I found you on the wrong path - Part 16 in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 16

Featured Books
Categories
Share

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 16

ভুল পথে পেলাম তোমাকে – 
“পূর্ণ ছায়ার প্রত্যাবর্তন — ভালোবাসার মূল্য”

ভালোবাসার একটা মূল্য থাকে।
কিন্তু কিছু ভালোবাসা আছে—
যার মূল্য শুধু কষ্ট নয়,
নিজেকে হারানোর ভয়।
রাত নামছে আবার।
এই রাত আগের রাতগুলোর মতো নয়।
এই রাত জানে—
রক্ত ঝরবে।
ইরা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে।
বাইরে আকাশ অস্বাভাবিক কালো—
তারারাও যেন লুকিয়ে পড়েছে।
মায়া পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।
তার নিঃশ্বাস ভারী।
ছায়া আজ তার শরীরের ভেতরে অস্থির।
— “তুই কি টের পাচ্ছিস?”
মায়া ফিসফিস করে বলল।
ইরা মাথা নাড়ল।
— “হ্যাঁ।
আজ অন্ধকার আসছে শুধু নিতে না…
ভেঙে দিতে।”
মায়া ইরার কাঁধে হাত রাখল।
— “আজ থেকে আর কোনো নিয়ম কাজ করবে না।”
ইরা ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
— “কারণ পূর্ণ ছায়া আসছে, তাই না?”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
— “হ্যাঁ।
আর ও এলে…
আমাকে বেছে নিতে হবে।”
ইরা কেঁপে উঠল।
— “কী বেছে নিতে হবে?”
মায়া ইরার কপালে কপাল ছুঁইয়ে বলল—
— “তোকে…
নাকি নিজেকে।”
◆ ১. পূর্ণ ছায়ার আগমন — অন্ধকারের রাজা
হঠাৎ ঘরের বাতাস জমে গেল।
সময়ের শব্দ থেমে গেল।
দেয়ালের ছায়াগুলো একসাথে নড়ল।
একটা নয়—
সব।
একটা গভীর, পুরোনো কণ্ঠ—
— “অর্ধ-ছায়া…”
মায়ার শরীর শক্ত হয়ে গেল।
— “ও এসেছে…”
ঘরের মাঝখানে অন্ধকার জমে উঠল।
সেই অন্ধকার থেকে
একটা অবয়ব বেরিয়ে এল।
মানুষের মতো—
কিন্তু মানুষের চেয়ে অনেক বড়।
চোখ দুটো গাঢ় রুপোলি,
যেন হাজার বছরের ক্লান্তি জমে আছে।
পূর্ণ ছায়া।
সে ইরার দিকে তাকাল।
— “তুমিই সেই আলো?”
ইরা ভয় না পেয়ে এক পা এগিয়ে গেল।
— “আমি ইরা।”
পূর্ণ ছায়া হালকা হাসল।
— “নাম নয়…
আমি তোর আত্মা চিনতে এসেছি।”
মায়া সামনে দাঁড়াল।
— “ওর দিকে তাকাবি না।”
পূর্ণ ছায়া এবার মায়ার দিকে তাকাল।
— “তুমি বদলে গেছ, মায়া।
ভালোবাসা তোমাকে দুর্বল করেছে।”
মায়ার চোখে আগুন।
— “ভালোবাসা আমাকে মানুষ করেছে।”
পূর্ণ ছায়া মাথা নাড়ল।
— “আর সেই মানুষ হওয়াটাই
তোমার শাস্তি।”
◆ ২. সত্যের নগ্নতা — মায়ার জন্মরহস্য
পূর্ণ ছায়া হাত তুলল।
চারপাশ আবার বদলে গেল।
ইরা নিজেকে দেখতে পেল
একটা গভীর ছায়ার রাজ্যে।
অজস্র অর্ধ-ছায়া হাঁটু গেড়ে বসে।
মাঝখানে—
একটা শিশুকে ধরে রাখা হয়েছে।
— “ওইটা… আমি?”
মায়া কাঁপা গলায় বলল।
পূর্ণ ছায়া বলল—
— “তুমি জন্মাওনি।
তুমি তৈরি হয়েছিলে।”
ইরার বুক কেঁপে উঠল।
— “মানে?!”
পূর্ণ ছায়া শান্ত স্বরে—
— “মানুষের ভয়, রক্ত আর অপরাধ
যখন একসাথে জমে…
তখন অর্ধ-ছায়া তৈরি হয়।”
মায়ার চোখ ভিজে গেল।
— “তাহলে আমার মা–বাবা…?”
— “তারা শুধু মাধ্যম ছিল,”
পূর্ণ ছায়া বলল।
“তোমার জন্ম অন্ধকারের ইচ্ছায়।”
ইরা চিৎকার করে উঠল—
— “না!
ও মানুষ!
ও অনুভব করে!”
পূর্ণ ছায়া ইরার দিকে তাকাল।
— “সেটাই সমস্যা।”
◆ ৩. মূল্য — ভয়ংকর শর্ত
পূর্ণ ছায়া ধীরে বলল—
— “এই যুদ্ধ থামাতে চাইলে
একটা মূল্য দিতে হবে।”
মায়া শক্ত গলায়—
— “আমি সব দেব।”
পূর্ণ ছায়া ইরার দিকে তাকাল।
— “তাকে না।”
নীরবতা।
ইরা বুঝে গেল।
— “তুমি আমাকে চাইছ।”
পূর্ণ ছায়া মাথা নাড়ল।
— “না।
আমি চাই তোমার আলো নিভে যাক।”
মায়া চিৎকার করল—
— “অসম্ভব!”
পূর্ণ ছায়া ঠান্ডা স্বরে—
— “তাহলে মায়াকে ফিরিয়ে নেব।
ও আর মানুষ থাকবে না।”
ইরার চোখে জল জমল।
মায়া ফিসফিস করে—
— “ইরা…
দয়া করে…”
ইরা তার হাত ধরল।
— “চুপ করো।”
সে পূর্ণ ছায়ার দিকে তাকাল।
— “কী করতে হবে?”
— “ভালোবাসা ত্যাগ করতে হবে,”
পূর্ণ ছায়া বলল।
“তুমি মায়াকে ভুলে যাবে।
মায়া তোমাকে চিনবে না।”
মায়ার শ্বাস আটকে গেল।
— “না…
ইরা না…”
ইরার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
— “ভালোবাসার মূল্য যদি এটাই হয়…”
সে মায়ার কপালে ঠোঁট রাখল।
— “আমি দেব।”
◆ ৪. বিদায় — সবচেয়ে নিষ্ঠুর মুহূর্ত
পূর্ণ ছায়া হাত তুলল।
ইরার শরীর ঘিরে সাদা আলো জ্বলে উঠল।
মায়া চিৎকার করে ঝাঁপিয়ে পড়ল—
— “থামো!!!”
কিন্তু ছায়ারা তাকে ধরে ফেলল।
ইরা শেষবার মায়ার দিকে তাকাল।
— “আমাকে মনে রাখার চেষ্টা কোরো না।”
মায়া কাঁদছে।
— “তুই আমার সবকিছু…”
ইরা হালকা হাসল।
— “তাই তো পারছি।”
আলো বিস্ফোরিত হলো।
সব নিস্তব্ধ।
◆ ৫. শূন্যতা — ভালোবাসা ছাড়া মায়া
সকাল।
মায়া একা দাঁড়িয়ে।
ইরার কোনো চিহ্ন নেই।
ঘর ঠিক আগের মতো।
কিন্তু ফাঁকা।
মায়া নিজের বুক চেপে ধরল।
— “কেন এত ফাঁকা লাগছে…?”
সে জানে না কেন,
কিন্তু চোখ ভিজে যাচ্ছে।
পূর্ণ ছায়ার কণ্ঠ দূর থেকে—
— “চুক্তি সম্পন্ন।”
মায়া ফিসফিস করল—
— “আমি কি জিতেছি?”
পূর্ণ ছায়া উত্তর দিল না।
◆ ৬. ইরার ভেতরের যুদ্ধ — আলো নিভে যায়নি
অন্যদিকে—
একটা সাদা শূন্যতায় ইরা দাঁড়িয়ে।
কিছু মনে নেই।
কিন্তু বুকের ভেতর ব্যথা।
— “আমি কাঁদছি কেন…?”
সে নিজেকে জিজ্ঞেস করল।
তার হাতে একটা অদৃশ্য উষ্ণতা।
একটা কণ্ঠ ভেতর থেকে—
— “ভালোবাসা ভুলে যাওয়া যায় না।
শুধু ঘুমিয়ে থাকে।”
ইরার চোখে আলো জ্বলে উঠল।
— “মায়া…?”
◆ ৭. শেষ ইঙ্গিত — যুদ্ধ শেষ নয়
মায়া হঠাৎ থেমে গেল।
তার ভেতরে কিছু নড়ল।
একটা নাম
ঠোঁটে এসে আটকে গেল।
— “ই…”
সে মাথা চেপে ধরল।
— “এই নামটা…
এত ব্যথা দেয় কেন?”
দূরে কোথাও
আলো আবার কাঁপল।
পূর্ণ ছায়া ফিসফিস করল—
— “না…
এটা অসম্ভব…”