In The Dark Of Illusion - 7 in Bengali Horror Stories by Utopian Mirror books and stories PDF | অবচেতনার অন্ধকারে - 7

Featured Books
  • दूध का क़र्ज़ - 3

      भाग - 3     दूध का क़र्ज़  नोट - अभी तक आपने पढ़ा कि तनूजा  अ...

  • इश्क दा मारा - 79

    यश यूवी को सब कुछ बता देता है और सब कुछ सुन कर यूवी को बहुत...

  • HOW TO DEAL WITH PEOPLE

                 WRITERS=SAIF ANSARI किसी से डील करने का मतल...

  • Kurbaan Hua - Chapter 13

    रहस्यमयी गुमशुदगीरात का समय था। चारों ओर चमकती रंगीन रोशनी औ...

  • AI का खेल... - 2

    लैब के अंदर हल्की-हल्की रोशनी झपक रही थी। कंप्यूटर स्क्रीन प...

Categories
Share

অবচেতনার অন্ধকারে - 7

এ কোন মায়া ? যা মানুষকে পঙ্গু করে তোলে ? এ কোন শক্তি ? যে অমানুষকে বোবা করে দেয় ? এ কোন ছলনা ? যা মানুষকে মধ্যে রাতে হাতছানি দিয়ে ডেকে আনে সমাধি ক্ষেত্রে বিরাজিত নিস্তব্ধতার মধ্যে?

হয় তো বা শোনাতে চায়, বলতে চায় সেই চির অজানা কথা। দেখো লুসি, একদিন তোমাকেও এমনভাবে শুয়ে থাকতে হবে ধরিত্রী মাতার গহ্বর। দিনে দিনে, শরতে, শীতে, বসন্তে তোমার দেহে ধরবে পচন, তুমি পরিণত হবে বীভৎস বিকৃত কঙ্কালে। তারপর কালের নিয়মে সেই হাড়ের কাঠামোতে একদিন ধরবে ভাঙ্গন, অস্থি মজ্জা রক্ত বিহীন শুকনো কঙ্কালের বুকে ভীষণ দাঁত বসাবে মহাকাল।

তারপর ঝুর ঝুর করে ভেঙে গুঁড়িয়ে টুকরো টুকরো হয় যাবে তোমার অহংকারের, ঘৃণার অথবা ভালোবাসার এই শরীর।

লুসি অনেক্ষন নিশ্চল হয় দাঁড়িয়ে ছিল। চেতনা ফিরতে তার মনে হলো এখনো এখানে অনেক কাজ বাকি। লুইজা তাকে ডাকছে।

কিন্তু তার আগে .................।

..............আমার দিকে চেয়ে দেখ লুস। মাত্র সাত দিন আগে আমি ছিলাম এই শহরের শ্রেষ্ঠতমা সুন্দরী। আমার হাসিতে মুক্ত ঝরে পড়তো, লোকে বলতো আমি নাকি যৌবন নামক দুরন্ত পাখিটিকে বন্দি করেছি আমার দেহের সোনার খাঁচাতে।

লুসি তাকিয়ে দেখলো, বিস্মিত হল। এই অন্ধকারে, নিঝুম রাতে, প্রচন্ড শীতের মধ্যে, তুষারের ধারাবাহিক বর্ষণে তার বিস্ফারিত চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে যে নারী মূর্তি, অলৌকিক জ্যোৎস্নায় স্নাতা, সে কি এই নগরের শ্রেষ্ঠা রূপসী?

রূপ সম্পর্কে কোনো উপলব্ধি নেই লুসির, আজ অবধি কোনোদিন আয়নার সামনে ধরে নি স্পুটনোন্মুখ দেহটি, দেখেনি কেমন করে প্রাকৃতিক নিয়মে সেদিনের শীর্ণ বালিকার দেহে যৌবনের প্রলেপ পড়েছে।

তবু সে স্বীকার করতে বাধ্য হলো যে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই রমণী সৌন্দর্যের এক প্রতিচ্ছবি? কিন্তু এখানে কেন? এই অন্ধকারে? মৃত্যুর নীরবতায়?

-----আমার দিকে তাকাও, ভালো করে দেখো, দেখতে কি পাও রঞ্জিত চোখের নিচে জমে আছে শতাব্দী বাহিত কালিমা? শুনতে কি পাও আমার উদ্ধত বুকের আড়ালে ধ্বনিত অপমানিত আত্মার ক্রন্দন? তাই আমি স্বেচ্ছায় বিদায় নিয়েছি তোমাদের হিংসার পৃথিবী থেকে।

.......এ পৃথিবী আমার ভালো লাগে না, যেখানে পুরুষের লোভী চোখ রূপের হাটে শরীরের ব্যবসা করে, যেখানে জন্মই হলো নির্যাতন। তাই গত পরশু রাতে আমার একুশ তলা এপার্টমেন্টের ব্যালকনি থেকে আমি লাফ দিয়েছিলাম শুন্যে। কেন যেন? একটু শান্তির জন্যে। আমার তন্নী দেহটা জানুয়ারির হিম বাতাসের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে আছড়ে পড়ল শহরের ইস্পাত কঠিন রাজপথে।

........লোকে বলতো এমিলি নাকি রূপ চর্চার শেষ অধ্যায়। সেই এমিলি পরিণত হলো এক তাল রক্তাত্ত মাংস পিন্ডে। মর্গে ডক্টর ডিসেকটিং টেবিলে আমার তালগোল পাকানো দেহটি নিয়ে খুব সমস্যায় পরে যায়। কেননা আমাকে তখন নাকি মানুষ বলে চেনা যাচ্ছিলো না, মনে হচ্ছিলো এক বিদঘুটে প্রাণী।

......ওরা বৃথাই আমাকে সিজার্স আর ফোরসেপের আক্রমণে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করলো, সন্তর্পনে খুঁজলো পাপের চিহ্ন। তোমাদের সমাজ মৃত মানুষকেও আইনের মারপ্যাঁচ থেকে মুক্তি দেয় না। যখন আমার স্ত্রী অঙ্গে ফোরসেপ চালিয়ে ওরা শুনতে পেলো না মৃত ভ্রূণের কান্না তখন নেহাত অবহেলায় আমাকে পাঠিয়ে দিলো এই কবরে।

ভাবতে কত অবাক লাগে। ঠিক দু দিন আগে এই মুহূর্তে শহরের নন্দিনীদের মধ্যে সবচেয়ে অহংকারী এমিলি হোটেল মিক্যাডোতে তার অসংখ পুরুষ বন্ধুদের ঘনিষ্ট সাহচর্যে মত্ত ছিল বুরবনের নেশাতে। আর তার স্লীভলেস আঁটোসাঁটো স্কার্টের অন্তরাল থেকে উপচে পড়া দেহের সুষমা হাজার হাজার লোভী চোখকে করছিলো কাতর। আগুন রঙা পাতলা দুটি ঠোঁটে ভ্রমরের মতো উড়ছিল কামুক পুরুষদের মদ্য পুরু ঠোঁট।

কিন্তু আজ, এই এমিলি শায়িত আছে অনন্ত নীরবতার মধ্যে। আমি জানি আজও প্রতিরাতের মতো হোটেল মিক্যাডোতে জমে উঠেছে অর্ধ নগ্ন নৃত্যের আসর। এবং হাজার হাজার মানুষ একটি রাতের উষ্ণতার জন্যে ভিড় করেছে সেখানে। এমিলির অবর্তমানে তারা কেউ মুহূর্তের জন্যে নীরব হচ্ছে না।

এই হলো জীবন, লুসি, এর নাম যৌবন যন্ত্রনা।

তখন নিঝুম রাতে ঝুরুঝুরু তুষার যেন ককিয়ে ওঠে। এই বিস্তীর্ণ কবর ক্ষেত্রের মাথায় ঘন কালো আকাশে তাকিয়ে আছে অসংখ্য তারা। যতক্ষণ এমিলি কথা বলছে ততক্ষন তার দিক থেকে দৃষ্টি সরাতে পারে নি লুসি। ওই দুটি চোখ যেন কি এক অজানা আকর্ষণে তার সমস্ত সত্তাকে আঁকড়ে রেখেছিলো।

কিন্তু এখন কথা ফুরিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে লুসির বোধশক্তি ফিরতে থাকে। আর আত্মার মধ্যে তিন বছরের ফুটফুটে মেয়ে লুইজার ক্রন্দন অথবা হাহাকার অথবা অভিশাপের গুমরে কাঁপা ধ্বনি প্রবল হয় ওঠে।

আর এমিলি? রাত কালো ম্যাক্সি পরিহিতা ওই যৌবনা মেয়েটি এখন অদৃশ্য হয়ে গেছে তার চোখের সামনে থেকে। কালো ম্যাক্সি শুন্যে দাঁড়িয়ে আছে। লুসি চোখ বড় বড় করে তাকালো। এইবার তার সেই ঘুমন্ত ভয়ের ঘুম ভাঙছে।

শঙ্কা শিহরণের বোধ তাকে যেন আপ্লুত করে দেবে।

চোখের সামনে যে অদ্ভুত নাটক অভিনীত হচ্ছে, তার একমাত্র দর্শক লুসি এবার প্রাণ ভয়ে ছুটতে শুরু করবে।

কিন্ত কোথায় যাবে সে? দু মাথাওয়ালা জেনামের মতো তাকিয়ে আছে ফেলে আসা অতীত আর অনাগত ভবিষ্যতের দিকে।

কোথাও এক বিন্দু আলো নেই। নেই বাঁচবার সামান্যতম প্রয়াস। যে দিনগুলো সে ফেলে এসেছে, তার চোদ্দ বছরের ক্লান্তিকর দিন যাপন, সেখানে সে পেয়েছে প্রিয়জনের ষড়যন্ত্র আর সমাজের অত্যাচার।

সামনে আছে যে দিনগুলো, তারা কি তার জন্যে জমা রাখে নি আরো বেশি অবিশ্বাস?

কিন্তু কোথায় পালাবে লুসি? প্রবল কুয়াশা আর তুষারপাতের ঘন আচ্ছাদন তার দিকে এগিয়ে আসছে হিংস্র শাপদের মতো। লোভে জিভ লকলক করে, চোখের কোণে চিক চিক করে আকাঙ্খা।

আর এমিলি? চোখের সামনে ভেসে উঠেছে একুশ তলা বাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়া অভিশপ্ত আত্মার তালগোল পাকানো রক্তাত্ত দৃশ্য।