Jharapata 82 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 82

Featured Books
  • इस घर में प्यार मना है - 15

    उस दिन मनमोहन और प्रार्थना किसी काम से गाँव के दूसरे छोरगए ह...

  • पर्दे के पीछे - 3

    सब औरतों की हँसी-मज़ाक चल रही थी।किसी के नए सूट की बात…किसी...

  • The Marriage Mistake

    भाग 1दिल्ली की ठंडी रात, चमकती रोशनी, और शाही होटल "रॉयल क्र...

  • भक्त प्रह्लाद - 3

    प्रतिशोध की ज्वालाहिरण्याक्ष से राजपाट की बागडोर मिलने के पश...

  • मेरा प्यार - 5

    ​एपिसोड 4: बेनाम लगाव और ऊँची दीवारें​वक़्त पंख लगाकर उड़ रहा...

Categories
Share

ঝরাপাতা - 82

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৮২

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

পিউ রাতে মুখে ক্রিম মাখতে মাখতে বনিকে বলে, "তুমি এদিকে রাগ করেছ হাবভাব দেখাও, ওদিকে ভাইকে যত পার প্রোটেকশন দাও। কেমন এককথায় নিজে থেকে বলে দিলে, ওর ব্যাবস্থা করে দেবে। একটু ঘোল খাওয়াতাম, অন্ততঃ মুখে মুখে আওয়াজ দিয়ে, নাহ, ছাড় দিয়ে দিল।"

বনি মুচকি হেসে বলে, "মোটেই পার্শিয়ালিটি করিনি। আমার হাত পা বাঁধা।"

- "মানে?" ঘোরতর অবাক পিউ। 

- "এখানে এসো, বোঝাচ্ছি।" ঘুমন্ত টুকাইয়ের পাশে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে ডাকে বনি। 

- "চালাকি ছাড়ো, যত্ত বানানো কথা !" পিউ আবার ক্রিম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, "তোমাকে চিনি না ! খুব ভুল কথা বলেনি তোমার ভাই, জিনিস একটা তুমি !"

- "আহা, তুমি আমাকে চিনবে, ভাইও আমাকে চিনবে, এতে অবাক করা কিছু নেই। কিন্তু কথা হল, আমার ভাইটাকে তুমি কতটা চেনো আর মিলি কতটা চেনে।" বনি উঠে বসে আড়মোড়া ভাঙে। 

- "চিনব না কেন? ভালোই চিনি।"

- "কচু চেনো। বা যা চিনতে, সেসব দিন চলে গেছে। আমি কেন আগ বাড়িয়ে সবাইকে রাজি করার দায়িত্ব কেন নিলাম তুমিও বোঝোনি?"

- "সে ভালোই বুঝেছি। ঝামেলা মেটাতে।" নিশ্চিন্ত পিউ আয়নার সামনে থেকে উঠে জল খায়।

জল খেয়ে বোতলটা টেবিলে রাখার আগেই বনি ওকে কোলে তুলে নিয়েছে। পিউ ওর গলা জড়িয়ে নাকে নিজের নাকটা ঘষার আগেই বনি বলে, "সত্যিই কিছু বোঝেনি। আমার ব‌উটা হাবভাব দেখায়, অনেক বড়, আসলে বড় হয়নি।"

- "কি বুঝিনি?" পিউ তেরিয়া হয়ে ওঠে। 

বনি খাটে বসে ওকে গুছিয়ে কোলে বসিয়ে বলে, "পিউ, দুজন যা স্পীডে এগোচ্ছে, অনুষ্ঠান করতে আর দেরি হলে রিস্ক হয়ে যাবে।"

- "হুম।" পিউ ওর গলার কাছে আলতো চুমু খেয়ে গুটিসুটি মেরে বুকের মধ্যে ঢুকে বসে, "খুব বিশ্রী লাগছে মিলির এভাবে থাকাটা। এতগুলো মাস ধরে........পাড়ার লোক পুরো ব্যাপারটা ভুল বুঝছে।"

- "তুমিও ভুল বুঝছ। আসল কথা হল এরপর পাড়ার লোককে অন্য অনুষ্ঠানে ডাকতে হবে। টুকাইয়ের ভাইবোনের অন্নপ্রাশন হবে তখন।" 

বনি পিউকে জড়িয়েই শুয়ে পড়েছে কথাটা বলেই। পিউ ওর গাল টেনে দিয়ে বলে, "তোমার তো তাই ইচ্ছে।"

- "আমি আমার কথা বলিনি, তোমার ভাইয়ের কথা বলেছি।" বনির কথায় চমকে গেলেও পিউ উত্তর দিতে পারে না, ততক্ষণে বনি ওর মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। 

ছাড়া পেতেই হাঁসফাঁস করে ওঠে পিউ, "মানেটা কী? কী বলতে চাইছ?"

- "সিম্পল একটা কথা, দুটোকে এক বাড়িতে রাখলে টুকাইয়ের খুড়তুতো ভাইবোন এসে যাবে। তোমার আর মায়ের অত নিয়মকানুন পালন করার শখ চিরকালের মতো ঘুচে যাবে।"

খিলখিল করে হেসে ওঠে পিউ। বনি একহাতে ওর মুখ চেপে ধরে, "আস্তে, টুকাই জেগে গেলে তোমার কপালে দুঃখ আছে।" হাত সরিয়ে আবার চুমু খায় পিউকে, ওর ঠোঁটে, চোখে, গালে। 

পিউ প্রত্যুত্তর ফিরিয়ে দিতে দিতেও বলার লোভ ছাড়তে পারে না, "কি যে বলো না তুমি ! সবসময় দুষ্টুবুদ্ধি !"

- "না সোনা, ঘোরতর প্র্যাকটিক্যাল বুদ্ধি। আজ নিজের চোখে দেখেছ, ঐটুকু সময়ে যতটা এগিয়েছে দুজন, তারপর থামবে কোথায়? আর এটাই স্বাভাবিক। দুজন দুজনকে ভালোবাসে, বিয়ে হয়েছে, এতো আটকানোর কথা নয়, বরং দুজনকে একসঙ্গে থাকতে দেওয়া উচিত এখন আমাদের।"

বনি পিউর কপালে কপাল ঠেকিয়ে হাসে, "ভালো থাক ওরা দুজন, এমনি করেই ভালোবাসুক এ ওকে। যাই বলো, দুটোকে কি কিউট লাগছিল আজ ধরা পড়ে।"

- "তুমিও আমাকে এরকমই ভালোবাসবে তো, সবসময়?" স্বপ্নমাখা চোখে বনির দিকে তাকিয়ে পিউ বলে। 

- "না, ভালোবাসবো না।" পিউর নাকটা আদর করে নেড়ে দিয়ে ওকে পাগলের মত আদর করতে থাকে বনি, "আমার ব‌উটাকে, আমার সোনামনিটাকে সবসময় সারাজীবন এভাবেই, এর থেকেও বেশি বেশি ভালোবাসবো। কিন্তু আমার ব‌উটা সেই সুযোগ দেয়? একটু আমার কাছাকাছি থাকে?"

পিউ বনির বুকের উপর শুয়ে ওর কপালে চোখে গালে আদরে ভরিয়ে দেয় এই মিথ্যে অভিযোগের উত্তরে। দুজনের নিঃশ্বাস ঘন হয়ে এসেছে। রনি আর মিলিকে নিয়ে মজা করতে ভুলেই গেছে দুজন। 

দুজনেই দুজনকে আরও দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে ধরেছে। বনি ওর গাল, গলায় নিজের মুখ গুঁজে দিয়েছে। পিউয়ের আদরে, প্রশ্রয়ে দুজন দুজনের মধ্যে ডুবে যায়। 

পরদিন বনি সকাল হতে না হতে দেখা করল সমরের সঙ্গে। যতটা বোঝাতে হবে ভেবেছিল, তার কিছুই করতে হল না। এককথায় ঠিক হল, পরদিন তিরিশ তারিখে অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। তবে এখনই পুরোহিত মশাইকে দিয়ে একটা ভালো দিন দেখিয়ে সবচেয়ে আগে যেদিন পাওয়া যায়, সেদিন‌ই অনুষ্ঠান হবে। 

একটু ইতস্ততঃ করে গোপা বলল, "আমরা লিলিকেও মেনে নেবে ঠিক করেছি। পিউর কাছে শুনেছি সব ঘটনা। বিয়ের সময় কাজটা অন্যায় করেছে, নাহলে ছেলেটি ভালোই শুনলাম। রনির সঙ্গেও ভাব হয়েছে। দুই জামাই যদি বন্ধুর মতো মিলেমিশে থাকতে পারে, এর চেয়ে ভালো আর কি হয় !"

বনি সাহস পেয়ে বলে, "পরিস্থিতি রনিকে দিয়ে একটা বড় অন্যায় কাজ করিয়েছে। নাহলে এতগুলো বছর ওকে সামনে থেকে দেখছেন, সত্যিই বলুন তো কাকিমা, ওর মতো ভালো ছেলে কটা হয়? আপনাদের উপরেও অনেক চাপ গেছে, মানছি। তবে এবার থেকে, আমার মনে হয়, ওর ঐ একটা কাজ ভুলে গিয়ে ওর কথাবার্তা কাজকর্মের বিচার করলে ভালো হত। ওরা দুজন স্বামী স্ত্রী হিসেবে নতুন করে শুরু করুক। আমরা সবাই একটু ধৈর্য্য ধরে ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি গুলো মাপ করে দিই না ওদের?"

সমর গলা খাঁকারি দিয়ে বলে, "আমরাও তাই ভেবেছি। সব ভুলে নতুন শুরুর জন্যই লিলিকেও ডাকব। ওর ঠিকানাটা দিও তোমরা। আর ইয়ে, ওকে কিছু জানানোর দরকার নেই আপাততঃ। আমরা দুজন সরাসরি দেখা করব। যাই হোক, ছেলেটি জামাই, ও যেন কোনোভাবেই ছোট হচ্ছে মনে না করে।"

পিউ আর বনি নিশ্চিন্ত হয়। যাক, সমরকাকুও সমস্ত চাপ কাটিয়ে উঠেছে, ঠান্ডা মাথায় ঘটনা বিচার করছে। এবার আর কোনো ভয় নেই। 

বাড়ি এসে রনি আর মিলির খানিকটা লেগপুল করে ভালো খবর দেয়। লিলির কথাটা চেপে রাখে। রনি নয়ত মিলি ওকে সুখবর দিতে ফোন করবেই জানে। দেখা যাক, বাবা মায়ের সঙ্গে লিলির দেখাটা একদম আনকাট হোক না। অবশ্য মনিকাকে বলে রাখে পিউ। 

চলবে