Jharapata 94 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 94

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 94

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৯৪

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

- "কী হল যুগল? তুমি উত্তর দেবে নাকি....." যুগলের চুপ করে থাকায় লিলি থামে না। 

- "শোনো লিলি, এটা আমার টাকা। আমার কাছে ছিল........." যুগল খুব কনফিডেন্ট মুখ করে বলে। 

- "আচ্ছা, তোমার কাছে ছিল, ভেরি গুড। গুলবাজ কোথাকার ! তোমার কাছে এতগুলো টাকা থাকতে তুমি আমার সঙ্গে খরচ খরচা নিয়ে খিটির মিটির করেছ, আমাকে দিয়ে বাসন মাজিয়েছ, ঘর পরিষ্কার করিয়েছ, আর এইটা এখন বিশ্বাস করতে বলছ? তা এতদিন টাকাটা রাখতে কোথায়?"

- "ব্যা মানে ব্যাঙ্কে ছিল।" যুগল যা মাথায় আসে বলে দেয়। 

- "রামছাগলের মতো ব্যা ব্যা করলেই আমাকে যা তা বুঝিয়ে দেবে? বাড়ি ছেড়ে যখন এসেছিলে তোমার নিজের নামে একটা ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট‌ও ছিল না। বরং আমার চাকরির টাকা বাবা মা আমাকে আলাদা করে রাখতে বলেছিল। তাই রাখতাম। কখনো সখনো পড়ার খরচ করেছিলাম কেবল, ব্যস। কিন্তু বিয়ের পর তুমি ঐ টাকায় হাত দিতে বারণ করেছিলে। আমাদের কোনো বিপদের জন্য রাখতে বলেছিলে। এখন‌ও মাস মাইনে দিয়ে চেপেচুপে আমরা চলছি। তোমার এই টাকার গল্প আমাকে শুনিও না। ব্যাঙ্কের পাসব‌ই দেখাও, স্টেটমেন্ট দেখাও।"

যুগল মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করে, সামনের জন্মে এম বি এ পড়া মেয়ে ও হার্গিস বিয়ে করবে না। আরে ইয়ার, তেরি মা বেহেনের জন্য খরিদারি করতে রুপেয়া দিচ্ছি। জেরা করছে দেখো ! 

- "দেখো লিলি, এটা অফিস। তোমার সব কোশ্চেন ছুটির পর করবে।" নিজের কিউবিকলে ঢুকে কাস্টমার ভেরিফিকেশন লিস্ট খুলে বসে যায় ও। 

অবশ্য ছুটি হতেই লিলি বিনা প্রশ্নে ওর সামনে দাঁড়িয়ে কোমরে হাত দিয়ে আগুনঝরা চোখে তাকিয়ে থাকে, একটাও কথা বলার দরকার বোধ করে না। যুগল এই একঘন্টা সময়ে ভেবে নিয়েছে, "সচ্ বতানাহি হোগা।"

- "আও, বাতাতা হু।" ওর বাহুমূল ধরে অফিসের চৌহদ্দি পার হয়ে এসে যুগল বলে, "ম্যায়নে উধার লিয়া।"

- "মানে?" লিলির গায়ে আগুন জ্বলে ওঠে নিজের আশঙ্কা সত্যি হতে দেখে। 

- "ক্যা মতলব? তুম উধার নেহি সমঝতি? আরে, উধার উধার, ইট মিনস ক্রেডিট। ম্যায়নে কিসিসে মাঙ্গকে লি থোড়ি দিন‌ও কে লিয়ে। বাদমে লৌটানা হ্যায়।"

- "হ্যাত্তেরি করেছে। লিঙ্গুইস্টিক ক্লাস করাচ্ছে যেন ! মানে বোঝাতে হবে না, তুমি যে ধার করেছ, মানে উধার নিয়েছ, সেটা আমি প্রথমেই বুঝেছি। তার উপর মিথ্যে বলছ। আর এত টাকা ধার করে কেনাকাটা করছ কেন?" লিলি ঝাঁঝিয়ে ওঠে। 

- "ঝুঠ বলেছি তোমার ভয়ে। দেখো লিলি, তুমি ভাবছ, আমি রুপেয়া দেখাতে চাইছি। আমি চাইছি, সবাই খুশ থাক। একটা ভালো টাইম এসেছে, এখন তুমি যদি খারাপ ড্রেস পরে যাও, তোমার বাবা মা ভাববেন কি, তুমি খারাপ আছ। ওরা ভালো থাকবে না।"

- "যুগল, ওরা জানে আমরা কীভাবে আছি। আর আমরা ফাইট ব্যাক করছি, এটাই আসল কথা। আমি এসব দামী জিনিস দেখিয়ে বড় হতে চাই না, তাও পরের টাকায়।"

- "এটা আমাদের টাকা। বড় বড় ইন্ডাসট্রিয়ালিস্ট উধার করেই বেওসা চালায়, ইনভেস্ট করে। যখন প্রফিট হয়, শোধ দেয়। ইজ দ্যাট শো অফ? নো, ইটস রোলিং অফ মানি। দেখো লিলি, আমি এটা শোধ করে দেব। লেকিন কাল‌ই গিফট চাহিয়ে, উসি লিয়ে এ্যাডভান্স মে রুপেয়া লেনা পড়া। ঔর তুম কিঁউ সবকা মায়ুস চেহরা দেখনা চাহতি হো? আচ্ছা গিফট লে কে চলো, তুমহারে লিয়ে সবকা টেনশন গায়েব কর দো।"

- "ওক্কে, তাই হল। কতবার হবে এটা? সব ঠিক চললে এখন থেকে মিলির সঙ্গেই আমাদের ডাকবে বাবা। তো প্রত্যেক বার এভাবে চলবে?"

- "নো, নেভার, ইউ বেটার নো দ্যাট। কুছ সময়কে লিয়ে ইয়ে হো রহা হ্যায়। কুছহি দিনমে হাম দোনোকো আচ্ছে জব মিল জায়েগা। তব যো চাহিয়ে হামলোগ খরিদ সাকেঙ্গে।"

লিলি আর কথা খুঁজে পায় না। তবুও বলে, "কার থেকে ধার করেছ? কত ইন্টারেস্ট দিতে হবে? এর চেয়ে আমার জমানো টাকাটা থেকে নিতাম এখন।"

- "না তোমার ঐ রুপেয়া না। ওটা থাক। আমি পুরনো দোস্তের পিতাজির গদ্দি থেকে উধার নিয়েছি। ওদের মানি লেন্ডিং বিজনেস আছে। তো আমার জন্য টোয়েন্টি টু পার্সেন্ট ইন্টারেস্ট করে দিয়েছে।"

- "বাহ, খুব খুব ভালো। এখনও তুমি আমার টাকাটা নেবে না, ওদিকে এতগুলো টাকা বেকার ইন্টারেস্ট গুণবে। মেল শভিনিস্ট একেই বলে। শোনো, ভালো কেনাকাটা করব, সবার জন্যই কিনব। তবে আমার টাকা থেকে এখন কেনা হবে। প্রতি মাসে আমাদের দুজনের স্যালারি থেকে কিছু কিছু করে রেখে আবার জমাবো। নাহলে কিছু কেনা হবে না।"

- "লিলি, ঐ টাকাটা......"

- "হ্যাঁ, মানছি ওটাই আমাদের একমাত্র জোর এখন, বিপদে পড়লে লাগবে। তার জন্য একগাদা ইন্টারেস্ট গোণাও কিন্তু বোকামি। বরং বলতে নেই, আমাদের কোনো প্রবলেম হলে তখন এই লেন্ডারদের থেকে টাকা নেব। এখন এটা ফেরত দাও।"

লিলি যেমন যুগলের যুক্তি মেনেছে, গিফট কেনাই উচিত, লিলির এই যুক্তিও যুগলকে মানতে হয়। বন্ধুকে ফোন করে বলে, ওর বাঙালী ব‌উ উধার করে শপিং করবে না। তাই টাকাটা আপাততঃ ও রিফান্ড করছে। এই কয়েক ঘন্টার জন্য কত ইন্টারেস্ট দিতে হবে? 

বন্ধু হাসতে হাসতে বলে, কোনো ইন্টারেস্ট চাই না। বরং আগে গিয়ে ওর জন্য বাঙালি ব‌উ খুঁজে দিতে হবে যুগলের। যে এত বুঝদার হবে। 

এরপর খুশিমনে ওরাও কেনাকাটা করে। পরদিন দুই দম্পতিই যখন নিজেরা ফোনে আলোচনা করে প্রায় এক‌ই সময়ে বাড়িতে পৌঁছয়, গোপা ওদের বরণ করে ঘরে নিয়ে আসে, তখন যুগলের বন্ধু মারফত লিলির এই বিচক্ষণতার কথা আরও কিছু মাড়োয়ারি পরিবারের কান ঘুরে খোদ যুগলের বাড়িতে পৌঁছে গেছে। 

(আগামী পর্বে সমাপ্য)