Jharapata 59 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 59

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 59

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৫৯

🌹🌿🌹🌿🌹🌿🌹

পরদিন, এ বাড়ির চারজনই গিয়ে হাজির। অমর ছুটি করতে পারেনি, তবে অঙ্কুর আর দীপা এসেছে। সবাই আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করে এদের। বিয়ের দিন থেকে একদিকে যত সমস্যা আর ভুল বোঝাবুঝির পাহাড় জমছিল, অন্যদিকে সেগুলো মেটানোর চেষ্টা আজ সফল হয়েছে। উভয়পক্ষই খুশি। প্রথমে একচোট চা, মিষ্টি, কাটলেট, গল্প, আড্ডা। 

তার মাঝখানে বসে রনি আর মিলি আড়চোখে এ ওকে দেখে যাচ্ছে। মিলি আজ স্নান করে একটা হলুদ তাঁতের শাড়ি পরেছে। খোলা চুল, সিঁদুর, শাঁখা চুড়ি পরে একেবারে নতুন বউ। রনির মনে পড়ছে, বউভাতের অনুষ্ঠানে সেদিন সকালের মতোই লাগছে মিলিকে। বা তার চেয়েও স্নিগ্ধ। সেদিন আরেকটু ভারী গয়নাগাটি, দামী শাড়ি আর মেকআপ করিয়েছিল ওর বোনেরা। আজ মনে হচ্ছে এতদিনের তপস্যার পর সেই নকল আভরণের ঢাকা সরিয়ে ওর সামনে এল মিলি। মিলিরও রনিকে দেখে মনে হচ্ছে, এত তৃপ্ত, এত নিশ্চিন্ত আগে কখনও দেখেনি। 

সকলেরই চোখে পড়ছিল দুজনের চোখাচোখি। হাসি চেপে মণিকাই কথা তোলে, "দাদা, সব যখন ঠিক হয়ে গেছে, এবার মিলিকে বাড়ি নিয়ে যাই।"

মিলির মুখের দিকে তাকাল সমর, লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে। হাসিমুখে রনির দিকে তাকিয়ে মণিকার উদ্দেশ্যে বলল, "তা রনি যদি বলে......"

কথা শেষ করার আগেই রনি ঝাঁপিয়ে পড়ল, "আমার অন্যায় হয়েছিল কাকু।"

- "আরে না না, ওসব কথা বলিনি। আমি বলছিলাম, তুমি যদি বলো, তাহলে ঐ মিলির মা বলছিল, একদিন একটু অনুষ্ঠান করে, বেশি লোকজন না, এই আত্মীয় বন্ধুরা। আসলে বিয়ের পর নতুন জামাই এলে তো সবাইকে নিমন্ত্রণ করার নিয়ম। তেমন করেই দ্বিরাগমন সেরে মেয়ে যেত আরকি। তবে কোনো জোরাজুরি নেই। তোমার অপছন্দ হলে থাক।"

রনিকে তখন একপায়ে কান ধরে দাঁড়াতে হবে বললেও রাজি, ঢক করে ঘাড় নেড়ে দিল, "হ্যাঁ হ্যাঁ কাকু। আপনারা যা ভালো বোঝেন। আমার আবার কি অপছন্দ হবে।"

- "হ্যাঁ কাকু, যা যা নিয়ম বাকি আছে, সব করে নিতে হবে। আমরাও কিছু লোকজন বলব। আমরা তাহলে রাতের দিকে বলি? ওদের ফুলশয্যার অনুষ্ঠানও করতে হবে তো।" পিউ উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছে। 

রনির কান লাল হয়ে গেছে। মিলির দিকে তাকাতেই পারে না, বৌদিটা যে কি না ! এটা সবার মাঝখানে বলার কথা ! এখন যত লোককে নিমন্ত্রণ করবে, সবার বাড়ি বাড়ি বলে আসবে ! মাইক নিয়ে পাড়ায় বলতে বেরোবে, ফুলশয্যার ভয়ে ও পালিয়ে গেছিল, এখন বিয়ের দশ মাস পরে ওর ফুলশয্যা হচ্ছে, আপনারা সবাই আসবেন। সোফার তলায় ঢোকা গেলে রনি তাই করত। 

মিলিরও ওদিকে একই মনের ভাব। পিউবৌদি আরও কি কি করবে কে জানে ! মিলির যে এখন লোক জানিয়ে ও বাড়িতে ফিরতেই কি লজ্জা করছে, সেটা ভাবছে না, বরং নিমন্ত্রণ, অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ে আছে। 

মণিকাই রনির হয়ে বলে দেয়, "ছাড়ুন তো ওর মত। আমরা বড়রা যা বলব, তাই হবে। আপনি যেমন অনুষ্ঠান করতে চান, যাদের যাদের বলতে চান, বলবেন। আপনাদের একটা শখ আহ্লাদ নেই?"

গোপা হাসিমুখে বলে, "মণিকাদি, তাহলে একটা দিন দেখি? ঠাকুর মশাইয়ের সঙ্গে কি তুমি কথা বলবে?"

- "একবার বলেছি গো। এই পৌষমাস শেষ হতে হতে মিলির পরীক্ষা হয়ে যাবে। হ্যাঁ রে মিলি, তোর কত তারিখ অবধি পরীক্ষা?"

মিলি আর রনি শান্তিতে এ ওকে ইশারা করে যাচ্ছিল। বনি, পিউ আর অঙ্কুর সেটাই মন দিয়ে দেখে মিটিমিটি হাসছিল। এখন পাঁচজনেই চমকে উঠল। 

পরিস্থিতি কিছুটা বুঝে বনি বলল, "কি বলছ মা? খেয়াল করিনি।"

মণিকা আবার বলে। এবার মিলি সব শুনেছে। ও নিজেই বলে, "একুশ তারিখ পরীক্ষা শেষ।"

- "হ্যাঁ রনি বলেছিল বটে, তোর একুশ তারিখ পরীক্ষা শেষ হবে।" পাশে বসা মিলির মাথায় আদরের হাত রেখে মণিকা গোপার দিকে ফেরে, "একুশের পর তিরিশ তারিখ একটা ভালো দিন আছে। তাহলে ঐদিনই সব হোক, কি গো?"

গোপার আগে সমর বলে, "বা বা বা, আপনি একদম কাজ গুছিয়ে রেখেছেন। এই দিনটাই ভালো। মিলির পরীক্ষাও হয়ে যাবে, একমাস সময়ও রইল ব্যবস্থা করার।"

সবাই খুশি খুশি রাজি হয়ে গেছিল। শুধু রনির মনে হচ্ছিল, ওর যদি মিলির জন্য এতদিন অপেক্ষা করতে হয়, ও আর বাঁচবে না। চকিতে একবার মিলির মুখের দিকে তাকিয়েছিল, একই কথা লেখা ছিল ওর মুখেও। 

তার মধ্যেই পিউ বলে উঠল, "ইয়েয়েয়ে, তাহলে সব ঠিকঠাক ! আমরা সেলিব্রেট করব না কাকাবাবু?"

- "করবে বৈকি মা। কি রকম সেলিব্রেশন চাই বলো।"

- "আমরা একটু ঘুরে আসি? আজ থার্টি ফার্স্ট নাইট। রাস্তায় রাস্তায় আলো, লোকজন। আমরাও একটু বেড়িয়ে আসি? মিলিকে নিয়ে যাই?"

কি আর বলবে? বড়রা তিনজনই রাজি। পিউ আর বনি তক্ষুণি বেরিয়ে পড়ে। রাস্তায় এসে অঙ্কুরকে মজা করে বনি বলে, "ভাই অঙ্কুর তুই আশা করি কাবাব মে হাড্ডি হবি না? গার্লফ্রেন্ড আছে?"

লজ্জায় অঙ্কুর পালিয়ে বাঁচে। পিউ চোখ পাকিয়েছিল, "তুমি না ওর বয়সী ছেলেদের কলেজে পড়াও?"

- "তাই আরও বেশি করে জানি, ব্যাটা কি খুশিই হয়েছে দুই মাস্টারের মাঝখান থেকে পালাতে পেরে। হ্যাঁরে মিলি, এটা প্রেম ট্রেম করে?"

- "না না, ভাইয়া ওরকম না।"

- "বুঝেছি। তোর ভাইয়া তোর মতো ঢ্যাঁড়শ, আমার মতো স্মার্ট না। আবার কি হল? হাঁ করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছিস কেন? তোরা দুটো কেটে পড়। যেখানে ইচ্ছে ঘুরে আয়। তবে বেশি রাত করিস না। বাড়িতে যেন আমাদের প্রেস্টিজটা থাকে।"

বনির কথায় দুই মূর্তিমান মিষ্টি হাসি দিয়ে কেটে পড়ে। 

চলবে