
— “পূর্ণ ছায়া নেই।”
আরেকজন—
— “অর্ধ-ছায়া মুক্ত।”
তৃতীয় কণ্ঠ—
— “তাহলে ভারসাম্য ভেঙেছে।”
একটা নতুন ছায়া ধীরে উঠে দাঁড়ায়।
— “ভারসাম্য ফেরাতে হবে। আলো আর মানুষ—
দুটোকেই আবার মূল্য দিতে হবে।”
তার চোখে আগুন।
— “ইরাকে দিয়ে শুরু হবে।”
◆ ৩. অশান্ত ইঙ্গিত
ইরা হঠাৎ মাথা চেপে ধরল।
— “মায়া…” — “কি হলো?”
— “আমি কিছু শুনছি।”
— “কি?”
ইরা ফিসফিস করে—
— “কেউ আমাকে ডাকছে… স্বপ্নের ভেতর। আগের মতো না— কিন্তু চেনা।”
মায়ার শরীর শক্ত হয়ে গেল।
— “ছায়ারা সাধারণত
যুদ্ধে হেরে চুপ থাকে না।”
ইরা তাকাল—
— “তাহলে এটা শেষ যুদ্ধ ছিল না?”
মায়া তার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল।
— “না। এটা ছিল ভূমিকা।”
◆ ৪. ভালোবাসার নতুন চুক্তি
রাত নামছে আবার।
ইরা মায়ার হাত ধরল।
— “এইবার যদি অন্ধকার আসে…”
মায়া চোখে চোখ রেখে বলল—
— “আমি পালাব না।”
— “আর আমি?”
— “তুই আর আলো হিসেবে লড়বি না।”
ইরা অবাক—
— “তাহলে কী হিসেবে?”
মায়া নরম গলায়—
— “ভালোবাসা হিসেবে। কারণ ওটাই একমাত্র জিনিস যেটা ছায়ারা বোঝে না।”
◆ ৫. শেষ নয়, শুরু
দূরে কোথাও
একটা দরজা খুলছে।
ছায়া নড়ছে।
আর ইরা জানে—
তার আলো পুরোপুরি যায়নি।
মায়া জানে—
তার অন্ধকার পুরোপুরি মরেনি।
এই দুই অসম্পূর্ণ মানুষই
এখন একে অপরের ঘর।
আর সামনে আছে—
আরও পর্ব
আরও পরীক্ষা
আরও ভালোবাসা

ছায়া সবসময় বাইরে থাকে না।
কিছু অন্ধকার
মানুষের বুকের ভেতরেই জন্ম নেয়।
রাত গভীর।
কিন্তু আজ কোনো অলৌকিক অন্ধকার নেই।
কোনো ছায়া দরজায় দাঁড়িয়ে নেই।
তবু বাতাস ভারী।
ইরা ঘুমোতে পারছে না।
তার চোখ বন্ধ করলেই
একটার পর একটা দৃশ্য ভেসে উঠছে—
রক্ত নয়, ছায়া নয়—
মানুষ।
মানুষের চোখ।
মানুষের কণ্ঠ।
মানুষের নিষ্ঠুরতা।
সে হঠাৎ উঠে বসে।
— “মায়া…”
মায়া পাশেই ছিল।
ঘুমাচ্ছিল না।
— “আমি জানি,”
মায়া ধীরে বলল।
“আজ রাতটা আলাদা।”
◆ ১. আলো কেন কাঁপছে
ইরা নিজের বুকের ওপর হাত রাখল।
— “আমার আলো কাঁপছে।”
মায়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— “কী মানে?”
ইরা ফিসফিস করে—
— “ছায়া না থাকলেও… আমি ভয় পাচ্ছি।”
মায়া বুঝে গেল।
— “কারণ এই ভয়টা অলৌকিক না। এটা মানুষজনিত।”
ইরা চোখ তুলল।
— “মানুষই কি ছায়ার থেকেও ভয়ংকর?”
মায়া কোনো উত্তর দিল না।
সে শুধু বলল—
— “হ্যাঁ।”
◆ ২. প্রথম আঘাত — মানুষের হাত থেকে
পরের দিন।
ইরা একা বাইরে বেরিয়েছিল।
স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ নিতে।
কিন্তু স্বাভাবিক জিনিসটাই
আজ সবচেয়ে অচেনা লাগছে।
দু’জন মানুষ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল।
ইরা হেঁটে যাচ্ছিল।
একজন ফিসফিস করল—
— “ওই দেখ… এই তো সেই মেয়েটা।”
আরেকজন—
— “হ্যাঁ। ওই যে… ওর সঙ্গে থাকে আরেকটা মেয়ে। রাতের বেলা নাকি অদ্ভুত সব ঘটে।”
ইরার পা থেমে গেল।
— “ওরা কী বলছে?”
সে নিজেকে প্রশ্ন করল।
আর তখনই—
— “এই মেয়ে!”
একজন চেঁচিয়ে উঠল।
— “তুমি কী করছ এখানে? তোমাদের মতো লোকজনের জন্যই এই জায়গা নষ্ট হচ্ছে!”
ইরার বুক শক্ত হয়ে গেল।
— “আমি কিছু করিনি।”
— “তোমাদের মতো মেয়েরা স্বাভাবিক না!”
এই কথাটা
কোনো ছায়ার আক্রমণের থেকেও
বেশি আঘাত করল।
ইরার আলো কেঁপে উঠল।
কিন্তু এবার
কোনো বিস্ফোরণ হলো না।
সে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
◆ ৩. মায়ার দেরিতে পৌঁছানো
মায়া দৌড়ে এল।
— “ইরা!”
সে দৃশ্যটা দেখল।
মানুষের চোখে ঘৃণা।
ইরার চোখে নীরবতা।
মায়ার ভেতরের অন্ধকার নড়ে উঠল।
কিন্তু সে নিজেকে থামাল।
এটাই তার যুদ্ধ।
সে সামনে দাঁড়িয়ে বলল—
— “ও আমার সঙ্গে আছে। আর ও কাউকে ক্ষতি করেনি।”
একজন হেসে উঠল—
— “তোমরা দু’জনেই বিকৃত।”
এই শব্দটা—
বিকৃত।
মায়ার বুকের ভেতর কিছু ভেঙে গেল।
কিন্তু সে হাত তুলল না।
সে শুধু বলল—
— “আমরা মানুষ। তোমাদের মতোই।”
◆ ৪. ঘরে ফেরা — নীরব ভাঙন
ঘরে ফিরে
ইরা কিছু বলল না।
সে জানালার ধারে বসে রইল।
মায়া ধীরে কাছে এল।
— “তুই ঠিক আছিস?”
ইরা হাসল।
কিন্তু সেই হাসি ভাঙা।
— “ছায়ারা আমাকে মারতে চেয়েছিল। তখন আমি শক্ত ছিলাম।”
সে মায়ার দিকে তাকাল।
— “আজ মানুষ আমাকে তুচ্ছ করল। আর আমি ভেঙে পড়লাম।”
মায়া ইরাকে বুকে টেনে নিল।
— “কারণ ছায়া শত্রু। কিন্তু মানুষ প্রত্যাশা।”
◆ ৫. নতুন উপলব্ধি
ইরা ফিসফিস করল—
— “আমার আলো কি কমে যাচ্ছে?”
মায়া মাথা নাড়ল।
— “না। তোর আলো বদলাচ্ছে।”
— “কিভাবে?”
মায়া কপাল ঠেকাল।
— “এখন তোর আলো শুধু যুদ্ধের না। এটা সহ্য করার, ভালোবাসার, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার আলো।”
◆ ৬. অন্ধকারের নতুন রূপ
রাতে আবার ইরা স্বপ্ন দেখল।
কিন্তু এবার
কোনো ছায়া নেই।
একটা মানুষ দাঁড়িয়ে।
তার মুখ চেনা না।
সে বলল—
— “ছায়া গেলে কি মনে করেছিলে যুদ্ধ শেষ?”
ইরা ঘুম ভেঙে চমকে উঠল।
মায়া পাশে।
— “কী দেখলি?”
ইরা ধীরে বলল—
— “মানুষের অন্ধকার ছায়ার থেকেও গভীর।”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
— “আর সেই অন্ধকারই আমাদের শেষ পরীক্ষার পথ।”