Fate's writing??✨ in Bengali Love Stories by Sujata Mondal books and stories PDF | ভাগ্যের লেখন ??✨

Featured Books
Categories
Share

ভাগ্যের লেখন ??✨


আমাদের পাড়ারই এক ছেলের কথা নাম রিয়ান আমি হলাম পাখি আমি রিয়ানকে খুব ভালোবাসি। ও আমাকে ভালোবাসে, সেটাও আমি জানি। আমি যে ওকে কতটা পছন্দ করি তা ও জানে কিন্তু আমি যা ওকে কতটা ভালোবাসি তা ও জানে না। আমি ওর থেকে একটা বছরের বড়।আমি আমার ভালোবাসাকে হারিয়েছি হারান তো দূরের কথা আমি তাকে কোনদিনও নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্যও করিনি আছে অন্য কাউর। জানো তো যেখানে বলে যে প্রথম ভালোবাসা হওয়া অনেকে ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু তারা জানে না একটি মানুষের প্রথম ভালোবাসা থেকে শেষ ভালোবাসা হওয়া আরও ভাগ্যের ব্যাপার। রিয়ান আমার শেষ ভালোবাসা। যেখানে তুমি জানো যে এই ভালোবাসায় তুমি পেতে গেলে একটা জিনিসই পাবে তাহলে কষ্ট দুঃখ এবং বিষন্নতা। তাও তুমি যেখানে থাকতে চাও এই পর্যায়ে যখন ভালোবাসা পৌঁছে যায় এর থেকে মধুর রূপ এবং এর থেকে কষ্টকর রূপ খুব কম ভালোবাসাই আছে। আমার প্রথম ভালবাসাকে হারানোর পর আমি ভালোবাসায় বিশ্বাস করা ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু আমি যখন জানতে পারি আমারই পাড়ার এক ছেলে একই এলাকায় কিন্তু দুটো আলাদা পাড়া সেই ছেলেটি আমাকে তিন বছর আগে থেকে কতটা ভালোবাসে তারপর আস্তে আস্তে তার ভালোবাসার কাছে আমার জেদ কে হেরে যেতেই হল আমিও জড়িয়ে পড়লাম তার ভালোবাসার।

✨✨🌷🌷✨✨

পাখি তার পাড়ার ছোট ছোট ভাইবোনেদের সঙ্গে এবং তার বান্ধবীদের সঙ্গে খেলা করছে। হঠাৎই তাদের পাড়ার রাস্তা দিয়ে রিয়ান সাইকেল নিয়ে চলে গেল। তা সাইকেল নিয়ে চলে যাওয়া তার অঙ্গভঙ্গি দেখেই তা কি বুঝতে পেরেছে পাখি যে রিয়ান তাকে দেখার জন্যই এখান থেকে গেল আর এখন রিয়ান আরো অনেক বার ঘুরবে, হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি। তার পরেরবার রিয়ান আসার আগেই পাখি একটা কোনায় গিয়ে লুকিয়ে পড়ল কিন্তু তার একটা ছোট্ট বোন ফুলি তাকে টেনে বের করে নিয়ে আসলো আর সে আবার লুকাতে যাবে তখনই রিয়ান চলে আসলো আর আর তাকে একটা চোখ মেরে চলে গেল। পাখি হালকা রেগে গেল। এবং মনে মনে একটু বিরবির করলো রিয়ান সম্পর্কে। তারপরে আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হয় সে তার ভাই বোনেদের তাদের নিজেদের নিজেদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিল। এবং তার বন্ধু-বান্ধবীদের "বলল বাড়ি ফিরে যা আমি এক্ষুনি যাব আমি একটি বাড়িতে যাব"। একটা অজুহাত এটা মাত্র এ বলে সেটা সব বান্ধবীদের পাঠিয়ে দিল বাড়িতে। কিন্তু তার একমাত্র একটা বান্ধবী ছিল তার নাম লিলি সেই শুধুমাত্র এই সম্পর্কটা সম্পর্কে জানত যে আস্তে আস্তে হাসতে হাসতে এসে বলল "হুম হুম রিয়ানের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস বুঝি তা ঠিক আছে দাঁড়িয়ে থাক আমাদের জন্য তো ভালো করে......"লিলি কথা শেষ করে উঠবে তার আগেই পাখি তাকে ভয় দেখালো "বেশি বকতি না চুপচাপ বাড়ি যা। নয়তো কাকিমাকে বলে দেব"। এই ভয় দেখিয়ে পাখি লিলিকেও বাড়ি পাঠিয়ে দিল। আসলে নিজেও একজনকে মনে মনে পছন্দ করে আর সেটা শুধুমাত্র পাখি জানতো আর সেই ভয় দেখিয়ে সে তাকে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল। পাখি জানতো যে রিয়ান আসবেই দু-তিন মিনিট দাড়িয়ে থাকার পরেই রিয়ান আসলো, আসতেই,তাকে পাখি দাঁড় করিয়ে বলল "বাড়ি ফিরে যা অনেক সন্ধ্যা হয়ে গেছে আর বাইরে থাকতে হবে না আর আমাকেও আর দেখতে হবে না, কাল দেখিস খুনি"। রিয়ান এই কথাটা শুনে একটু মুচকি হাসলো এবং বলল তাহলে সবই বুঝে গেছিস আর মুচকি হেসে হঠাৎই পাখির ডান গালে একটা হালকা করে চুমু খেয়ে চলে গেল। পাখি ওখানেই হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল তারপর মনে মনে বলল "দাঁড়া তুই কালকে আয় দেখাচ্ছি তোর মজা"।
🥀🥀🥀🥀
কিন্তু কেইবা জানতো এটাই তাদের কত বছরের অপেক্ষার আগের শেষ দেখা।
🍃🥀🍂❓
🥀🍂 কি সেই অপেক্ষার কারণ ?
🥀🍂 কি হয়েছিল তখন ?

💔🥀🍂 দশ বছরের অপেক্ষার মধ্যে : -
ক্যারিয়ার পাখিকে ভালোবাসার কাছে কিছু সময়ের জন্য হলেও হেরে যেতে বাধ্য করেছিল। দশ বছরের জন্য পাখি তার মামাতো দিদির বাড়িতে পড়াশোনার জন্য গিয়েছিল তা দিদির বাড়ি দিল্লিতে। অনেক দূর। এদিকে সে রিয়ানের সাথে শেষ বার একটুকু দেখাও করতে পারেনি তাকে বলতেও পারিনি অপেক্ষা করিস আমার জন্য এদিকে রিয়ানতো তাকে ভুল বুঝে ফেলেছে। লিপির একমাত্র যে বন্ধু ছিল যাকে সে সব কথা বলতো সে তো লিলি, লিলির কাছ থেকেই সে রিয়ানের খবরা খবর নিত। জানতে পারত রিয়ানও কিন্তু সেই ভাবে না লিলি বন্ধুদের মধ্যে কথায় কথায় পাখির খবরা-খবরের কথা বলতো স্পেশাল ভাবে রিয়ানকে কিছুই বলতো না। কারণ পাখি বারণ করেছিল। কিন্তু পাখি চলে যাওয়ার মাত্র এক বছর পরেই সেই খবরা খবরটুকু পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আর যেহেতু তারা যখন আলাদা হয়েছিল তখন তাদের হাতে বর্তমানে সবচেয়ে ব্যবহৃত যন্ত্র মোবাইল দেওয়া হয়নি। তারা যে অভিভাবকের সাথে থাকতো তার ফোন থেকেই যোগাযোগ করতে বাড়ির লোকের সাথে কিন্তু তাদের একে অপরকের ভালোবাসার সাথে কোন যোগাযোগ ছিল না। রিয়ান তো ভুল বুঝেছিল পাখিকে যে পাখি তাকে ভুলে গেছে এত বড় একটা জায়গা দিল্লি আর কেউ খানের কত সুন্দর সুন্দর ছেলে ওখান থেকে কি আর আমায় আর মনে রাখে । কিন্তু রিয়ান জানতো না যে ওকে পাখি মন থেকে ভালোবেসেছে না রূপ দেখে আর পাখির কাছে তার থেকে সুদর্শন আর কেউ না। পাখি তাকে পুরো দশটা বছর অনেক মনে করেছে অনেক অপেক্ষা করেছে। তার সঙ্গে দেখা করার। তাহলে ঠিক এক বছর পর পাখি চলে যাওয়ার রিয়ানও কলকাতায় তার মামা বাড়িতে পড়াশোনার জন্য চলে যায়। সেই জন্য লিলিও পাখিকে আর কোনো খবর দিতে পারিনি। লিলি তার মায়ের ফোন থেকে পাখির সাথে যোগাযোগ করতো। পাখি কিছুটা আন্দাজে করতে পেরেছিল যে রিয়ান হতে তার উপর রেগে আছে অভিমান করে আছে। অভিমানের দিক থেকে দেখতে গেলে মেয়েদের থেকে উপরে ছেলেরা যেতে পারেনা কিন্তু এখানে রিয়ান ও অভিমান করেছে কিন্তু সে কি তার প্রেয়সীর ভালোবাসার কাছে অভিমান করে থাকতে পারে। খুব কষ্টে মনে হাজার খানেক পাহাড় জমিয়ে ১০ বছর কাটলো তার। পাখি এই দশ বছরে অনেক কান্নাকাটি করেছে, নিজের কাছে কেঁদেছে। যে কান্নার আওয়াজ আর কেউ শুনতে পায়নি। কিন্তু হয়তো বা রিয়ান শুনেছে। সে তার মামাতো দিদি বা বাড়ির কাউকে জানতে দেয়নি তার মনটা ফেটে যাচ্ছে। সাইন্সে পড়াশোনা করে টপ কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে ফিরছে বাড়িতে পাখি। এখন পাখি আর সেই ছোট্ট পাখি নেই যে অবুঝ একটা পিচ্চি এখন সেই পাখি অনেক বড় হয়ে গেছে একজন বড় ইঞ্জিনিয়ার। সে তার মায়ের কাছ থেকে শুনেছিল মা তার চলে যাওয়ার পর অতআর পাড়ার খবর রাখিনি। মাকে সে জিজ্ঞাসা করেছিল তাবন্ধু-বান্ধবীরা আছে সবাই ওখানে। মা বলেছিল হ্যাঁ আছে। কিন্তু সেই বন্ধু-বান্ধবীদের মধ্যে সে যে রিয়ানকেই খুঁজেছিল। পাখি আজ ফিরছে বাড়িতে ফ্লাইটে করে টেকঅফ করেছে।
কিন্তু একি বাড়িতে ফিরেছি কিন্তু আমি তোমার মা-বাবা সবার সঙ্গেই দেখা করলাম। পাখির মনটা আজ ভীষণ খুশি কারণ সে তার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে পেরেছে দশ বছর পর। হ্যাঁ এই দশ বছরে তার মা-বাবার সঙ্গেও তার দেখা হয়নি। কি খাওয়া দাওয়া শেষ করে দুপুরের পর বিকেলে বাড়ির বাইরে বেরোলো সেই ছোট ছোট ভাইবোনেরা এখন কত বড় হয়ে গেছে সেই ফুলি এখন ক্লাস- 9 পড়ে। পাখি লিলির সঙ্গেও দেখা করলো। লিলির সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই সে ছুটে গিয়ে লিলিকে জড়িয়ে ধরল। কথাবার্তা বলল কিছু কথাবার্তার পরেই লিনিকে সে জিজ্ঞাসা করল যে রিয়ান কোথায় রে? ও আমার খবর পায়নি ?লিলি মুখ কালো করে বলল রিয়ান তো এখানে নেই রে। কলকাতায় রিয়ান ওর মামা বাড়িতে, তুই চলে যাওয়ার পরেই তো চলে গেছিল তোকে তো আমি বলেছিলাম। তা তুই এটা ভুলে গেলি। লিলি বললো পাখিকে ,পাখি বললো আমি তো তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম মাকে বললাম যে আমার সব বন্ধু-বান্ধবীরা এখানেই আছে তো। মা তো বললো হ্যাঁ। তারপর লিলি বললো যে তুই চলে যাওয়ার পর কাকিমার পাড়ার এত খবর রাখে না পাড়ারই খবর রাখে না পাশের পাড়ার আর কতই বা খবর রাখবে রেখেছে হয়তো বা ভুলে গেছে। রিয়ান এখানে নেই। তুই ওর নামটা তো বলবি। পাখি বলল আমি তো বুঝতে পারিনি কিন্তু...... । কিছু বলে ওঠার আগেই পাখি জোরে ছুট দিল বাড়িতে। বাড়িতে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আবার ফিরে আসলো লিলির কাছে। এসে বলল লিলি রিয়ান কোথায় এখন। লিলি বললো রিয়ান এখন কলকাতায় ওর মামা বাড়িতে আচ্ছা, তুই কি ওখানে যাওয়ার...., পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই পাখি ছুট দিল। আধা ঘন্টা- এক ঘন্টার মধ্যেই পাখি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে আসলো পাখি মাকে বলছিল মা কলেজ থেকে একটা খুব জরুরী দাগ পড়ে গেছে আমায় এক্ষুনি যেতে হবে। লিলি জানতো সে যে কোথায় যাচ্ছে আর কেনই যাজাচ্ছে। পাখি বলেছিল যে সে আর তার দিদির বাড়িতে থাকবে না কলেজ থেকে তো টাকা পায় তার বেশিও তার আয় হয় সে বিভিন্ন বই দেখে তা থেকে তার টাকা আয় হয় আর একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার টাকার কি আর কমতি থাকে সে একটি নতুন বাড়িতে থাকবে একাই ,মা বাবা আর কিছু বলতে পারল না কারণ মেয়ে তো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেছে আর কিবা বলতে পারে তাছাড়া, মেয়ের এখন নিজস্ব একটি সম্মান আছে নিজে টাকা আয় করে তা সত্ত্বেও নিজের দিদির বাড়িতে পড়ে থাকবে এইটা তার ঠিক ভালো লাগেনা, তাই বাড়িটা কেনা। সে কলকাতায় পৌঁছে গেল তার হালকা হালকা মনে পড়ে গেল রিয়ানের মুখে শোনা, তার মামা বাড়ির কথা সে খুব কষ্ট করে মনে করল। কলকাতার নিউ টাউন- এ তার মামা বাড়ি। সে তন্ন তন্ন হয়ে খুজতে থাকলো। সে পেল না। কিন্তু হঠাৎ সে একজন বৃদ্ধ মহিলাকে দেখতে পেল। সে তার কাছে রিয়ানের কথা শুনল। আসলে সেই বৃদ্ধ মহিলাই ছিল রিয়ানের দিদা তিনি বললেন যে কেন মা এখন তোমার দিয়ে আমি কি কি দরকার, পাখি নিজেকে স্বাভাবিক করে বললো আসলে ও আমার অনেক পুরনো বন্ধু ওর সাথে দেখা করতে এসেছি। রিয়ানের দিদা বললেন আরে রিয়ান তো এখানে থাকে না রে মা ওতো থাকে সল্টলেকের একটি কি যেন একটি কলেজ ওইখানে পড়াশোনার জন্যই ওখানে গেছে। আচ্ছা মা তোমার নাম কি? জিজ্ঞাসা করলে পাখিকে পাখি মিথ্যা বলল যে তার নাম সমৃদ্ধি। সে বৃদ্ধা মহিলারা তাকে কিছুক্ষণ বসতে বলল তাদের বাড়িতে। কিন্তু পাখি বললো যে না আজকের হবে না অন্যদিন একদিন আসব খনি, দিদা। পাখি তখনই রওনা দিল সল্টলেকের উদ্দেশ্যে। সল্টলেকে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় রাত হয়ে গেল এমনিতেও সে নিউটাউন থেকে বেরিয়েছিলই সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ। মা তাকে ফোন করলো আর বলল যে তুই কি পৌঁছে গেছিস। পাখি বলল হ্যাঁ মা তবে দিল্লিতে না কলকাতায়। আজকে কাজ আছে কাল আবার ফিরে যাব। কাল বা পরশু এখানে একটু আটকে পড়তে হয়েছে মা, আচ্ছা মা আমার মা কলেজ থেকে একটু ফোন আসছে। আমি তোমায় পরে কথা বলছি। ফোনটা শেষ করেই তোমায় ফোন করছি। তুমি কিন্তু সময় মতো ওষুধ খেয়ে নেবে। এই বলে পাখি ফোনটা কেটে দিলো সে সেখানে একটি হোটেলে গিয়ে থাকলো একটা রাত। তার রাতে ঘুম নেই সারারাত্রি রিয়ানের কথা ভাবল। মাঝে মাঝে চোখ দুটো অশ্রু জলে ভরে গেল। আবার নিজেকে সান্ত্বনা দিল ঠিক আমি পেয়ে যাব তাকে আমি পেয়ে যাবই তোকে। আমি তোকে খুঁজে বের করবোই। আমি তোকে হারাতে পারবো না। সারারাত না ঘুমানোর পর ভোরবেলার দিকে এক ঘণ্টা ঘুমিয়েই সে ভয় পেয়ে জোরে চিৎকার করে উঠলো ঘুম থেকে "না"। আজকে স্বপ্ন তো দেখেছিল কিন্তু ভালো নয় সে দেখলো তার চোখের সামনেই রিয়ান অন্য কারো হয়ে যাচ্ছে। তাও সে মেনে নিল কিন্তু হঠাৎ রিয়নের অ্যাক্সিডেন্টটা সে মানতে পারল না। আর ভয় পেয়ে উঠে পড়ল। সে নিজেকে শান্ত করল এবং বলল এসব কিছু সত্যি না সব সব স্বপ্ন আমি তোর কিছু হতে দেব না। কিন্তু অনেক পরিশ্রমের পর রিয়ানের কলেজ টা সে খুঁজে পেল সে তখন বেলা বারোটার সময় রিয়ানের কলেজের সামনে এসে পৌঁছালো কিন্তু সে যা দেখল তা দেখে তার পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠলো।
কি এমন দেখলো যা দেখে পাখির সাথে এমন হলো ? 
পাখি কি তাহলে রিয়ান কে দেখতে পাইনি ?

💔🥀🍂 ওদের দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল আগে থেকেই কিন্তু এখন সেই ভুল বোঝাবুঝির রূপটা অনেক বেড়ে গেছে। কি এমন হলো তাদের দুজনের মধ্যে ?

                        💔✨🥀🍂
কলেজের সামনে গিয়ে পাখিটা দেখল তা দেখে পাখি কান্নায় ভেঙে পড়ল। পাখি দেখল যে সেখানে একটি মেয়ে রিয়ানকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। আর তার আশেপাশে কয়েকজন স্টুডেন্ট ওই কলেজের। তা কি তা দেখে ওখানে আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না তুই ওখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। পাখি এক বন্ধু আছে রাজ। হ্যাঁ ওই রাজ যাকে লিলি পছন্দ করত এখন সেই পছন্দ করাটা গভীর ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে লিপির মনেও। যাইহক ওসব ছেড়ে রিয়ান এবং পাখির ভালবাসায় ফিরে আসা যাক। রাজ পাখিকে দেখেই চিৎকার করে ওঠে রিয়ানকে বলল যে "রিয়ান পাখি, পাখি এসেছে"। অনেক বছর পর রিয়ান কে দেখেও তাকে চিনতে পেরে গেছিল। রিয়ান সে কথা শুনে তাকে জড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। আসলে ওই মেয়েটি অনিচ্ছাকৃতভাবে রিয়ানকে জড়িয়ে ধরেছিল। আর তা দেখেই পাখি তাকে ভুল বুঝে ফেলেছিল। রিয়ান ছুঁটতে ছুটতে পাখি দিকে গেল সেদিকে ছুটে গেল। গিয়ে দেখতে পেল পাখি একটি পুকুর পাড়ে বসে খুব কান্নাকাটি করছে, রিয়ান ওখানে এক সেকেন্ডও অপেক্ষা না করে সোজা গিয়ে পাখি কে পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে উঠে বলতে থাকলো "তুই যা লিখেছিস তাই ভুল দেখেছিস যে কিছু সত্যি না আমি তোকে ভীষণ ভালোবাসি তুই যা দেখেছিস সব ভুল দেখেছি তুই আমাকে ভুল বুঝছিস রে ওই মেয়েটা আমাকে আমার অনিচ্ছাকৃত ভাবে জড়িয়ে ধরেছিল..." পাখি রিয়ানের কথা বলতে না দিয়ে তাকে শক্ত ভাবে জড়িয়ে ধরে তার বুকে হাত দিয়ে মারতে থাকে এবং বলতে থাকে যে "কেন কেন তুই এমন করলি রে? আমি কি তোকে কম ভালোবেসে ছিলাম হ্যাঁ আমি কি তোকে কম ভালোবেসে ছিলাম আমি কি তোমাকে বলেছিলাম যে তুই আমার জন্য অপেক্ষা করিস না আমি তোকে তো খুব বলে যেতে পারিনি। তাই জন্য কিছু বুঝে নিতে পারিস নি আমি তোকে কতটা ভালোবাসি হ্যাঁ তুই এমন কেন করলি রে বল বল আমি তোকে.........", পুরো কথাটা শেষ করার আগেই রিয়ান তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল তুই শান্ত তুই শান্ত হ আমিও তোকে ভীষণ ভালোবাসি রে ওই মেয়েটা আমাকে আমার অনিচ্ছাকৃতভাবে জড়িয়ে ধরেছিল রে তুই বিশ্বাস কর আমি তোকে ভীষণ ভালোবাসি, আমি তোর উপরে রেগে গেছিলাম যখন তুই চলে গেছিস সে আমাকে কিছু না বলে আমি অভিমান করেছিলাম তোর ভালোবাসা আমাকে আমার জেদকে হারতেই হয়েছে। আমি তোকে ভীষণ। সব কথা শেষ করতে করতে রিয়ান দেখতে পেল যে পাখি আর ঘটছে না পাখি পাখি বলে জোরে জোরে ডাকতে থাকে এবং বলে কি হলো তোর তারপর পাখির মুখটা হাত দু হতে নিয়ে দেখে যে পাখির জ্ঞান নেই পাখি অজ্ঞান হয়ে গেছে তার বুকে মাথা দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে পাখি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে।। রিয়ান তখনই সেই পুকুরের কিছুটা পাশে থাকে তার আরেকটি কেনা বাড়িতে পাখিকে কোলে করে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুয়ে দেয় এবং ডাক্তার এসে বলেন যে অত্যন্ত চিন্তা এবং কাল থেকে না খাওয়া এবং না ঘুমানোর জন্যই এরকম কিছু হয়েছে। কোন গভীর চিন্তার কারণ নেই উনাকে একটু বিশ্রাম দিলে এবং ভালোমতো খাবার খেলেই উনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। ডাক্তার মশাই চলে গেলেন রাজের কাছে লিলির ফোন আসলো, লিলি বলল যে ওখানে কি পাখি আছে? আর তখনই রাজ বলল হ্যাঁ পাখি আছে এবং পাখির কি অবস্থা এখন কি কন্ডিশন সেটাও বলল এবং লিলি ভীষণ টেনশনে পড়ে গেল লিলি তার পিসির বাড়িতেই ছিল যেটা সল্টলেকের খুব কাছেই সেই কারণে লিলি তাড়াতাড়ি সেখানে চলে আসলো এবং পাখিকে ঐভাবে শুয়ে থাকতে দেখে এসে খুব ভেঙে পড়ল রাজাকে বলল টেনশনের কোন কারণ নেই খুব গভীর কিছু হয়নি শুধুমাত্র অনিয়মের জন্য এরকম হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যাবে। আসলে লিলিরও ছোটবেলায় মা মারা গেছেন তার জন্ম দেয়ার সময়ই তার মা এই পৃথিবী থেকে চলে গেছেন তার বাবা তাকে ৭ বছরের রেখে চলে গেছেন পৃথিবী থেকে লিলির বাবা একটি ট্রাক এক্সিডেন্টে মারা গেছে। লিলির পরিবারে বলতে গেলে আর কেউ নেই সে তার পিসির বাড়িতে থাকতো কিন্তু তার পিসিতাকে অনেক অত্যাচার করত সেই জন্য অনেক সময়ই সে পাখির বাড়িতেই থাকতো পাখির মা তার কাছে তার মায়ের সমান ছিল আর পাখি তার কাছে নিজের প্রাণের থেকেও বড় কেউ ছিল সেই কারণে পাখিকে এই অবস্থায় দেখে তার ছোটবেলার ভয়ংকর স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায় আর সে খুব ভেঙ্গে পড়ে তখন রাজ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাকে শান্ত করানোর চেষ্টা করে। এইদিকে কিন্তু রাজ এবং লিলির প্রেমটাও ভালো মোর নিয়েছে।
দুদিন কেটে যায় পাখি এখন পুরোপুরি সুস্থ রিয়ান এই দুটি পাখির অনেক খেয়াল রেখেছে পাখি কলেজ থেকে রিয়ানের ফিরে আসার পরেই রিয়ানকে বলে যে দিল্লীতে তার খুব জরুরী কাজ পড়ে গেছে। তাকে যেতেই হবে তাকে এই বলে রওনা দেয় যে আমার জন্য অপেক্ষা করিস। আমি ঠিক আসবোই এইবার পাখি রিয়ানের নাম্বারটা নিয়ে আসে বাড়ি ফিরে রিয়ানের সাথে কথা হয় পাখির এইভাবে দুই বছর কেটে যায় তাদের এই সম্পর্কের কথা তাদের দুজনের পরিবারই জানতো তাদের দুজনের পরিবারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা ফিরে আসলে তাদের দুজনের বিয়ে দিয়ে দেবে। এ বিষয়টি নিয়ে তারা দুজনে খুবই খুশি ছিল। এদিকে লিলি ও রাজের প্রেমও ছয় মাস হতে গেল তারা দুজন এখন বেশ খুশি ।
                        🥀💔☁️🍂
বাস্তব যে তাদের পরীক্ষা নেওয়া এখনও বন্ধ করল না তাদের এই সুখের সময় আবার কালো মেঘে ঢেকে গেল।



এটি আমার প্রথমবার লেখা। পরের অংশ যদি জানতে চান তাহলে আমাকে জানান এটি পুরোপুরি একটি সত্য অভিজ্ঞতা আমার জীবন থেকে। এটিতে একটি শব্দ মিথ্যে নয় একটিতে যা যা আছে সবই সত্যি আমার জীবনে ঘটে যাওয়া।